আজ সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



কুরআন শিক্ষা দানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহন

Published on 06 March 2017 | 4: 41 am

কুরান শিখিয়ে বিনিময় গ্রহন করার পক্ষে  islamqa তে, নিম্নোক্ত হাদিসটি দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ نَفَرًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَرُّوا بِمَاءٍ فِيهِمْ لَدِيغٌ ـ أَوْ سَلِيمٌ ـ فَعَرَضَ لَهُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَاءِ فَقَالَ هَلْ فِيكُمْ مِنْ رَاقٍ إِنَّ فِي الْمَاءِ رَجُلاً لَدِيغًا أَوْ سَلِيمًا‏.‏ فَانْطَلَقَ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ عَلَى شَاءٍ، فَبَرَأَ، فَجَاءَ بِالشَّاءِ إِلَى أَصْحَابِهِ فَكَرِهُوا ذَلِكَ وَقَالُوا أَخَذْتَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا‏.‏ حَتَّى قَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخَذَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ

ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ (স) -এর সাহাবীগণের একটি দল একটি কুপের পাশে নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুপের পাশে মধ্যে ছিল সাপে কাটা এক ব্যাক্তি কিংবা তিনি বলেছেন দংশিত এক ব্যাক্তি। তখন কুপের কাছে একজন এসে তাদের বলল আপনাদের মধ্যে কি কোন ঝাড়-ফুককারী আছেন? কুপ এলাকায় একজন সাপ বা বিচ্ছু দংশিত লোক আছে। তখন সাহাবীগণের মধ্যে একজন সেখানে গেলেন। এরপর কিছু বকরী দানের বিনিময়ে তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন (এবং ফুক দিলেন)। ফলে লোকটি আরোগ্য লাভ করল। এরপর তিনি বকরীগুলো নিয়ে তাঁর সাথীদের নিকট আসলেন কিন্তু তাঁরা কাজটি পছন্দ করলেন না। তারা বললেনঃ আপনি আল্লাহর কিতাবের উপর বিনিময় গ্রহণ করেছেন। অবশেষে তারা মদিনায় পৌছে নাবী (স) -এর দরবারে যেয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি আল্লাহর কিতাবের উপর বিনিময় গ্রহণ করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (স) বললেনঃ যে সকল জিনিসের উপর তোমরা বিনিময়ে গ্রহণ করে থাকো তম্মধ্যে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর কিতাব। [বুখারী/৫৭৩৭]

কিন্তু নিম্নোক্ত হাদিস গুলো আরও বিষয়ভিত্তিক ও পরিস্কার অথচ সেটা উল্লেখ করা হয়নি। যেমন, রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন,

مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَلْيَسْأَلِ اللَّهَ بِهِ فَإِنَّهُ سَيَجِيءُ أَقْوَامٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَسْأَلُونَ بِهِ النَّاسَ

যে কেউ কুরান পড়ে সে যেন তা দিয়ে আল্লহর কাছে চায়। এরপর এমন কিছু মানুষ আসবে যারা কুরান পড়ে তার বিনিময়ে মানুষের কাছে চাইবে। [তিরমিযি/২৯১৭ (হাসান)]

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ عَلَّمْتُ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ الْكِتَابَ وَالْقُرْآنَ فَأَهْدَى إِلَىَّ رَجُلٌ مِنْهُمْ قَوْسًا فَقُلْتُ لَيْسَتْ بِمَالٍ وَأَرْمِي عَنْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لآتِيَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلأَسْأَلَنَّهُ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَجُلٌ أَهْدَى إِلَىَّ قَوْسًا مِمَّنْ كُنْتُ أُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْقُرْآنَ وَلَيْسَتْ بِمَالٍ وَأَرْمِي عَنْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏ “‏ إِنْ كُنْتَ تُحِبُّ أَنْ تُطَوَّقَ طَوْقًا مِنْ نَارٍ فَاقْبَلْهَا

উবাদা ইবনে সামিত (রা) হতে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি আহলে সুফফার কিছু লোককে লেখা ও কুরান পড়া শিখাতাম। তখন তাদের একজন আমার জন্য একটি ধনুক হাদিয়ে হিসেবে প্রেরন করে। তখন আমি ধারনা করি যে এত কোন মাল নয়, আমি এ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় তিরন্দাযী করব। এরপর রসুলুল্লাহ (স) এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, হে আল্লাহর রসুল (স) আমি যাদের কুরান পড়া ও লেখা শিখাই, তাদের একজন আমাকে হাদিয়া হিসাবে একটি ধনুক প্রদান করেছে, যা কোন মালই নয়। আমি এ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় তিরন্দাযী করব। তিনি বলেন, তুমি যদি তোমার গলায় জাহান্নামের বেড়ি পরাতে চাও তবে তুমি তা গ্রহন কর। [আবু দাউদ/ ৩৪১৬ (সহীহ)]

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ عَلَّمْتُ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ الْقُرْآنَ وَالْكِتَابَةَ فَأَهْدَى إِلَىَّ رَجُلٌ مِنْهُمْ قَوْسًا فَقُلْتُ لَيْسَتْ بِمَالٍ وَأَرْمِي عَنْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْهَا فَقَالَ ‏ “‏ إِنْ سَرَّكَ أَنْ تُطَوَّقَ بِهَا طَوْقًا مِنْ نَارٍ فَاقْبَلْهَا

উবাদা ইবনে সামিত (রা) হতে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি আহলে সুফফার কিছু লোককে লেখা ও কুরান পড়া শিখাতাম। তাদের একজন আমার জন্য একটি ধনুক হাদিয়া দিল। তখন আমি ধারনা করি যে এত কোন মাল নয়, আমি এ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় তিরন্দাযী করব। পরে রসুলুল্লাহ (স) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, তখন তিনি বলেন, তোমাকে আগুনের শিকল পড়ানো হোক, যদি তুমি এতে সন্তুষ্ট হও, তবে তুমি তা গ্রহন কর। [ইবনে মাযাহ/২১৫৭ (হাসান)]

এক্ষনে আমরা যদি খেয়াল করি তাহলে দেখব ইমাম বুখারী হাদিসটি চিকিৎসা” অধ্যায়ে এনেছেন কিন্তু ইমাম আবু দাউদ এবং ইবনে মাযাহ তাদের হাদিস দুটিকে যথাক্রমে শিক্ষকের পারিশ্রমিক সম্পর্কে” ও “কুরআন শিক্ষা দানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহন” শিরনামে উল্লেখ করেছেন।

যাহোক কুরআন শিক্ষা দেওয়া যদিও বড় দাওয়া অবশ্যই তবুও কোন ব্যক্তি কুরআন শিখাতে গিয়ে অন্য কাজ করতে পারবেন না তা নয়। ব্যবস্থাটির দুটি ফলাফল বেশ ভয়াবহ,

১) এধরনের ব্যবস্থা একজন আলিম বা দায়ীকে অন্যের উপর নির্ভরশীল করে ফেলে যার ফলে সে অনেক সময় সত্য বলতে ভীত হয় অথবা স্পন্সরদের পক্ষে কথা বলার দলিল তৈরী করে ফেলে।

২) সামাজিক কাঠামোতে অনুপস্থিত থাকায় জনগনের কাছে তার প্রয়োজন তৈরী হয় না। যার ফলে তার আর নেতা হয়ে ওঠা হয় না। সেকুলারিজমের একটা সুক্ষ্ম সাপোর্ট আপনা আপনিই সৃষ্টি হয়ে যায়।

৩) আদর্শিক বিষয়ে কারও অধীনস্ত থাকা অসম্ভব। উদাহরন স্বরুপ আমি একজনকে আমার আকিদানুযায়ী ভেবে নিয়োগ দিলাম।  কিছুদিন পর যদি সে আমার নিতিবিরুদ্ধ কথা প্রচার করে তাহলেতো তাকে আর রাখা যাবে না। এভাবে আদর্শিক দন্দ্ব তার কথা বলা বা ইজতিহাদকে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

আল্লাহু তায়ালা আলাম।


Advertisement

আরও পড়ুন