আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



কর্ণফুলী শিশুপার্কের জায়গায় হবে নভোথিয়েটার : মন্ত্রী মোশাররফ ।। ‘৬ মাসের মধ্যে জাম্বুরি পার্কের নির্মাণ কাজ শেষ হবে’

Published on 25 December 2016 | 3: 15 am

চট্টগ্রাম মহানগরীকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলাটা ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী হতে হলে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থাকতে হবে। এখানে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তো কিছুই নেই। চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল শনিবার সকালে নগরীর আগ্রাবাদে জাম্বুরি মাঠে পার্ক নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন। এসময় জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে সিটি মেয়রের সাথে বিরোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাছির ভুল বুঝতে পেরেছে। আমাদের বাপছেলের সম্পর্ক এখনো আগের মতোই আছে। জাম্বুরি মাঠের ৮ একর জায়গায় পার্ক নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই পার্ক নির্মাণ করছে। পার্কের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাম্বুরি মাঠ হবে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মহৌষধ। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকায় সাধারণ মানুষের জন্য অনেক পার্ক থাকলেও চট্টগ্রামে উন্মুক্ত কোনো পার্ক নেই। বিষয়টি উপলব্ধি করে এখানে নান্দনিক একটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। গতবার পারিনি, এবার আমি বাস্তবে রূপ দিচ্ছি।

মন্ত্রী জানান, নকশা সেট হয়ে গেছে। ৮ একর জায়গায় সব ধরনের সুবিধা সম্বলিত এই পার্কে মানুষ হাঁটতে পারবে। লেকের মধ্যে থাকবে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা। লাগানো হবে দেশীয় নানা জাতের ফুল গাছ।

পার্কের পূর্ব পাশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৪০ তলা বিশিষ্ট কর ভবন নির্মাণ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম এ ধরনের আইকন ভবন হচ্ছে। আগারগাঁতে ৩০ তলা বিশিষ্ট কর ভবন হচ্ছে। এখানে হবে ৪০ তলা, দক্ষিণ পাশে হবে ১০ তলা বিশিষ্ট বিএসটিআই ভবন। চট্টগ্রামে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা নেই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পার্ক চট্টগ্রামে প্রথম হচ্ছে। পাশে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার হলে এখানকার চেহারা পাল্টে যাবে। চট্টগ্রাম আগামীতে যাতে বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে উঠে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামকে ঘিরে যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন হলে তখনই বাণিজ্যিক রাজধারী হবে। যেমন আনোয়ারা ও মীরসরাইয়ে ইকোনোমিক জোন হচ্ছে। তখন বিদেশিরা আসবে। চট্টগ্রাম এখনো ‘ভাইভ্রেন্ড সিটি’ নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামকে ভাইভ্রেন্ড করতে হলে ব্রান্ডেট করতে হবে। ব্রান্ডেট করে তুলতে না পারলে হবে না। চট্টগ্রাম এখনো কসমোপলিটন সিটিই হয়নি।

গণপূর্তের মালিকানাধীন জাম্বুরি মাঠের ৮ একর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে শিশুপার্ক তৈরি করা হয়েছিল অভিযোগ করে এটি উচ্ছেদ হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। উচ্ছেদের পর সেখানে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মাণ করা হবে। তার পাশেই হবে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। শিশুদের জন্য থাকবে বিভিন্ন রাইড। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দেশের সব বিভাগে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ করব।

বর্তমানে যেখানে কর্ণফুলী শিশুপার্ক রয়েছে, সেটি গণপূর্ত বিভাগের জায়গা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশন আমাদের অনুমতি না নিয়ে শিশুপার্কটি করেছে। জায়গার মালিকের অনুমতি না নিয়ে জোর করে ব্যবহার করছে তারা। তাদের ইচ্ছেমতো শিশুপার্ক করেছে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারে, সেই কথা চিন্তা করে নান্দনিক পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী ৬ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তিনি জানান, পার্কে প্রবেশের জন্য ৬টি গেট থাকবে। সিজিএস কলোনি ও বিএসটিআই অফিসের দিকে থাকবে দুটি গেট এবং কর্ণফুলী শিশুপার্ক ও আগ্রাবাদ সরকারি কার্যভবন২ এর দিকে থাকবে একটি করে গেট। পুরো এলাকাটি সীমানা পিলার ও রড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে। থাকবে ১০ ফুট চওড়া ওয়াকওয়ে। এর মাঝখানে থাকবে ঘাস ও বিভিন্ন ধরনের গাছ। ২০ ফুট পরপর পার্ককে সামনের দিকে রেখে বসানো হবে বসার জন্য বেঞ্চ। পার্কে আসা দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে ফুডকোড এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য থাকবে আলাদা টয়লেট সুবিধা। পুরো পার্কটি পরিচালনার জন্য একদিকে রাখা হবে অফিস। থাকছে পাম্প হাউস ও পাওয়ার স্টেশন।

অপরদিকে জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে মন্ত্রী মোশাররফ বলেন, জাতিসংঘ পার্ককে নান্দনিক পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এরই মধ্যে নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক পার্ক পরিচালনার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

নগরী পাঁচলাইশ এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের জায়গায় জাতিসংঘ পার্কে সুইমিং পুল তৈরি করতে গেলে বাধা দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে মেয়রের দূরত্ব তৈরি হয়। এক অনুষ্ঠানে মেয়র বলেছিলেন, জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে আমাদের মুরুব্বি মোশাররফ ভাইকে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমার সঙ্গে তার বাবাছেলের সম্পর্ক বহুকালের। সেই সম্পর্কে চিড় ধরানো হয়েছে।

আগ্রাবাদ শিশুপার্ক উচ্ছেদ করতে গেলে মেয়রের সঙ্গে পুনরায় দূরত্ব তৈরি হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মেয়র ভুল বুঝতে পেরেছে। তাই আমার সাথে বসে বিষয়টি মিটমাট করেছে। তাকে বলেছি, আমি ওখানে পার্ক করব। পার্ক দেখাশোনার দায়িত্ব তোমাকে দেব। সে (মেয়র) খুশি হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে শর্ত সাপেক্ষে চারটি পার্ক দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক আমার কাছে কয়েকটা পার্ক চেয়েছে। গুলশান এবং বনানীসহ চারটি পার্ক করে দিয়েছি অন কন্ডিশন, পার্কে কোনো স্থাপনা হতে পারবে না। মানুষ হাঁটবে, ছেলেমেয়েরা যাতে খেলতে পারে।

জাতিসংঘ পার্কে জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুল একটি হাস্যকর বিষয় মন্তব্য করে তিনি সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের সমালোচনা করে বলেন, সাবেক মেয়র মনগড়া একটা জিমনেসিয়াম করেছিল। এখানে কি কেউ যায়। পুকুরের মতো সুইমিং পুল করছে। এগুলো অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।

পরিদর্শনকালে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুচ গণি চৌধুরী, গণপূর্ত সার্কেল২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও জাম্বুরি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মিহির চক্রবর্তী, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ নুর, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইএইচবি নাহিয়ানের কর্মকর্তা এবং গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন