আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



যৌতুক নিরোধ আইন উঠছে মন্ত্রিসভায় – আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে মৃত্যুদণ্ড

Published on 30 January 2017 | 6: 57 am

যৌতুকের জন্য কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে ‘যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর খসড়ায়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এ খসড়াটি অনুমোদনের জন্য আজকের মন্ত্রিসভার নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত করা চলতি বছরের জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতিও রয়েছে মন্ত্রিসভার আলোচ্যসূচিতে। এতে গত বছরের তুলনায় জনপ্রতি সাড়ে ১৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ২১ হাজার টাকা খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ত্রৈমাসিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রতিবেদন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হতে পারে আজকের বৈঠকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

যৌতুক নিরোধ আইন প্রসঙ্গে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে যৌতুক দাবি ও লেনদেনের শাস্তি নির্দিষ্ট করা থাকলেও যৌতুক চেয়ে নির্যাতনের শাস্তির বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো নারীর স্বামী, স্বামীর পিতা-মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য কোনো নারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, মারাত্মক জখমের জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড বা অন্যূন ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যৌতুকের জন্য অঙ্গহানির শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড বা কমপক্ষে ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। তবে স্ত্রীর জখমের ধরন অনুযায়ী স্বামীকে অর্থদণ্ডসহ আমৃত্যু ভরণপোষণ দেয়ারও বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশোধিত খসড়া অনুযায়ী, যৌতুকের জন্য কোনো নারীকে সাধারণ জখম করলে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। খসড়ায় ‘যৌতুক’ বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত যে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর বা মূল্যবান জামানতকে বোঝানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি কনে বা বর পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি বা যৌতুক নিলে বা দিলে অধরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।

কেউ যৌতুক দাবি বা লেনদেন করলে সর্বনিু এক বছর ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল বা ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো ব্যক্তি যৌতুক নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ বা মামলা করলে তিনি ছয় মাসের কারদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনেও যৌতুকের জন্য কোনো নারীর মৃত্যু ঘটানোর দায়ে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যৌতুক নিরোধ আইনেও একই ধরনের শাস্তির বিধান যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও অপরাধকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে খসড়া আইনে। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকরের পর ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন রহিত হলেও ওই আইনের আলোকে প্রণীত বিধি ও প্রবিধি উপ-আইন হিসেবে গণ্য হবে বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।

খরচ বাড়ল হজের : চলতি বছরের হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে প্যাকেজ-১ এ ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা, যা গত বছর ছিল তিন লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা। আর প্যাকেজ-২ এ তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা, গত বছর ছিল তিন লাখ চার হাজার ৯০৩ টাকা। এর বাইরে আলাদাভাবে সবাইকে কোরবানির জন্য খরচ করতে হবে সাড়ে ১০ হাজার টাকা।

জানা গেছে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ও দু’টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীপ্রতি অভিন্ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭ টাকা। এই অভিন্ন ব্যয়ে কী কী খরচ ধরা হয়েছে জানতে চাইলে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব যাওয়া আসার বিমান ভাড়া, জেদ্দা ডিপারচার ট্যাক্স, হজ টার্মিনাল সার্ভিস চার্জ, এম্বারকেশন ফি, এক্সাইজ ডিউটি, সৌদি সরকারের ডিউটি চার্জ, ট্রাভেল এজেন্ট কমিশন, বিমান ভাড়ার ওপর ভ্যাট এবং সৌদি আরবে দিতে হবে সার্ভিস চার্জ ও পরিবহন ফি। এসব খরচের সঙ্গে খাওয়া খরচ, সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি, আইডি কার্ড, কিটব্যাগসহ স্থানীয় বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ হজযাত্রী কল্যাণ তহবিলে চাঁদা এবং গাইড ব্যয় রয়েছে। এর সঙ্গে হজ এজেন্সির নির্ধারিত অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সমন্বয় করে দু’টি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর হজ পালিত হবে। সরকার গড়ে ৪৫ জন হজযাত্রীর জন্য একজন গাইড নিয়োগ করবে। এসব গাউড হজযাত্রীর পক্ষে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে প্রশাসনিক কাজ সমন্বয় করবেন। তিনি হজযাত্রীদের হজের আহকাম ও আরকান পালনে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া তিনি যাত্রীদের ধর্মীয় বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হতে পারে নেত্রকোনায়। হাওরের জীববৈচিত্র্য, কৃষ্টি, সভ্যতা, কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতিকে ধারণ করে বিশেষায়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেত্রকোনায় এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৪০ একর জায়গা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়টিও আজকের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে বলে জানায় ওই কর্মকর্তা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন