আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অধ্যাপক আ,ম,ম, আব্দুর রহিম একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও আদর্শ শিক্ষকের প্রতিকৃতি

Published on 12 January 2017 | 5: 54 am

আহসান হাবীব ::

সন্দ্বীপের ঐতিহাসিক মগধরা গ্রামে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অধ্যাপক আ,ম,ম, আব্দুর রহিম জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান শিক্ষাবিদ, প্রধান শিক্ষক মৌলভী মোহাম্মদ আলী আকবর বি, এ, বি, টি, মাতা আলহাজ্বা কাজী রওশন আকতার বেগম। পৈতৃক দিক হতে তিনি সন্দ্বীপের বিখ্যাত পেলিশ্ব্যার গোত্র, মাতার দিক হতে দক্ষিণ সন্দ্বীপের কাজী পরিবার। সন্দ্বীপের এ দু’টি বিখ্যাত গোত্রে তাঁর রক্তের সংমিশ্রণ। তারা তিন বোন দু’ভাই । ছোট ভাই আ, ল, ম, আব্দুর রহমান হ.ফ.প. পি, এইচ, ডি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব। বর্তমানে জধপঃড়ৎ ই, চ, অ, ঞ, ঈ সাভার, ঢাকা।
জনাব আব্দুর রহিম এক ছেলে দু’মেয়ের জনক। তাঁর স্ত্রী সৈয়দা ফরিদা আকতার সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। বড় মেয়ে খাদিজা নাসরিন ইতিহাসে অনার্স ও মাষ্টার্স চ.বি (বিবাহিত), ছোট মেয়ে সুমাইয়া আফরিন চ.বি দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী, একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাইদুর রহিম বি.বি.এ, এম.বি.এ ব্যাংক কর্মকর্তা ব্যাচেলর। বাল্যকালে চার বছর বয়সে জনাব আ,ম,ম, আব্দর রহিম পিতৃহারা হন। নানা প্রতিকূলতায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ হতে। অনার্সে মেধা তালিকায় তিনি পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। পড়াশুনা,- মধ্যমগধরা প্রাইমারী, দক্ষিণ সন্দ্বীপ মাল্টিলেটারেল হাই ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে। অতপর লেখাপড়া শেষে ঐতিহ্য বাহী ফতেয়াবাদ ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন ১৯৮৪ সালের ৭ই আগস্ট অতপর সিনিয়র প্রভাষক, অতপর ২০০২ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নিত হন। ২০১৩ সালে কয়েক মাস অত্র কলেজে অধ্যক্ষের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব সুনামের সহিত পালন করেন। ইহা ছাড়া তিনি ফতেয়াবাদ কিন্ডার গার্টেনের উপাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের দায়ীত্ব অতীব নিষ্ঠার সহিত পালন করে আসছেন। বর্তমানে শিক্ষকতা জীবনে তেত্রিশ বছরের শেষ প্রান্তে। তিনি নায়েম, ঢাকা হতে, এইচ, এস,টি, টি, আই কুমিল্লা হতে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ চট্টগ্রাম হতে শিক্ষার উপর প্রশিক্ষণ ও সনদ লাভ করেন। কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্রের পরীক্ষক ছিলেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ অবসরে যাবেন্ধসঢ়;। তিনি ইতিমধ্যে একজন কলেজ শিক্ষক হিসাবে সফলতার পরিচয়দিয়েছেন। তাঁর অজস্র ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষা লাভ করে মর্যাদার আসনে আসিন। ছাত্র বান্ধব এ মানুষটি পিতার পথ ধরে শিক্ষকতাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পিতার মত লিখালিখিতেও তার সুনাম রয়েছে।
তাঁর পিতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি ছিলেন। তাঁর লিখা শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ “ছায়াপথ” নামক কাব্যগ্রন্থ। ইতিমধ্যে পত্র পত্রিকায় অধ্যাপক আব্দুর রহিমের অনেক লিখা ছাপা হয়েছে। বিভিন্ন ম্যাগাজিন, স্মরণিকা, স্মারক গ্রন্থ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লিখায় সমাজ ভাবনা সরবে উচ্চারিত হয়েছে। তাঁর লিখা বিভিন্ন স্মৃতি কথা, যেমন: আামর স্কুল জীবন, কলেজ জীবন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, শিক্ষকতা জীবন তাঁর স্মৃতিচারণে স্বার্থক ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। লিখা সমূহ পড়ার উপযোগী। ইতিমধ্যে দ্বীপান্বিত, দ্বীপের চিঠি, সন্দ্বীপ মডেল হাই স্কুলের স্মারক গ্রন্থ, হাটহাজারী পার্বতি হাইস্কুলের শতবর্ষ স্মারক গ্রন্থ, সন্দ্বীপ শিক্ষা সমীক্ষা, সোনালী সন্দ্বীপ, সন্দ্বীপ দর্পণ, সোনালী  দৈনিক আজাদী, পূর্বকোণ, কর্ণফূলি, চট্টগ্রাম মঞ্চসহ, বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তাঁর লিখা প্রকাশিত হয়েছে।

আমাদের জাতীয় কবি নজরুল কে নিয়ে তাঁর কয়েকটি মূল্যবান নিবন্ধ রয়েছে। কবিতা লিখার প্রতি বাল্যকাল হতে তাঁর অনুরাগ। স্কুল জীবনে “মশাল” নামক ম্যাগাজিনে “নজরুল” নামে তাঁর প্রথম কবিতা ছাপানো হয়। একানব্বইয়ের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণীঝড়, একাত্তরের অম্লান স্মৃতি, সন্দ্বীপের নৌ-দূর্ভোগ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নেতিবাচক দিক, কিন্ডার গার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থার সফলতা, “আমার প্রিয় বাংলাদেশ, অনেক প্রত্যাশার দ্বীপ শিখা অতপর অনেক হতাশা”, পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র চর্চা ও মুসমি বিশ্বে আগ্রাসন নীতি, একাত্তরের সে অম্লান স্মৃতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অনেক লিখা ইতি মধ্যে ছাপা হয়েছে । ইহা ছাড়া শিক্ষাবিদ আলী আকবর বি,এ,টি,র জীবনাল্লেখ্য, শিক্ষাবিদ আবুল খায়ের খাঁন, কবি বেলাল মোহাম্মদ, এ,কে,এম রফিকুল্লাহ চৌধুরী এম,পি, অধ্যক্ষ আবুল কালাম ইলিয়াছ, এ,বি,এম ছিদ্দিক চৌধুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ, শিক্ষবিদ অধ্যাপক কাজী গিয়াস উদ্দিন সহ আরো অনেকের উপর তাঁর সরস লিখা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর একটি কাব্য গ্রন্থ ও একটি প্রবন্ধ সম্ভার প্রকাশনার অপেক্ষায়। তাঁর লিখা কবিতা, প্রবন্ধ, ভাষা ও ছন্দে পাঠকের কাছে ভিন্ন মাত্রায় বিবেচিত। আমাদের সাহিত্য ক্ষেত্রে ইহা একটি সংযোজন। এবার তাঁর লিখা কবিতা সমূহ নিয়ে আমি আলোচনা করব। আমি অধ্যাপক আ,ম,ম, আব্দুর রহিমের একজন প্রিয় ছাত্র হই। তাঁর লিখা কবিতা সমূহ যেমন:

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধ নিয়ে লিখা, অভিযাত্রী. চিরঞ্জীব শেখ মুজিব, স্বাধীনতা তুমি

আছো বলে, অন্যান্য কবিতা, রাসূল স্মরণে, নিঃসঙ্গ ভাবনা, স্বরূপ, আমার সত্তার আবিস্কার, বিষন্ন

মনের কিছু পঙ্ধসঢ়;তি মালা, আজকের কবি ও কবিতা সহ শতাধিক কবিতা রয়েছে। তাঁর অধিকাংশ

কবিতা ছান্দিক। তাঁর বিভিন্ন কবিতা সমূহ আলোচনা করলে তাঁর কবি মনের স্মরূপ প্রকাশ পাই।

নিম্মে তাঁর বিভিন্ন কবিতা হতে কিছু পঙ্ধসঢ়;তি মালা সুপ্রিয় পাঠকের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হলো।

১৯৭১ সালে তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাঁর লিখা ‘‘অভিযাত্রী’’ কবিতার

কয়েকটি লাইন নিম্মে বিবৃত করা হলো। আসলে মানুষ জন্মগত ভাবে স্বাধীন। পরাধীনতার শৃঙ্খলকে কেউ

মেনে নেয় না। সে সময়ে আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় জাতি মুক্তির আয়োজনে বিভোর। পাক বাহিনীর

পঁচিশে মার্চের নির্মম হত্যা যজ্ঞে সমগ্র জাতি সে মূহুর্তে স্তম্ভিত।জাতির দামাল ছেলেরা

মারানাস্ত্র বন্দুক কাঁধে তুলে নিল। শুরু হলে মহান মুক্তিযোদ্ধ। আামদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে

নিবেদিত তাঁর এ কবিতা। কবির ভাষায়, ‘‘স্বাধীনতা হীন কে বাঁচিতে চাইরে কে বাঁচিতে

চাই’’।

অভিযাত্রী কবিতায় তিনি এভাবে লিখেছেন যেমন :

“মুক্তি পাগল নিঃস্বার্থ বীর তোমরা অভিযাত্রী,

স্বাধীনতার পরশ রাখতে চলবি নিশীথ রাত্রী।

ভয় ভাবনার অকেজো কথা আজকে দে ভাই রাখি,

শ্বাপদ সংকুল গিরি পাড়ি দিবি আলীর হায়দর হাকি।

যুগের মিনার সাক্ষী দেবে তোদের নির্ভিকতা,

যুগান্তরের বঞ্চিত মানুষের আনবি স্বাধীনতা।”

তাঁর ‘‘স্বরূপ’’ কবিতায় নিজকে তিনি যেভাবে দেখেছেন, সেভাবে মনের সাত রঙ মিশিয়ে তাঁর এ

লিখা কবিতা। কবিরা স্বভাবত কল্পনা বিলাসী। তাদের কল্পনা জগৎ রোমান্টিক, সীমানা বিশাল। তাঁর কল্পনায়

নিজকে যেভাবে দেখেছেন সেভাবে এ কবিতায় লেখাচিত্র অংকন করেছেন। কবিতাটি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়

জীবনে লিখা। কবিতার প্রথম দিকের কয়েকটি চরণ নিম্মরুপ, যার মধ্যে তাঁর কবি প্রতিকৃতি

প্রকাশিত হয়েছে। যেমন:

“আমি কবি, ঊষার রবি জীবন প্রথম খাতাতে,

এঁকেছি আমি নানান ছবি মনোপল্লব পাতাতে।

আমি ছন্দ, নাহিক বন্ধ হৃদয় সুরের আকাশে,

আমি কেতকী বায়ু বিহবল নিশিত নিশার বাতাসে।

আমি তটনীর মহা রাগিনী সাগরের অজুত বালুকা,

আমি বাগিচার জুঁই, কেতকি গন্ধে বিধুর মল্লিকা।”

অথবা “নিসঙ্গ ভাবনা” কবিতায় তিনি তাঁর জীবনের সুখ দুঃখের কথা উচ্চারণ করেছেন। হয়তো কারো

কাছ হতে তিনি দুঃখ পেয়েছেন অযাচিত, অনাবিল, অব্যক্তনীয়। এ লিখায় তাঁর হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ ঘটেছে।

কবিতাটি ছান্দিক পরিভাষায় না হয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে হয়েছে। ভাষায় ও ছন্দে অনন্য, বলা যায় অনেক আবেগ ভাবাবেগে সিক্ত।কবিতাটি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সোহরাওয়ার্দী হলে আশির দশকে লিখা।
কবিতাটির প্রথম কয়েকটি চরন এ রকম যেমন:

“সে এক নিদারুন ব্যথা,

ক্ষণিকে আঘাত হানে হৃদয়ের কোনো এক গোপন প্রদেশে।

তখন হঠাৎ আমি একাকী চেয়ে থাকি পৃথিবীর বিষ্ধসঢ়;ন্ন মুখ।

এ সময় ছিড়ে যাই হৃদয়ের সব তার, কোনো এক স্বজোর আঘাতে,

সে আঘাত মর্মে বাজে ক্ষণিকে কেঁদে উঠে ভাঙ্গা এ বুক।”

পরবর্তীতে “আমার সত্ত্বার আবিস্কার” কবিতার শেষ অংশে তাঁর মনের কথা এভাবে লিখেছেন যার মধ্যে

সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার ক্ষোভ দুঃখ প্রকাশিত হয়েছে ভারাক্রান্ত চিত্তে। এ কবিতায় তিনি মানব

জীবনের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতি কথা যথাযথ ভাবে উম্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে

প্রথম জীবনের সুখ, আনন্দ রোমন্থন করেছেন। হারিয়ে যাওয়া ছন্দময়, সুখময় জীবন আর ফিরে পাবেননা

এখানে তাঁর দুঃখ। এ কবিতায় তিনি তাঁর আমিত্ত্বকে পরিহার করে স্রষ্টার শক্তিকে উপলব্ধি করেছেন হৃদয়

দিয়ে। কবিতাটির কয়েকটি লাইন এরূপ। যেমন:

“হাঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেল,

নীল আকাশে দেখি একফালি বাঁকা চাঁদ,

মনের সুখে রাত জাগা পাখি গেয়ে যায় গান।

বারবার ইচ্ছে করে ফিরে যাই জীবনের প্রথম বেলায়,

-সে হাসি গানে,

কিন্তু হায়! সে সাধ্য আছে কার!

আসলে আমিতো আমার নই,

এতোদিনে আবিস্কৃত হলো আমার সত্ত্বার আবিস্কার।”

“স্বাধীনতা তুমি আছো বলে” কবিতায় তাঁর স্বাধীন চেতা মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর

কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে যে স্বাধীনতা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। এ অধিকারকে খর্ব করার ক্ষমতা

কারো নেই। স্বাধীনতার জন্য আমরা এক সাগর রক্ত দিয়েছি। লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। একাত্তরের স্মৃতি

তাঁর হৃদয়ে চিরভাস্বর। স্বাধীনত কেউ হনন করতে পারবে না। স্বাধীনতা দীর্ঘ জীবি হউক, স্বাধীনতা চির

জীবি হউক। স্বাধীনতাকে তিনি হৃদয় নিংড়ানো ভাষা দিয়ে নন্দিত এভাবে করেছেন। যেমনঃ

“স্বাধীনতা তুমি আছো বলে আমি নির্ভয়ে পথ চলি,

স্বাধীনতা তুমি আছো বলে আমি অধিকারের কথা বারবার বলি।

স্বাধীনতা তোমার সুখ আমার প্রতিদিনের সুখ,

স্বাধীনতা তোমার দুঃখ আমার প্রতি দিবস দুঃখ।

স্বাধীনতা তুমি চিরঞ্জীব থাকো, স্বাধীনতা তুমি জিন্দাবাদ।

স্বাধীনতা তুমি অনেক আশার আলো,

স্বাধীনতা তুমি আমার স্বপ্নস্বাধ।”

অথবা “স্বাধীনতা তুমি চির অম্লান” কবিতায় তিনি স্বাধীনতার জয়গান গেয়েছেন। ত্রিশ লক্ষ শহীদের

রক্তে ভেজা বাংলার সবুজ প্রান্তর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। আমাদের লাল

সবুজের পতাকা তারি স্মৃতি বহন করে। সকাল সন্ধ্যায় আকাশের দূর সীমানায় সে রক্তের চিহ্ন তিনি দেখতে

পান। যেমন:

“স্বাধীনতা তুমি চির অম্লান-চির জিন্দা রহো,

স্বাধীনতা তুমি মাথা উঁচুসম, মাথা নিচু কভু নহো।

তুমি আমাদের অনেক স্বপ্ন শতাব্দীর বীর গাঁথা,

তোমাকে আনিতে ছেলে হারালো শত দুঃখিনী মাতা।

স্বাধীনতা তুমি ভোরের আকাশে অনেক রক্তের লিখা,

স্বাধীনতা তুমি সন্ধ্যা আকাশে ভেসে উঠা লাল শিখা।”

কোনো এক প্রিয়জনের আগমন উপলক্ষে তাঁর লিখা “বন্ধু আসিবে বলে” কবিতায় এভাবে লিখেছেন।

যেমন:

“বন্ধু আসিবে বলে,

আমার হিয়ার পুষ্প কাননে জোনাকি মেয়েরা জলে।

হৃদয় কানন এতোদিন মোর কুসুম বিহনে ছিল,

কে জানি আজি সাহারার বুকে রঙ্গিণে রাঙিয়ে দিল।”

“মুসলিম বিশ্বে ঈদ” কবিতায় তাঁর অনুভুতি প্রকাশ পেয়েছে অনেক নিরাশা, দুঃখ, ক্ষোভ ও বেদনায়।

ঈদ মানে আনন্দ। মুসলিম বিশ্বে বর্তমানে যে আগ্রাসন, যুদ্ধ, হত্যা, খুন চলেছে তা দেখে তিনি

মর্মে মর্মে ব্যথিত। বারুদের গন্ধে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আরাকান, ফিলিস্তিনে শ্বাস নেওয়া দুস্কর।

মুসলমানেরা স্বদেশ ছেড়ে অভিবাসী হয়ে বিভিন্ন দেশে ছুড়ছে। পানিতে ডুবে মরছে। তাদের বাঁচার

অধিকার নেই। বিশ্ব বিবেক এখানে অনুপস্থিত। তারি বহিঃপ্রকাশ এ কবিতা। কবিতাটির শেষ কয়টি

চরন এরকম। যেমন:

“আরাকান আর ইরাকে চলেছে মানুষ মারার ধুম,

প্রাণের ভয়ে রোহিঙ্গাদের হারাম হয়েছে ঘুম।

মিন্দান দ্বীপ আর চেচনিয়ায় শুনি মানুষের আহাজারি,

ঈদ সেতো দুঃখভার,

কতদিন জানিনা বুশ ব্লেয়ারের চলিবে অত্যার্চাধসঢ়;

ঈদ হইবে সেইদিন,

মুসলিম বিশ্বে শত্র“সেনা যবে হবে সব লীন।”

মুসলিম বিশ্ব নিয়ে তাঁর অনেক ভাবনা। তিনি মুসলমানদের বিশ্ব জয়ের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত

আছেন। বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অনেক অবধান রছেয়ে। বর্তমানে মুসলমানদের উপর অত্যাচার অবিচারে

তিনি ভীষন উদ্বিগ্ন। ‘‘বসনিয়া’’ কবিতায় সে মুসলিম গণহত্যার কথা বলা হয়েছে। ইউরোপ হতে

মুসলমানদের বিতাড়নের কথা উল্লেখ করেছেন। এক সময় মুসলমানেরা সুদূর স্পেন, ফ্রান্স, ইউরোপ তথা

সমগ্র বিশ্বে শতশত বছর শাসন করেছে। তারা আধুনিক সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। দুর্ভাগ্য, আজ তারা রাজ্য

হারা হয়ে বিশ্বে নির্যাতিত জাতি। “বসনিয়ার কান্না” কবিতায় তিনি হৃদয়ের সে বেদনা এভাবে

লিখেছেন। যেমন :

“ আরব বিশ্বের রাজা বাদ্ধসঢ়;শারা তোমরা আজ নিশ্চুপ,

ভ্রাতৃত্বের সেই আশার রাজ্য ভেঙ্গে চুড়ে হলো ¯ত্তপ।

তোমরা রয়েছে আরাম আয়েশে অথবা হেরেমে বসে,

দেখো চেয়ে দেখো ইউরোপ হতে ইসলাম পড়িছে খসে।

তারেক মুসার আন্দোলেশিয়া স্পেন সে একদেশ,

পনের শতকে এমনি করিয়া করে দিল তারা শেষ।

এমন করিয়া গ্রানাডা গেল এইবার সারায়াগুর পালা,

ওসব ভাবিতে খনিকে হৃদয়ে বাড়িছে ভীষণ জ্বালা।

বসনিয়া সে আমার বসনিয়া,

আর কত খুন ঝরিবে তোমার শীর্ণ দেহ দিয়া।”

তাঁর লেখা “বিষন্ন মনের পঙ্ধসঢ়;তি মালা” কবিতায় তিনি তাঁর মনের ভাব ও একান্ত অনুভূতি প্রকাশ

করেছেন। কবিতাটি তাঁর কোন এক প্রিয় জনের বিদায় উপলক্ষে লিখা। এই লিখায় প্রিয়জনের প্রতি

ভালবাসা ও বিচ্ছেদের দুঃখ প্রকাশ পেয়েছে। তারপরও প্রিয়জনের প্রতি শুভ কামনা করেছেন। কবিতাটিতে

তিনি এভাবে তাঁর মনোবেদনা প্রকাশ করেছেন। যেমন:

“জীবন সেতো কবির চোখে দু’বিন্দু নয়নের জল,

অথবা অশ্র“ঝরা আঁখি সারাক্ষণ।

চলে যাওয়ার এই ক্ষণে চোখ থেকে জল ফেলা সেতো দূঃলক্ষণ,

পরিশেষে তাই বলি, তোমার চলার পথ সুগম হউক,

সুন্দর হউক সুবাসিত কুসুমের মতো,

অথবা যত ঘটুক আমার পৃথিবীতে দুঃখ ক্লেশ,

যতবার হই আমি ক্ষত বিক্ষত।”

অথবা “রাসূল স্মরণে” কবিতার শেষের কয়েকটি পঙ্ধসঢ়;তি যার মধ্যে তাঁর স্বজাতির প্রতি গভীর অনুরাগ

প্রকাশিত হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের চলমান অবস্থা দেখে তিনি ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। নবীর প্রতি তাঁর

অনাবিল দরদ ও ভালবাসা উচ্চারিত হয়েছে গভীর প্রত্যয়ে। বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য, ঝগড়া

বিবাদ, বিভিন্ন মুসলিম দেশে ভিন দেশিদের আগ্রাসন, ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি দেখে তিনি ব্যথিত

হয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের এ দিশেহারা অবস্থা দেখে মহনবীর আদর্শের বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তথা

মহানবী (সাঃ) এর পুনঃ আগমন কে হৃদয় দিয়ে অনভব করেছেন। তাঁর বিশ্বাস মুসলিম বিশ্বকে বর্তমান

দুরবস্থা হতে মুক্তি পেতে মহানবীর আগমনের প্রয়োজন। তিনি এসে জাতিকে সমূহ বিপদ হতে রক্ষা

করবেন। এ গভীর আশাবাদ তাঁর এই কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে লিখেছেন।

যেমন:

“ হে নবী আজি মহা দুর্যোগে তামাম মুসলিম জাতি,

যেদিকে তাকায় হতাশা আর তিমির আধার রাতি।

মুসলিম জাতির এ অশুভক্ষনে কে ধরিবে আজ হাল,

মাঝ দরিয়ায় ঝড় তুফানে ছিড়ে গেছে তরির পাল।

হে নবী, জাতির এ মহা দুর্দিনে ফিরে এসো আরেকবার,

কিয়ামতে নয়, পাল ছেড়া তরি করে দাও তুমি পার।”

অথবা “চিরঞ্জীব শেখ মুজিব” কবিতায় তিনি তাঁকে যেভাবে দেখেছেন, তাঁর হৃদয় নিংড়ানো

ভালোবাসার ছোঁয়া এ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে । বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা তাঁর

নির্মম হত্যার নিন্দা, জাতির প্রতি তাঁর কাল জয়ী অবদানের কথা স্বীকৃতি এই কবিতায় প্রকাশ

পেয়েছে। কবিতাটির শেষের কয়েকটি লাইন নিম্মরূপ। যেমন:

“ তোমার তুলনা তুমি,-

চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছ টুঙ্গি পাড়ায় ঘুমি।

শোধ করিতে পারিবেনা জাতি তোমার সে অজুত ঋণ।

বাঙালির তরে আনিলে তুমি মুক্ত স্বাধীন দিন,

হাজার বছরের গোলামীর জিঞ্জীর তুমি ছিড়ে দিলে একা।

তোমার সে কথা চির ভাস্বর ইতিহাসে রবে লিখা।”

“নজরুল স্বরণে” কবিতায় শেষ কয়েকটি পঙ্ধসঢ়;তিতে তিনি আমাদের জাতীয় কবি নজরুলকে যেভাবে

আবিস্কার করেছেন। কবির ‘‘কুলি মজুর’’ কবিতার প্রতিচ্ছবি এখানে ফুটে উঠেছে। কুলি মজুর

কবিতাটি নজরুলের একটি কালজয়ী কবিতা। এই কবিতায় তিনি সমাজের অসহায় মানুষের কথা

বলেছেন। তাদের কে দুঃখ কষ্ট হতে মুক্তি দিতে হৃদয়ের কথা প্রকাশ করেছেন। আজও সে মুক্তি ফিরে আসে

নাই। সে কথা নিয়ে তাঁর এই কবিতা। যেমন:

“ আজো সমাজে ধনী দরিদ্রের সংঘাত প্রতিদিন,

আজো কৃষকের অস্থি চর্মায় ভরে রয়েছে ঋণ।

ভূখা নাঙ্গা সব গরীব দুঃখী যাদেরকে কুলি বলে,

আজও রেল হতে বাবু সাবেরা ফেলে দেয় নিচে ঠেলে।

সে দৃশ্য বিষাদময়,

তোমার সে লিখা স্মৃতি হয়ে রলো, নেই যার কোনো লয়।”

কবিতা মুক্তির বারতা আনতে পারে। কবিতা হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। কবিতা হতে পারে

সত্য সুন্দরের জীয়নকাঠি। কবিতা হতে পারে মানুষকে দেশ প্রেমে উজ্জীবিত করার মূলমন্ত্র। কবিতা হতে

পারে জাতীয় ঐক্যের ডাক। কবিতার হতে পারে চরিত্র গঠনের সোপান। বর্তমানে বিভিন্ন কবির কবিতা

দেখে তাঁর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। যেক্ষেত্রে তাঁর আলোচিত বিষয়ের উল্লেখ নাই। এই কবিতাটি

একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিন লিখেছেন। তাঁর ইচ্ছে, এই শতাব্দীতে আবার কবিরা মানুষকে আশার বাণী

শুনাবেন, নীতি নৈতিকতা, আদর্শ, মানবতাবাদ, দেশপ্রম হবে কবিতার মর্ম বাণী। বর্তমানে অনেক

কবিতায় আছে নগ্ন প্রেম, মিছেমিছি ভালোবাসা, চাওয়া পাওয়ার যেখানে সূচিতা ও সুন্দরের অভাব।

আছে নগ্নতা ও অশ্লীলতা। এই ক্ষেত্রে তাঁর ‘‘আজকের কবি ও কবিতার’’ শেষ অংশে তাঁর আশাবাদ

এভাবে প্রকাশিত হয়েছে । যেমন:

“এসেছে নতুন শতাব্দী দু’হাজার সাল,

দেশ জাতি দিশাহারা, কে শুনাবে প্রজম্মকে সৃষ্টির ঝংকার।

এসো হে নতুন কবি, সত্য ন্যায় সুন্দর দিয়ে,

নব কাব্য রচো আরেকবার।

আবার কবিতা হউক জীবন চলার পথে,

আলোকময়, দ্বীপ্তিময়, অনির্বাণ শিখা।

দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণের সমৃদ্ধির তরে,

আবার শুরু হোক নবতর লিখা।”

অধ্যাপক আ,ম,ম, আব্দুর রহিম আমার একজন শ্রদ্ধেভাজন প্রিয় শিক্ষক হন। বর্তমানে আমিও একজন শিক্ষক। তাঁর স্পর্শে এসে আমি উজ্জ্বীবিত হয়েছি। তাঁর লিখা পড়ে তাঁর সম্পর্কে লিখতে প্রেরণা খুঁজে পেয়েছি। সততা, সৎ চরিত্র, দায়িত্বশীলতা স্যারের চরিত্রের অলংকরণ। শিক্ষকতার মধ্যে থেকেও তিনি প্রতিদিন লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময় আমি তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা পড়েছি। স্যারের কবিতা আমার কাছে হৃদয়াগ্রহী হয়েছে। আমি তাঁর কয়েকটি কবিতার অংশ বিশেষ নিয়ে এ নিবন্ধটি লিখলাম। এর বাইরেও স্যারের অনেক প্রবন্ধ, কবিতা ও লেখালেখি রয়েছে। সে সম্পর্কে পরে লিখতে চেষ্টা করব। আমি দেখেছি স্যারের লিখা অনেক সাহিত্য রসে ভরা। তাঁর লিখা অনেক আশার বাণীতে ভরপুর। কোথাও প্রকৃতি প্রেম, কোথাও দেশ প্রেম, কোথাও অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে দ্রোহ উচ্ছারিত হয়েছে। তাঁর প্রায় লিখা ছান্দিক তবে কিছু কিছু লিখা আধুনিক কাব্যিক পরিভাষায়।

তিনি নজরুল, ফররুখ, রবীন্দ্রনাথ শামসুর রহমান ও জীবনানন্দ দাশের পথ বেয়ে চলেচেন বলে আমার মনে হয়। আমাদের বর্তমান সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ করে কাব্যিক সাহিত্যে যে শূন্যতা বিরাজ করছে স্যারের এ লেখা সেখানে নব আশার সঞ্চার করেছে বলে আমার মনে হয়েছে। স্যার মানুষকে ভালোবাসেন। স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে ভালোবাসেন। পুস্তক আকারে স্যারের লিখা সমূহ প্রকাশিত হলে পাঠক মহল স্যার সম্পর্কে ভালভাবে জানতে পারবেন। আমার এই লিখায় কোনো ভুলত্র“টি কারো চোখে পড়লে পাঠক মহলকে ক্ষমা ও সুন্দর চোখে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করছি। পরিশেষে আমার শ্রদ্ধেয় স্যারের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে লিখার ইতি টানছি।

বিঃ দ্রঃ – এবার স্যারের পক্ষ থেকে বলছি,- স্যার এখনো ফতেয়াবাদ কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারী স্যার অবসরে যাবেন। স্যারের অগনিত ছাত্র/ছাত্রী, শুভাকাক্সক্ষসী সুহৃদ মহলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম শুভেচ্ছা, শুভ কামনা ও দোয়া র’ল।

দূরালাপনী ঃ ০১৮১৯-৬৪৮৩৯৮

*** লিখাটি সোনালী নিউজের মেইলে গত ৭ ডিসেম্বর এলেও প্রকাশে বিলম্ব ঘটায় আমরা আন্তরিকভাবে দঃখিত- সম্পাদক।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন