আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আবারও একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা মহিউদ্দিন-নাছিরের

Published on 18 April 2017 | 4: 05 am

তীব্র বাকযুদ্ধ, একে অপরকে খুনি-দখলবাজ-পাগল বলার পর আবারও একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছিল দু’জনের এই বাকযুদ্ধ।

সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় ‘ঐক্যে’র ঘোষণা দেন দু’জন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যের পর মহিউদ্দিন চৌধুরী পাশে দাঁড়ানো আ জ ম নাছিরের হাত তুলে ধরে বলেন, ‘আগামীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব চট্টগ্রামের উন্নয়নে।’

দুই নেতার ‘ঐক্যের’ ঘোষণায় স্বসি্ত নেমে এসেছে তাদের অনুসারীদের মধ্যে, উল্লসিত দেখা গেছে তাদের। তবে মারমুখী অবস্থান থেকে একমঞ্চে উঠে হাতে হাত ধরে উন্নয়নের ঘোষণা দেয়ার নেপথ্যে দলের কেন্দ্র থেকে কড়া সতর্কতা বার্তা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

দুই নেতার দ্বন্দ্ব যাতে সংঘাত-সংঘর্ষে না গড়ায় সে জন্য নগর আওয়ামী লীগের দু’পক্ষই গত কয়েকদিনে একাধিক বৈঠক করে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন নেতাদের সমাবেশে আসতেও নিষেধ করা হয়।

তাছাড়া রোববার চট্টগ্রামের ৮ বিশিষ্ট নাগরিকও এই দুই নেতাকে বিতর্কিত ভূমিকা থেকে সরে এসে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছিরের বিরোধ দীর্ঘদিনের। বারবার তারা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন, পরে দলীয় বা বিভিন্ন উদ্যোগে তা নিরসনের চষ্টো চলে।

সর্বশেষ গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসভবনে দুই নেতাকে দুই পাশে নিয়ে বসেন। বিরোধ ভুলে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন।

সোমবার বিকাল ৫টায় মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা শুরু হয়। পৌনে ৫চটার দিকে মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং এর ১০ মিনিট পর মঞ্চে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পেছনে এসে চুপিসারে দাঁড়িয়ে যান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ সময় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দিচ্ছিলেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। মহিউদ্দিন চৌধুরী তাদের থামানোর চেষ্টা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন কারণে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতে পারে, তার অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ। আপনারা যদি আমাকে পিছু হঠান এমনিই হঠতে পারি। তাই বলে যুদ্ধ নয়। অনেকে যুদ্ধ মনে করে। অনেকে আবার বিভিন্নভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে খাদ তৈরি করার চেষ্টা করছে। এটা ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। প্রতিহিংসা নয়। বক্তব্যে অনেক কথা বলেছি। আর নয়। কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদের কোনো নির্বাচন নেই। জাতীয় নির্বাচন আসবে। প্রতিপক্ষ টাকা খরচ করবে। দেখা যায়, নিজে করে আওয়ামী লীগ। সন্তান করে বিএনপি। তাই করে আগে নিজের ঘর ঠিক করতে হবে।

পাঁচ হাজার লাঠি বানানো প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, লাঠি বানিয়েছি সাহসের জন্য। মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি, আমি তাকে (আ জ ম নাছির) সার্বিক সহযোগিতা করব।

মাদক ব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শোনা যায় অনেক পুলিশ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরে ছেড়ে দেয়। এটা ঠিক নয়। সাংবাদিক ভাইয়েরা, আমরা ভুল করতে পারি। আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে না দিয়ে আপনারা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে যান।

বক্তব্যের শেষে মহিউদ্দিন চৌধুরী আ জ ম নাছিরকে ডেকে কোলাকুলি করেন। বলেন, আইও নাছির ভাই (আসেন নাছির ভাই)। এরপর নাছিরের হাত টেনে ওপরে তুলে ধরেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। বলেন, আগামীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব চট্টগ্রামের উন্নয়নে।

এসময় আ জ ম নাছির তার স্বভাবজাত মুচকি হাসি দেন। এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তুমুল করতালি দেন।

এরপর আ জ ম নাছির বলেন, যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল, তারাই দেশে বারবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।

তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগকে নিয়ে, বাঙালিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। আজকে উগ্র ছাত্র শক্তিকে সাহস দেয়া হচ্ছে। জঙ্গিবাদকে লালন-পালন করা হচ্ছে।

আ জ ম নাছির বলেন, আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে, যাতে জঙ্গিবাদ কখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

আগামী ২৯ মে আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশ উপলক্ষে দ্রুত ওয়ার্কিং কমিটির সভা ডাকার জন্য মঞ্চে মহিউদ্দিন চৌধুরী আ জ ম নাছিরকে পরামর্শ দেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন