আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



কোটায় ভর্তি নিয়ে আহ্বায়কের কক্ষে ছাত্রলীগের ভাংচুর

Published on 15 February 2017 | 2: 28 am

মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশেষ কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ এনে আহ্বায়কের কক্ষে ভাংচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা এ ভাংচুর করে। একই সময় তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর করে। এতে ক্যাম্পাসে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এস্টেট শাখা সূত্রে জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি গ্রুপ ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে যায়। সেখানে তারা বিশেষ কোটার ভর্তি কমিটির আহ্বায়কের কক্ষে ঢুকে তাকে না পেয়ে কক্ষে ভাংচুর চালায়।

পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বেলা ১১টার দিকে প্রশাসন ভবনে ঢুকে হিসাব শাখার কর্মকর্তা মাসুদ রানাকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা হিসাব শাখার পরিচালক মোহম্মদ আকামদ্দীনের কক্ষে যায়।

সেখান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের ভিতরে ঢুকে সেখানে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। খবর পেয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান তাদেরকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন।

পরে বেলা পৌণে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে সেখানে চলতে থাকা গাছকাটা বন্ধ করে দেয়। তারা কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে মুক্তিযোদ্ধা কর্নারের আসবাপত্রের কাজও বন্ধ করে দেয়। এসময় সেখানে থাকা কাঠমিস্ত্রিদেরকে মারধর করে তাদের সাথে থাকা বহিরাগত সাইদ ও তার সহযোগীরা।

এদিকে ছাত্রলীগের তাণ্ডবে অনেকটা হতবাক হয়ে পড়ে প্রশাসন। প্রক্টরিয়াল বোডিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

এদিকে ভাংচুরের খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঘটনা শোনামাত্রই আমি সেখানে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করছে তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করা হবে।’

হামলার ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস যুগান্তরকে বলেন, অনিয়মের বিষয়টি কোটার আহ্বায়ককে বার বার জানানো হয়েছে। তার পরেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম কিন্তু ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি।

কোটার আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরীন যুগান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ যা করেছে তা সন্ত্রাসী কার্যক্রম। বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। তাছাড়া তারা যে অভিযোগ করেছে সেটি মিথ্যা।’

প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ভাংচুরের বিষয়টি আমাকে জানায় কোটার আহ্বায়ক নিজেই। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পেয়েছি। এর সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

এদিকে কোটাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস এ সংবাদ সম্মেলন করে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বিশেষ কোটায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ আনেন। এসময় তারা প্রমাণ হিসেবে সোনিয়া আফরিন (কোটার রোল ৬৩) নামে এক ছাত্রীকে অবৈধভাবে ভর্তি করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে।

একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষায় ‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন