আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মাধ্যমিকের প্রায় শতভাগ বই স্কুলে ।। অবশিষ্টগুলোও কয়েকদিনের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ার আশা

Published on 26 December 2016 | 3: 39 am

আর মাত্র কয়েকটা দিন। নতুন বছরের শুরুতেই বই (পাঠ্যপুস্তক) উৎসবে মেতে উঠার অপেক্ষায় দেশের কয়েক কোটি শিক্ষার্থী। ওইদিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হবে নতুন বই। নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা শিক্ষার্থীর বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসের আনন্দ ছুঁয়ে যাবে শিক্ষকঅভিভাবকদেরও।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভর করবে উৎসবের আমেজ। সৃষ্টি হবে অন্য রকম এক আবহ। এই উৎসবকে ঘিরে মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (মাধ্যমিক পর্যায়ের) ইতোমধ্যে চাহিদার প্রায় শতভাগ বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। তবে মাধ্যমিকের নবম শ্রেণির কয়েকটি বিষয় ও মাদ্রাসার কয়েকটি বিষয়ের বই এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা ও সংশ্লিষ্টরা। তবে তা খুবই অল্প সংখ্যক হতে পারে বলে দাবি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগমের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চাহিদার শত ভাগ বই পৌঁছে দেয়ার কথা জানিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, জেলার ১ হাজার ৭০টি বিদ্যালয় ও ৪২৩টি মাদ্রাসায় চাহিদার প্রায় শত ভাগ বই চলে এসেছে। আমরা বইগুলো ইতোমধ্যে স্কুলমাদ্রাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দুয়েকটি শ্রেণির কয়েকটি বিষয়ের বই এখনো দিতে পারিনি। মাধ্যমিকের ইংরেজি ভার্সনের কিছু বই এখনো আসেনি উল্লেখ করে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অল্প সংখ্যক এসব বইও চলে আসবে বলে জানান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

এদিকে, কথা হলে প্রায় শত ভাগ বই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও। অবশ্য, একটি বা দুটি শ্রেণির কয়েকটি বিষয়ের কিছু সংখ্যক বই না পাওয়ার কথাও বলেছেন কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আক্তার বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী মাধ্যমিকের সব বই আমরা পেয়ে গেছি। কোন ঘাটতি নেই।’ আর চাহিদার প্রায় ৯৫ ভাগ বই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন নাসিরবাদ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদুল ইসলাম হোসাইনী। নবম শ্রেণির ইসলাম ধর্ম, সাধারণ গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের বই ছাড়া বাকি সব বই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাসমত জাহান।

একই তথ্য দিয়েছেন সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জিয়াউল হক হেনরী। নবম শ্রেণির এই কয়েকটি বিষয়সহ ৭ম ও ৮ম শ্রেণির বাংলা সহপাঠ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, নবম শ্রেণির কয়েকটি বিষয় ও ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেনির বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ের বই না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইতিকণা চৌধুরী। অবশ্য, কয়েক দিনের মধ্যে এসব বইও পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। খোঁজ নিয়ে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই হারে বই পাওয়ার কথা জানা গেছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলায় মাধ্যমিক (মাদ্রাসাসহ) পর্যায়ে এবার (২০১৭ সালের) মোট বইয়ের চাহিদা ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৪ টি। অবশ্য, ইবতেদায়ীর ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮৬টি সহ মোট বইয়ের চাহিদা দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০টি।

এর মধ্যে মাধ্যমিকের বাংলা ভার্সনে ৯৭ লাখ ১২ হাজার ৪৯৬, ইংরেজি ভার্সনে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০, মাদ্রাসা পর্যায়ে (এবতেদায়ী, দাখিল ও দাখিল ভোকেশনাল) ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৪ এবং এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ে ৬৯ হাজার ৯৭০টি বইয়ের চাহিদা ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মাঝে মাদ্রাসার কয়েকটি বিষয়, মাধ্যমিকের নবম শ্রেণির কয়েকটি বিষয় ও ইংরেজি ভার্সনের কিছু বই ছাড়া বাকি সব বই পাওয়া গেছে জানিয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা আজাদীকে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বইগুলো সরাসরি উপজেলাতেই পৌঁছে যাচ্ছে। মহানগরে কিছু বই এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এর সংখ্যা খুব বেশি নয়। অবশ্য, অল্প কয়েকদিনের মধ্যে অবশিষ্ট বইগুলোও পৌঁছে যাবে বলে জানান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতেমহানগরের ৬টি থানা ও ১৪টি উপজেলাসহ চট্টগ্রাম জেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৭০টি। এসব বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে (ইংরেজি ভার্সন সহ) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৯ জন। অন্যদিকে, ৪২৩টি মাদ্রাসায় মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৫ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ী পর্যায়ে (১ম থেকে ৫ম শ্রেণি) শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ১৬ হাজার ২৪৮, দাখিল পর্যায়ে (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি) ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ জন ও দাখিল (ভোকেশনালে) ১০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তথ্য অনুযায়ীমাধ্যমিক ও মাদ্রাসার দাখিল পর্যায়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থী ১৪টি করে বই পাবে। ১৫টি করে বই পাবে মাধ্যমিকের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তবে মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ২০টি করে বই। এছাড়া ইবতেদায়ীতে ১ম থেকে ২য় শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থী ৬টি করে এবং ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থী ৮টি করে বই পাবে। হিসেবে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির মোট বিষয় সংখ্যা ৮৮টি। অন্যদিকে, মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে মোট বিষয়ের সংখ্যা ৭২টি এবং ইবতেদায়ীর ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির মোট বিষয় সংখ্যা দাড়ায় ৩৬টি।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলা ভার্সনে এবার মোট বইয়ের চাহিদা ৯৭ লাখ ১২ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণির জন্য ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯০টি এবং ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে এ সংখ্যা যথাক্রমে ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫৪, ২২ লাখ ৫৪ হাজার ২৯৯ ও ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৩টি।

আর মাধ্যমিকের ইংরেজি ভার্সনে (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির) মোট বইয়ের চাহিদার সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০টি। অন্যদিকে, মাদ্রাসার দাখিল পর্যায়ে এবার মোট বইয়ের চাহিদা ১৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪৮টি। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে যথাক্রমে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬, ৫ লাখ ২ হাজার ১০০, ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৮৪ ও ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৬৮টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। আর ইবতেদায়ীতে (১ম থেকে ৫ম শ্রেণি) মোট চাহিদার সংখ্যা ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮৬টি। এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ে (৯ম শ্রেণি) মোট ১ হাজার ৯০০টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিন বই উৎসবে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম বলেন, অল্প সংখ্যক যে কয়টি বই এখনো এসে পৌঁছায়নি, তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চলে আসবে। সুতরাং বই উৎসবে কোন ধরণের বিঘ্ন ঘটবেনা। আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারবো।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন