আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামের জন্য দ্বিতীয় গ্যাস পাইপলাইন হচ্ছে ।। ১৪শ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা

Published on 26 December 2016 | 3: 26 am

অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে চট্টগ্রামআশুগঞ্জ গ্যাস সরবরাহ দ্বিতীয় লাইন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় চৌদ্দশ’ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এরর সাথে আগামী বুধবার সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। রাজধানী ঢাকার সাথে গ্যাস ক্ষেত্রের সাতটি প্রধান সরবরাহ লাইন থাকলেও চট্টগ্রামের জন্য রয়েছে কেবল একটি। আশির দশকে নির্মিত এই লাইনটি দিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাস আনা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় নতুন লাইনটি নির্মিত হলে চট্টগ্রামে গ্যাসের যোগান স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামে গ্যাস সররবরাহ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। ফেনী, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের গ্যাস দিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাসের যোগান দেয়া হয়। কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস আনার জন্য ওই সময় ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের ১০৮ মাইল দীর্ঘ একটি পাইপ লাইন নির্মাণ করা হয়। কুমিলার নবীনগর থানার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিতৃত এই লাইন দিয়ে গ্যাস এনে চট্টগ্রামে সরবরাহ দেয়া হয়। ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের এই লাইন দিয়ে সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ দেয়া সম্ভব। তবে এই লাইনের গ্যাস প্রবাহ গ্যাসের প্রেসারের উপর নির্ভরশীল। প্রেসার ভালো থাকলে গ্যাস প্রবাহ বাড়ে। আবার প্রেসার কমে গেলে গ্যাস প্রবাহও কমে যায়। গ্যাসের প্রেসার কমে গেলে ইচ্ছে করলেও লাইনে গ্যাসের প্রবাহ বাড়ানো যায় না। আবার গ্যাসের যোগান না বাড়লে প্রেসার বাড়ে না। যান্ত্রিক এই সীমাবদ্ধতার কাছে চট্টগ্রামের মানুষ বহুদিন ধরে জিম্মি হয়ে রয়েছে। বিদ্যমান এই লাইনটি সর্বোচ্চ ৯০০ পিএসআই প্রেসারে গ্যাস সরবরাহ দেয়ার ডিজাইনে তৈরি। সর্বনিম্ন প্রেসার ৩১৯ পিএসআই। এর থেকে কম প্রেসারে গ্যাস সরবরাহ দিতে গেলে পুরো লাইনটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। গ্যাস প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি লাইনে কাদা ও পানি চলে আসে।

দীর্ঘদিনের পুরানো এই লাইনটি দিয়ে চট্টগ্রামের প্রয়োজনীয় গ্যাস আনা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, সিলেট বা কুমিল্লা অঞ্চল পর্যাপ্ত গ্যাস থাকলেও সেই গ্যাস চট্টগ্রামে আনার মতো কোন অবকাঠামো নেই। দ্বিতীয় পাইপ লাইন নির্মাণ না করা হলে চট্টগ্রামকে গ্যাস সংকটের কবল থেকে রক্ষা করা যাবে না। চট্টগ্রামের প্রয়োজনীয় গ্যাস আনার জন্য দ্বিতীয় একটি পাইপ লাইন নির্মাণের কোন বিকল্প নেই। ঢাকার জন্য সাতটি লাইন নির্মাণ করা হলেও চট্টগ্রামের জন্য দ্বিতীয় লাইনটি নির্মাণ না করায় বহুদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছিল। এই ব্যাপারে একটি প্রস্তাব বহু আগে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হলেও তা বছরের পর বছর ধরে ফাইলবন্দি ছিল। কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড থেকে ফেনী হয়ে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপ লাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয় ২০০০ সালে। প্রস্তাবটির ব্যাপারে ২০০৭ সালে সার্ভে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিন্তু গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এর বিরোধিতা এবং অসহযোগিতার কারনে প্রকল্পটি ওখানেই হিমাঘারে আটকা পড়ে।

অবশেষে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এডিবি এই প্রকল্পের জন্য ১৬৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় চৌদ্দশ’ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করছে।

এডিবির একটি প্রতিনিধিদল গতমাসে ঢাকায় এসে বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা চূড়ান্ত করে। আগামী বুধবার সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন এবং এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। চট্রগ্রাম থেকে ফেনি হয়ে বাখরাবাদ পযর্ন্ত ৩৬ ইঞ্চি প্যারালাল ১৮১ কিলোমিটার গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন লাইনটি নির্মাণ করা হলে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের একটি সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন