আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অবকাশ যাপনে ছুটছে মানুষ ।। কক্সবাজারে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্ষ খালি নেই হোটেলে

Published on 24 December 2016 | 5: 01 am

ইংরেজি বছরের শেষ প্রান্তে এসে জমজমাট হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। শহর ছাড়াও জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রসমূহও এখন দারুণ প্রাণচঞ্চল। বিপণী কেন্দ্রগুলোতে দেখা দিচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম। সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে টিকেট পেতে পড়েছে হুড়োহুড়ি। থার্টি ফার্স্ট যতই ঘনিয়ে আসছে পর্যটকের ভিড় ততই বাড়ছে।

ইতোমধ্যে নগরীর চার শতাধিক হোটেলের প্রায় সকল কক্ষ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম বুকড হয়ে গেছে। সারাদেশ থেকে দল বেঁধে কক্সবাজারের দিকে ছুটে আসছে ভ্রমণপ্রিয় মানুষ।

স্কুলগামী শিশুদের এখন পরীক্ষা শেষ। এরই মাঝে অধিকাংশ কর্মব্যস্ত মানুষ এখন খুঁজছে সামান্য অবকাশ। সর্বত্র যেন ছুটির আমেজ। কেউ পাশের পর্যটন কেন্দ্রে, কেউবা দূরে কোথাও একটু অবকাশ পাবার আশায় ছুটছে। গত ক’দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে দল বেঁধে প্রতিদিন বেড়াতে আসছেন হাজার হাজার মানুষ। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া পর্যটকদের স্রোত ক্রমশই বাড়ছে। তবে গতকাল শুক্রবার থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে সুপার পিক সিজন। এখন ঠাঁই নেই হোটেলমোটেলে। ৩শ টাকার কক্ষ ভাড়া ওঠেছে ৩ হাজার টাকায়। লাইন ধরে খাবার খেতে হচ্ছে রেস্তোরাঁয়। বিপণী কেন্দ্রগুলোও খুব জমজমাট। কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান জানান, প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক এখন কক্সবাজারে বেড়াতে আসছেন। এরমধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার মানুষ জাহাজ, স্পীডবোট ও ট্রলারযোগে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, হিমছড়ী, দরিয়ানগর, ইনানী এবং পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বেড়াতে যাচ্ছেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এই পরিস্থিতি ডিসেম্বর জুড়েই চলবে। দিন দিন ভিড় বাড়তেই থাকবে। ৩১ ডিসেম্বর হবে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা। নতুন বছর থেকে চাপ কিছুটা কমলেও মার্চ পর্যন্ত প্রতি মাসে অন্তত ১৫ লাখ করে পর্যটক আসবে কক্সবাজার ভ্রমণে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নগরীর চার শতাধিক হোটেলে কোন কক্ষ খালি নেই। সরকারিবেসরকারি অর্ধশতাধিক রেস্টহাউসের কক্ষগুলোও আগাম বুকড হয়ে গেছে। এখন ভাড়া দেয়া হচ্ছে ফ্ল্যাটবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবন।

এই ভিড়ের কারণে রাস্তাঘাটেও সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম। এ সুযোগে গলাকাটা ব্যবসা ফেঁদেছে এক শ্রেণীর লুটেরা ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। হয়রানি চলছে আরো নানা পদে। তবে অপরাধ দমন ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানানব্যাপক হারে পর্যটক আসার সুযোগে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। পর্যটন এলাকায় জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। নাশকতার আশঙ্কায় হোটেলের বাইরে থার্টি ফার্স্ট নাইটের সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে বলা হয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন