আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



হরতাল চালাকালে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় এএসআই বরখাস্ত

Published on 26 January 2017 | 9: 14 pm

বাগেরহাটে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা আধা বেলা হরতাল চালাকালে দুই গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি)  মারুফ হোসেন সরদারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

দুপুরে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে পুলিশ হরতালকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে। এ সময় লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটে। হরতালের এই দৃশ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করতে যান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের দুই সংবাদকর্মী। তখনই তাঁরা পুলিশের হামলার শিকার হন।

আহত সংবাদকর্মীরা হলেন এটিএন নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক এহসান বিন দিদার ও ক্যামেরাম্যান আবদুল আলীম। পরে তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, হামলায় ক্যামেরাম্যান আবদুল আলিমের চোখের ওপরের অংশ কেটে গেছে। রিপোর্টারের হাত এবং পায়ে আঘাত লেগেছে।

এ ঘটনার ছবি ও সংবাদ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে সন্ধ্যায় পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন রমনা বিভাগের এডিসি (প্রশাসন) নাবিদ কামাল শৈবাল, এডিসি আজিমুল হক ও এসি ইহসানুল হক। দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে  বলা হয়েছে।

ঘটনার পর পরই শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, ‘ঘটনাস্থলের পাশে একটি ভিডিও ক্যামেরা আছে। সেই ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি সত্যি পুলিশের কেউ জড়িত থাকে তবে তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে।’

হামলায় আহত সাংবাদিক এহসান বিন দিদার জানান, অর্ধদিবস হরতালের সংবাদ কাভার করার জন্য তাঁরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় শাহবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাঁদের ওপর হামলা চালান। কী কারণে হামলা, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি।

হরতালে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

বাগেরহাটে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা আধা বেলা হরতাল চালাকালে দুই গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিন সদস্যের এ কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি)  মারুফ হোসেন সরদার।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশ হরতালকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে। এ সময় লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটে। হরতালের এই দৃশ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করতে যান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের দুই সংবাদকর্মী। তখনই তাঁরা পুলিশের হামলার শিকার হন।

আহত সংবাদকর্মীরা হলেন, এটিএন নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক এহসান বিন দিদার ও ক্যামেরাম্যান আবদুল আলীম। পরে তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, হামলায় ক্যামেরাম্যান আবদুল আলিমের চোখের ওপরের অংশ কেটে গেছে। রিপোর্টারের হাত এবং পায়ে আঘাত লেগেছে।

ঘটনার পর পরই শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, ‘ঘটনাস্থলের পাশে একটি ভিডিও ক্যামেরা আছে। সেই ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি সত্যি পুলিশের কেউ জড়িত থাকে তবে তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে।’

সন্ধ্যায় পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

‘কমিটির সদস্যরা হলেন রমনা বিভাগের এডিসি (প্রশাসন) নাবিদ কামাল শৈবাল, এডিসি আজিমুল হক ও এসি ইহসানুল হক। দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে দিতে বলা হয়েছে’, যোগ করেন মারুফ হোসেন সরদার।

হামলায় আহত সাংবাদিক এহসান বিন দিদার জানান, অর্ধদিবস হরতালের সংবাদ কাভার করার জন্য তাঁরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় শাহবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাঁদের ওপর হামলা চালান। কী কারণে হামলা, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি।

হরতালে লাকীসহ আহত ৭

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকে আধাবেলা  হরতালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আহত হয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তারসহ সাতজন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে ওই সাতজন আহত হন বলে দাবি করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি ফারজানা আক্তার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারজানা জানান, পুলিশের অতর্কিত হামলায় লাকী আক্তার ছাড়াও লাবণী মণ্ডল, উম্মে হাবিবা বেনজীর, রায়হান, নাসির, কাঁকনসহ সাতজন আহত হন।

আহত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  রামপালের ঘটনায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তাঁরা শাহবাগে অবস্থান নেন। হরতাল চলাকালে পুলিশ তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় ওই এলাকা ত্যাগের সময় তাঁরাসহ অনেকেই আহত হন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে হরতাল সমর্থক জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা  শাহবাগে মিছিল বের করে। এ সময় শাহবাগ এলাকায় জড়ো হয়ে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলে। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিতে গেলে তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে শাহবাগ ছেড়ে হরতাল সমর্থকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দিকে পিছু হটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে সাতজন সামান্য আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এঁদের কাউকে ভর্তির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর আগে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সবাইকে হরতাল পালনের আহ্বান জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত সাত বছর ধরে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা প্রকল্প বাতিলসহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানের জন্য সাত দফা বাস্তবায়নে আমরা লংমার্চ, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, মহাসমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু সরকার এই প্রকল্প বাতিল না করে উল্টো সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে হরতাল পালনের কর্মসূচি দিয়েছি।’

‘সুন্দরবন রক্ষা’র হরতালে পুলিশের টিয়ার শেল

‘সুন্দরবন রক্ষা’র হরতালে টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা হরতালের শুরুতে শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশ হরতালকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে।

সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে এই হরতাল শুরু হয়। চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

হরতালের সমর্থনে ভোর থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিতে ও ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে। জবাবে ইটপাটকেল ছোড়ে হরতাল সমর্থকরা।


শাহবাগ মোড়ের আগে পাবলিক লাইব্রেরি ও চারুকলার সামনে মূলত হরতালকারীরা অবস্থান নিয়ে আছে। পুলিশি বাধার কারণে তারা শাহবাগের দিকে আসতে পারছে না।
বিভিন্ন বামপন্থী  ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

হরতাল সমর্থনকারীদের দাবি, সাত বছর ধরে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলসহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানের জন্য সাত দফা বাস্তবায়নে সারা দেশে লংমার্চ, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, মহাসমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কিন্তু সরকার এ প্রকল্প বাতিল না করে উল্টো সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর নানা তৎপরতা চালাচ্ছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন