আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



হারের বৃত্তে বাংলাদেশ টি-টিায়েন্টি সিরিজও হাতছাড়া

Published on 07 January 2017 | 3: 23 am

এবারেও হলোনা। নিউজিল্যান্ড সফরে জয় যেন বাংলাদেশের জণ্য সোনার হরিণ হয়েই থাকল। আরো একবার জয় বঞ্চিত গলো বাংরাদেশ। সে সাথে হারলো আরো একটি সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর এবার টিটোয়েন্টি সিরিজটিও হেরেছে বাংলাদেশ। এখন আরো একটি হোয়াইট ওয়াশের সামনে দাড়িয়ে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সিরিজে ফেরার ঘোষনা দিয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু তার আর ফেরা হলোনা। সিরিজের দ্বিতীয় টিটোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪৭ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ফলে এক ম্যাচ আগেই স্বাগতিকরা জিতে নিয়েছে ৩ ম্যাচের সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের ১৯৫ রান তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ ১৪৮ রানে গুটিয়েছে ১১ বল বাকি থাকতেই । অথচ এই ম্যাচেও ভালো সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। শুরুতেই স্বাগতিকদের বেশ ভালই ধাক্কা দিয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু এরপর আর ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। ফলে রানের পাহাড়ে চড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ব্যাট হাতেও সাব্বির আর সৌম্য সরকার আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু তারাও পারলেননা বোলারদের মত ছন্দ ধরে রাখতে। যার পরিণতি ৪৭ রানের পরাজয়। আর সে সাথে টিটোয়েন্টি সিরিজেও হার।

টসে হেরে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডকে প্রথম বলেই ধাক্কা দেন অধিনায়ক মাশরাফি। ফেরান রঞ্চিকে। এরপর ওই ওভারের শেষ বলে চার মেরেই মানরোর শুরু। এরপর আর থামানো যায়নি তাকে। তবে লোকাল বয় এবং অধিনায়ক কেন উইলিয়ামস ও কোরি অ্যান্ডারসন সুবিধা করতে পারেননি। ৪৬ রানে নিউজিল্যান্ড হারিয়েছিল ৩ উইকেট। তবে সেই চাপ উড়ে গেছে মনরোর খুনে ব্যাটিং আর টম ব্রুসের সঙ্গে অসাধারণ জুটিতে। মনরোর ব্যাটিংয়ে ছিল না চাপের প্রতিফলন। উইকেটের চারপাশে উড়িয়েছেন বল। আর তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে গেছেন ব্রুস। চতুর্থ উইকেটে ৬৭ বলে ১২৩ রানের জুটি গড়েছেন দুজন। ৩১ বলে মনরো ছুঁয়েছিলেন অর্ধশতক। এরপর আরও বেপরোয়া। মাহমুদউলহ্মাহ রিয়াদের এক ওভারেই তিন ছক্কা ও দুই চারের সাহায্যে তুলে নেন ২৮ রান। মনরো টিটোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৫২ বলে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে এটি টিটোয়েন্টিতে চতুর্থ সেঞ্চুরি। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম একাই করেছিলেন দুটি। একটি করেন মার্টিন গাপটিল। আর টিটোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষেও চতুর্থ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পরপরই মানরো উইকেট উপহার দিয়ে আসেন রুবেল হোসেনকে। ৭টি চার ও সমান সংখ্যক ছক্কার সাহায্যে ১০১ রান করে পিরেন মনরো। ব্রুসের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটি চতুর্থ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড। দ্বিতীয় টিটোয়েন্টি খেলতে নামা ব্রুস অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে ৫৯ রানে। বাংলাদেশের প ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন।

প্রায় দুইশ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটাও একেবারে নড়বড়ে। আগের ম্যাচের মতোই বাজে শটে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস। দলের খাতায় তখন ২ রান। তামিমও পারলেননা নিজের ইনিংসটাকে বড় করতে। রান আউট হয়ে ফিরলেন ১৩ রান করে। ইমরুল কায়েসের মত দায়িত্বহীন এক শট খেলে ফিরলেন সাকিবও। ৩৬ রানে নেই তিন সিনিয়র ব্যাটসম্যান। মাচ তো এক রকম ওখানেই শেষ। কিন্তু তখনই হাল ধরলেন সাব্বির রহমান আর সৌম্য সরকার। এ দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে তবু জিইয়ে ছিল বাংলাদেশের আশা। দলকে ১০৪ রানে পৌছে দিয়ে ফিরলেন ৩৯ রান করা সৌম্য সরকার। আর তাতেই শেষ বাংলাদেশের প্রতিরোধ। নিজের সেরা সময়কে মনে করিয়ে দেওয়া কিছু শট খেলে সৌম্য ফিরেছেন ২৬ বলে ৩৯ রানে। ৪০ বলে ৬৮ রানের জুটি ভাঙার পর আর দাঁড়াতে পারেননি কেউ। এরপর সাব্বিরের বিদায়ের পর তো আবারও হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইন । ৩২ বলে ৪৮ করে ফিরেছেন সাব্বির । বাংলাদেশ শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৩০ রানে। ১১ বল বাকি তাকতে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৮ রানে। নিউজিল্যান্ডের প ে ইশ শোধি নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন কলিন মনরো।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন