আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



রাষ্ট্রপতির শিক্ষক ছিলেন সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছ

Published on 09 March 2017 | 7: 53 pm

:: এস এম জাকিরুল আলম মেহেদী :: সাগর কন্যা সন্দ্বীপের এক উজ্জল নক্ষত্রের নাম অধ্যক্ষ গাজী আবুল কালাম ইলিয়াছ। যুগে যুগে বহু দ্বীপ রত্নের ভীড়ে তেমন উজ্জলতা প্রকাশ করতে পারেনি বাংলা ও ইংরেজী সাহিত্যের সম সাময়িক যুগের কিংবদন্তী অধ্যক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছ।

গাজী আবুল কালাম ইলিয়াছ সন্দ্বীপের বিখ্যাত জমিদার পরিবার ‘বাটাজোড়া মিয়া (হাজী ওয়াসিল মালাদার) বাড়ী’তে ১৯৩৭ সালে জন্ম গ্রহন করেন। ওনার পিতার নাম মৌলভী সুফী খুরশিদ আলম মিয়া। খুরশিদ আলম মিয়া তৎকালীন যুগে বাংলা, আরবী, উর্দু, ফারসি ভাষার পন্ডিত ছিলেন।

অধ্যক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছের শিক্ষা জীবন শুরু হয় বড় ভাই মাস্টার বজলুল হক মিয়ার হাত ধরে। প্রথমে বাটাজোড়া এম ই জুনিয়ার স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেনী পাশ করে সন্দ্বীপ মডেল হাই স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে সন্দ্বীপ হাই স্কুল থেকে এস এস সি, ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ এস সি , ১৯৫৯সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ অর্নাস ও মাস্টার্স পাশ করেন । ১৯৬০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে ও মাস্টার্স পাশ করেন।

অধ্যক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছের কর্ম জীবন ছিল এক বৈচিত্রময়। শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করলেন জীবন সংগ্রাম।

প্রথমে সন্দ্বীপ হাই স্কুলে কিছু দিন শিক্ষকতা করার পর যোগ দিলেন নোয়াখালী জিলা স্কুলে। নোয়াখালীতে কিছু দিন থাকার পর বন্ধুদের সাথে চলে গেলেন ব্রাম্মনবাড়িয়া, সেখানে কয়েকটা হাই স্কুল ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের গুরু দয়াল কলেজে বাংলার অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন।

গুরু দয়াল কলেজে অধ্যাপনা করা কালীন বর্তমান মহামান্য রাস্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ গুরু দয়াল কলেজের ছাত্র ছিলেন ও ওনার কাছ থেকে সরাসরি শিক্ষা গ্রহন করেন। গুরু দয়াল কলেজ জাতীয় করন হলে আবুল কালাম ইলিয়াছ নরসিংদী সরকারী কলেজ, ব্রাম্মন বাড়িয়া সরকারী কলেজে বদলী হয়ে সরকারী কলেজের অধ্যাপনা হতে ইতি টানেন।

দক্ষিন সন্দীপ কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি অধ্যক্ষ পদে আবেদন করেন ও নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ২০০১ সালে শিক্ষামন্ত্রনালয় কতৃক ইলিয়াছ শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ও অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।

আবুল কালাম ইলিয়াছ বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য ও ১৯৭৭ -৮০ সাল পর্যন্ত রিসার্চফেলো ছিলেন। ১৯৭০ সালে বিবিসি লন্ডনে সেক্সপিয়রের উপর প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। অধ্যক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছ ছিলেন একজন নজরুল গবেষক। তিনি ব্যাক্তি জিবনে নজরুলের অনুসারী হওয়ায় নজরুল জয়ন্তী সহ সব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হতেন। নজরুল পরিবারের প্রত্যেকের সাথে তার ঘনিষ্টতা ছিল।

সাহিত্য, কবিতা রচনা, সাংবাদিকতা ছিল আবুল কালাম ইলিয়াছের নিত্য দিনের কাজ। ঢাকার দৈনিক আজাদ ও দি বাংলাদেশ অবজারবারের নিয়মিত কলাম লেখক ছিলেন। আবুল কালাম ইলিয়াছের অনেক সাহিত্য ও কবিতার বই বাংলা একাডেমীর বই মেলাতে বিভিন্ন স্টলে আছে, অনেক পান্ডুলিপি বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে জমা আছে।

অধ্যাক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছ আজীবন মেম্বার ছিলেন চট্টগ্রাম সমিতি, সাহিত্য পরিষদ, ইতিহাস সমিতি, সন্দীপ সমিতি, আল্লামা রুমি ফাউন্ডেশন, ইমাম গাজ্জালী গবেষনা পরিষদ।

ব্যাক্তি জীবনে আবুল কালাম ইলিয়াছ খুবই কোমল মনের অধিকারী ছিলেন, আত্বীয় স্বজনের খোজ খবর নিতেন নিজে এসে। নিঃসন্তান থাকলেও ভ্রাতুষ পুত্র ও কন্যাদের জন্য খুবই দরদ দেখাতেন জ্বনাব ইলিয়াছ।

অধ্যাক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছ বার্ধক্য জনিত করনে ২০১৬ সালে ইহ জগতের মায়া ত্যাগ করে কবরের বাসিন্দা হয়ে গেছেন…ইন্নালিল্লাহি ওইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ যেন এ জ্ঞান গর্বা মানুষটি কে ক্ষমা করে জান্নাতের চির মেহমান বানিয়ে দেন।

আমিন।

লেখক : সাবেক শিক্ষক, পরিচালক হালিশহর মহিলা কলেজ ও হালিশহর পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ,চট্টগ্রাম।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন