আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান

Published on 30 January 2017 | 6: 23 am

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদের আয়বর্ধক প্রকল্প থেকে আয় করে তা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম। এক্ষেত্রে জেলার ১৪টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নগরীর সিনিয়রস ক্লাবে গতকাল রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ‘শেখ হাসিনার দর্শন, বাংলাদেশের উন্নয়ন শীর্ষক’ মতবিনিময়কালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুস সালাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী আমাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিলেন, সেদিনই উল্লেখ করে দিয়েছিলেন জেলা পরিষদের বেহাত হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধার করে সেখানে আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করতে। সেই আয়বর্ধক প্রকল্প থেকে আয় করে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে। সে লক্ষে ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রশাসক হিসেবে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর নানা উন্নয়ন কাজের মাধমে জেলা পরিষদকে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছি। জেলা পরিষদের অধীনে ১৪ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করেছি। এ কারণে জেলা পরিষদ আজকে আলাদা একটি মর্যাদায় নিজেকে নিয়ে গেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।

মতবিনিময়কালে মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নত দেশ চিন্তা করা যায় না। আর দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠী ছাড়া একটি উন্নত দেশগড়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে শিক্ষা ও দেশপ্রেম দু’টোর আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে।

একইসাথে দেশের গৌরবগাঁথা তরুণ প্রজন্মদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। জেলা পরিষদও এ লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, শিক্ষাবৃত্তি, গরীব ও দু:স্থদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে অনেক ছোট ছোট কাঁচা রাস্তা রয়েছে, যে রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে আসা যাওয়া করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সে সমস্ত রাস্তাগুলোর উন্নয়নে আমরা প্রকল্প হাতে নেব। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে ৫ বছর আমি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছি। নিরবে আমি আন্তরিকতা দিয়ে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার গ্রামেগ্রামে, ছোটছোট অনেকগুলো কাজ করেছি। অনেক জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করেছি এবং আরও অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডার উন্নয়নে কাজ করেছি। জেলা পরিষদের যে সীমাবদ্ধতা ও পরিধি রয়েছে, এরমধ্যে থেকে আমি এ কাজগুলো করেছি। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মত গৌরবের ইতিহাস পৃথিবীর আর কোন দেশে নেই। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষের জীবনদান, ২ লক্ষ মাবোনের সম্ভ্রম হারানোর বিনিময়ে আমাদের এ বাংলাদেশ। ২৩ বছরের অগ্নিঝরা, রক্তঝরা, নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর দেশের অর্জিত এ গৌরবগাঁথাগুলো তরুণ প্রজন্মকে জানিয়ে দেয়া না হলে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম সৃষ্টি হবে না বলে আমি মনে করি। তবে ইতিহাসের অনেক বিষয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন দিবসে তুলে ধরেন। এরপরও নতুন প্রজন্মকে যদি দেশের ইতিহাসের এ গৌরবগাঁথাগুলো জানিয়ে দিতে না পারি তাহলে তরুণ প্রজন্মকে দিয়ে ১৯৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও দেশপ্রেম সৃষ্টি সম্ভব হবে না। তাই তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জানিয়ে দিতে হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক রঞ্জন অধিকারী, টিভি জার্ণালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ।

জেলা পরিষদের সচিব শাব্বির ইকবালের সঞ্চালনায় সভায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ১৪ জন সাধারণ সদস্য তাদের পরিচয় ও অভিমত ব্যক্ত করেন।

এদিকে যেকোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুস সালাম।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন