আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



হোটেলে ‘ধর্ষণের শিকার’ দুই ছাত্রীর নমুনা সংগ্রহ

Published on 07 May 2017 | 8: 15 pm

মামলা দায়েরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। ওই দুই ছাত্রীর অভিযোগ, তাঁরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পুলিশ জানায় ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদকে (২৬)।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই ছাত্রীর নমুন সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদন পেতে প্রায় দুই সপ্তাহ লাগবে বলেও জানানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার বনানী থানায় ওই দুই ছাত্রী ধর্ষণের মামলাটি করেন। ওই মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

অন্য আসামিরা হলেন, নাঈম আশরাফ (৩০), সাদমান সাকিফ (২৪), বিল্লাল (২৬)। অন্য একজনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর মধ্যে নাঈম ও সাদমান হচ্ছে সাফাতের বন্ধু। বিল্লাল সাফাতের গাড়িচালক।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বনানীর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন বলেন, ‘গত শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।’ তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলছে।

ওই দুই ছাত্রীর অভিযোগ, গত ২৮ মার্চ আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের জন্মদিনের দাওয়াত পেয়ে তাঁরা রাজধানীর একটি হোটেলে যান। সেখানেই তাঁরা ধর্ষণের শিকার হন।

এদিকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে দুই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ জানান, তাঁদের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ বোর্ডের প্রধান তিনি নিজেই। বাকিরা হলেন কবির সোহেল, মমতাজ আরা, নিলুফার ইয়াসমিন ও কবিতা সাহা।

সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘যেহেতু ওই দুই তরুণী বলছেন ধর্ষণের ঘটনাটি প্রায় দেড় মাস আগের, এ কারণে আদৌ কোনো আলামত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমরা উভয়ের মাইক্রোবায়োলজি, রেডিওলজি ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছি।’

দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ : ২৯ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর বনানী থানায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ২৯ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম সুব্রত ঘোষ এই দিন নির্ধারণ করেন।

ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে শাফায়াত নামের একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের পুরোনো এক বন্ধু। পরিচয়ের সপ্তাহ দুয়েক পর গত ২৮ মার্চ দুই ছাত্রীকে জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত করেন শাফায়াত। অনেক অনুরোধের পর তাঁরা ওই পার্টিতে যান। পার্টি ছিল বনানীর একটি চার তারকা হোটেল ও রেস্তোরাঁয়।

ওই পার্টিতে ওই দুই শিক্ষার্থীর পুরোনো বন্ধুও ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তাঁদের ফেলে ওই বন্ধু চলে যান। সে সময় শাফায়াত ও তাঁর সহযোগীরা হোটেলের দুটি কক্ষে দুই ছাত্রীকে আটকে ফেলেন। পরে শাফায়াত ও তাঁর এক বন্ধু ওই দুজনকে ধর্ষণ করেন।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন শাফায়াতের গাড়িচালক। ঘটনার পর দীর্ঘদিন মামলা করেননি দুই ছাত্রী।

এ বিষয়ে গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বনানী থানায় ধর্ষণের মামলা করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় শাফায়াত আহমেদকে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিব, শাফায়াতের গাড়িচালক বিল্লাল ও অজ্ঞাতনামা এক দেহরক্ষী।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন