আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



কৃত্রিমভাবে ডলারের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা

Published on 27 April 2017 | 2: 15 am

সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বাড়ায় বেশ কিছুদিন ধরে টাকার বিপরীতে বাড়ছে ডলারের দাম। তবে কয়েক দিনে হঠাৎ করে প্রতি ডলারে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলারের বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যাংক কৃত্রিমভাবে ডলারের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক ডলারের গড় দরের সঙ্গে আমদানিতে ২ টাকার বেশি না নিতে গোপনে ব্যাংকগুলোকে একটি মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

আমদানির তুলনায় রফতানিতে কম প্রবৃদ্ধি ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রবাহের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম সামান্য বাড়ছে। তবে রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়ায় সম্প্রতি হঠাৎ করে বেড়ে ডলারের দাম উঠেছে ৮৫ টাকায়। গতকাল বুধবার আমদানি দায় মেটাতে কিছু ব্যাংকে প্রতি ডলারের বিপরীতে প্রায় ৮৫ টাকা দিতে হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংকে আমদানি দায় মেটাতে পরিশোধ করতে হয়েছে ৮২ টাকা ৬০ পয়সা। অগ্রণীতে পরিশোধ করতে হয়েছে ৮২ টাকা ৫০ পয়সা। আমদানি পর্যায়ে এভাবে ডলারের দাম বাড়লেও রফতানি ও রেমিট্যান্স বেড়েছে কম হারে। এতে করে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দর বৃদ্ধির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবগত। চাহিদার কারণে স্বাভাবিকভাবে দর বাড়লে তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করার নেই। তবে চাহিদাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যাংক কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমদানির কারণে বাড়তি চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে। এরই মধ্যে বাজারে কিছু ডলার বিক্রি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বিক্রি করা হবে।

উন্মুক্ত বিনিময়হার ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বা কোনো বৈদেশিক মুদ্রার দাম ঠিক করে দিতে পারে না। ডলারের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক মাঝেমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে নৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। একে এক ধরনের হস্তক্ষেপ বলা হয়। এরকম পদক্ষেপ হিসেবে মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের ডলারের দামের সঙ্গে কোনো ব্যাংক আমদানি পর্যায়ে যেন ২ টাকার বেশি না নেয়, সে বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো ৯১৯ কোটি ডলার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম। একই সময়ে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অথচ গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশের বেশি। রমজান সামনে রেখে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানিতে প্রচুর ডলার খরচ হয়েছে। এসব কারণে হঠাৎ করে ডলারের দাম বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে গতকাল বুধবার প্রতি ডলার ৮০ টাকা ৩ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকেও দর ছিল ৭৯ টাকা ৬৮ পয়সা। আর আগের মাসের একই দিন আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৭৯ টাকা ৩০ পয়সায়। মূলত গত ৯ জানুয়ারির পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই দু-এক পয়সা করে ডলারের দাম বাড়ছে। ওইদিন আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার ৭৮ টাকা ৭০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছিল।

জানতে চাইলে বাফেদার চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মেঘনা ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ নূরুল আমিন  বলেন, চলতি বছর এমনিতেই রফতানির তুলনায় আমদানি প্রবৃদ্ধি বেশি রয়েছে। আর প্রবাসী রেমিট্যান্স আগের চেয়ে অনেক কমেছে। আগে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া বিদেশি ঋণ পরিশোধও কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি চাহিদা অনেক বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এতে করে ডলারের দাম বাড়ছে। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার ব্যাংকার্স সভার পর বাফেদার বৈঠক ডাকা হয়েছে। ব্যাংকার্স সভা থেকে বিশেষ কোনো নির্দেশনা পেলে ওই বৈঠকে আলোচনা করা হবে। জানা গেছে, বাজার স্বাভাবিক রাখতে গত সোমবার রূপালী ব্যাংকের কাছে দেড় কোটি এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কাছে ৬০ লাখ ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন