আজ রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আজ শুভ বড়দিন

Published on 25 December 2016 | 3: 12 am

আজ ২৫ ডিসেম্বর রবিবার শুভ বড় দিন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড় দিন। এই পবিত্র দিনে খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করার জন্য যিশু জন্ম নিয়েছিলেন। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরাও আজ দিনটি আনন্দউৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করবে। চট্টগ্রামের পাথরঘাটা, জামালখান, জুবলী রোড, পাহাড়তলী, গোলপাহাড়সহ বিভিন্ন গির্জায় আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়েছে। নগরীর গির্জা ও বড় বড় হোটেল আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়েছে। পাঁচতারকা বিভিন্ন হোটেলে বিশেষ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে বড়দিনের। এসব হোটেলে শিশুদের জন্য ক্রিসমাস পার্টিসহ নানা ধরনের আয়োজন থাকবে। প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সান্তাক্লজ আসবেন নানা উপহার ও চমক নিয়ে।

বড়দিন উপলক্ষে নগরীর পাথরঘাটা খ্রিস্টান পল্লীতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অনেকের ঘরেই বসানো হয়েছে প্রতীকী গোশালা। বেথলেহেমের গরিব কাঠুরের গোয়াল ঘরেই যীশু খ্রিস্টের জন্ম। সে কথা স্মরণ করে বাড়িতে ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি করতেই এটি করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।

বড়দিন উপলক্ষে পাথরঘাটাফিরিঙ্গিবাজারের খ্রিস্টানপল্লিতে এখন উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে সুসজ্জিত ক্রিসমাসট্রি, যিশুর জন্মস্থান নাজেরেথের গোয়ালঘরের অনুকরণে তৈরি বাঁশের চৌকোনা বাক্স আর বড় লাল তারা। গতকাল থেকে পাথরঘাটা গির্জার পুরোটা জুড়ে সাজানো হয়েছে বর্ণিল আয়োজনে। চারিদিকে সাজসাজ রব।

বড়দিনের একটা অন্যতম আকর্ষণ হলো উপহার দেওয়া ও পাওয়া। সাধারণত ক্রিসমাস ট্রির নিচে উপহারগুলো পরিবারের প্রত্যেকের নাম লিখে রেখে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, বড়দিনে শিশুরা বড়দিনের এক সপ্তাহ আগে থেকে অপেক্ষা করে সান্তাক্লজের জন্য। লাল টুপিজামা পরা সান্তা এসে প্রত্যেককে উপহার দিয়ে যান। কাউকে চকলেট, কাউকে খেলনা।

বড়দিন মানেই তো ‘জিঙ্গেল বেল জিঙ্গেল বেল’ গানের চেনা সুর। পয়লা ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ১৫ ডিসেম্বর থেকে চলে ঘরে ঘরে ক্রিসমাস ক্যারল। একেক দিন একে বাড়িতে গানের দল আসে। সুর করে সবাই মিলে গায়, ‘শৃঙ্খল বন্ধন চূর্ণিতে/যিশু এল রে এই গোয়াল ঘরে’, ‘আজ এল এই বড়দিন প্রাণে আজ বাজে বিন।

বড়দিনের খাবারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি গত চার শতাব্দীতে। এখনো উৎসবের প্রধান খাবার ঘরে বানানো বিশেষ কেক। হরেক রকমের ক্রিসমাস কেকের মধ্যে আছে রেড বাটার কেক, চকলেট কেক, নানান ফলের তৈরি ফ্রুট কেক। এছাড়া পোলাও, মাংস, কোর্মা, সালাদ তো থকেই। বিশেষ এতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে আছে মাংসের পদ ভিন্দালু আর মিষ্টি খাবার কালকাল। এ দুটিই পর্তুগিজ খাবার। বাটা মসলা, ভিনেগার, পেঁয়াজরসুন দিয়ে রান্না করা ভিন্দালু ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে এখন জনপ্রিয় এক খাবার।

এদিকে বড়দিনের অনুষ্ঠানে দৃশ্যমান নিরাপত্তার পাশাপাশি অদৃশ্যমান নিরাপত্তার ওপরও বেশি জোর দিচ্ছে পুলিশ।

গত শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বড়দিন ও থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় ও বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এ কথা বলেন জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন