আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



৩৫ কৃতীকে সম্মাননা জানাল রবি ।। ডাকছে চট্টগ্রাম, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

Published on 24 December 2016 | 4: 58 am

চট্টগ্রামবাসীর সাথে রবির দৃঢ় সম্পর্ক উদ্‌যাপন করতে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ‘ডাকছে চট্টগ্রাম’ মনোমুগ্ধকর লাইভ কনসার্টে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়া উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ধারণক্ষমতা ২০ হাজার হলেও স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণসহ বাইরে থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ উপভোগ করেছে সঙ্গীতের এ মহাযজ্ঞ। এ অনুষ্ঠানে নানা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য চট্টগ্রামের ৩৫ জন কৃতী সন্তানকে সম্মাননাও প্রদান করা হয়। ব্যবসা, ক্রীড়া, সঙ্গীত, শিক্ষা, শিল্প, নারী উন্নয়ন, সাংবাদিকতা, সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য এসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা জানানো হয়েছে।

কবিতা, তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিও না’, ‘ঝাঁকা নাকা ঝাঁকা নাকা দে হো দোলা না, হে মীরা ভাই’, ‘দুঃখিনি দুঃখ করো না’ণ্ডএরকম একের পর এক মন মাতানো গানের তালে দর্শক মাতিয়ে গান শেষে কণ্ঠশিল্পী জেমস কান ফাটিয়ে বলেন, লাভিউ, লাভিউ…! তখন স্টেডিয়াম ভর্তি হাজারো দর্শকের কান ফাটানো প্রত্যুত্তরে নগর বাউলের খুশি আটকায় কে?

এর আগে মাইলসের সাথে ‘কী যে চায় মন, কী খোঁজে সারাক্ষণ’, ‘ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে’ ও ‘ফিরিয়ে দাও’ গানের তালে, শূন্য ব্যান্ডের সাথে ‘শত আশা শত আশা’ কিংবা বাপ্পা মজুমদারের ‘দিন বাড়ি যায়’, কণার সাথে ‘ধিন তা না বাজে ধিন তা না’ এবং এলিটা করিমের ‘হৃদয়ের ঝড়ে আকাশ পাতাল’ গানের সাথে ঠোঁট মিলাতে সামান্যতমও কার্পণ্য ছিল না তরুণতরুণীদের।

অথচ দর্শকদের এমন উচ্ছ্বাস দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, এরাই সকাল ১০টা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, শত বাধা পেরিয়ে সঙ্গীতের এই মহোৎসবে শামিল হয়ে উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয়েছেন।

নিকট অতীতে অনেকটা বিনামূল্যে এত বড় কনসার্ট নগরবাসী দেখেছে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়ে যায়। বাঙালি জাতি যদি উৎসবপাগল হয়, সেখানে চট্টলার মানুষ এক ধাপ এগিয়ে থাকে যেকোনো উৎসবআয়োজনে।

অনুষ্ঠানে একের পর স্টেডিয়াম মাতিয়েছিলেন বাপ্পা মজুমদার, এলিটা করিম, কণা, শূন্য ব্যান্ড, চিরকুট, অর্থহীন, মাইল্‌স, নেমেসিস এবং সব শেষে এ প্রজন্মের হার্টথ্রুব নগর বাউল জেমস।

গানের ফাঁকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ৩৫ জন কৃতী সন্তানকে সম্মাননা জানোনো হয়। ব্যবসা, ক্রীড়া, সঙ্গীত, শিক্ষা, শিল্প, নারী উন্নয়ন, সাংবাদিকতা, সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য এসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা জানানো হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মনোনয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, খ্যাতিমান গীতিকার ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব আসিফ ইকবাল, ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার নিখিল রঞ্জন দাস, চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেডের চেয়ারম্যান শিল্পপতি মো. আব্দুস সালাম প্রমুখ। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

সাংবাদিকতায় : সাংবাদিকতায় সম্মাননা পান দৈনিক আজাদীর সহকারী সম্পাদক অরুণ দাশগুপ্ত, পূর্বদেশের সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর ও দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রধান প্রতিবেদক শাহেদ সিদ্দিকী।

শিল্পকলায় : শিল্পকলায় চিত্রশিল্পী সাবিহ উল আলম এবং সাহিত্যে হরিশঙ্কর জলদাস, গবেষক আনোয়ার হোসেন পিন্টু ও কবি রাশেদ রউফকে সম্মাননা জানানো হয়।

ব্যবসায় : সম্মাননা জানানো বিশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবসা বিভাগে আছেন প্যাসিফিক জিনসের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন, কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইস্পাহানি গ্রুপের ডিরেক্টর মির্জা সালমান ইস্পাহানি, আবুল খায়ের গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ইয়াং ওয়ান কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সুং, বিএসএ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী, এ কে খানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালাহউদ্দিন কাসেম খান, পেডরোলো গ্রুপের চেয়ারম্যান নাদের খান, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী এবং নাহার এগ্রো গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকিবুর রহমান।

ক্রীড়াক্ষেত্রে : চট্টগ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব ও সাবেক ক্রিকেটার শাহেদ আজগর চৌধুরী, জাতীয় দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের সদস্য সুনীল কৃষ্ণ দে, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আশীষ ভদ্র এবং ক্রিকেটানুরাগী বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম ক্রীড়া বিভাগে সম্মাননা লাভ করেন।

সঙ্গীতে : সঙ্গীত বিভাগে সম্মাননা দেয়া হয় গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ, বংশীবাদক ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম, ধ্রুপদী গায়িকা শিখা রানী দাস ও ব্যান্ড দল সোলসকে।

নারী উন্নয়নে : নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য সাবেক প্রশাসক ও সমাজসেবক কামরুন্নাহার জাফর এবং প্রখ্যাত সমাজসেবক মনোয়ারা হাকিম আলীকে সম্মাননা জানানো হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে : শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ফুলকির প্রতিষ্ঠাতা শিলা মোমেন ও সানশাইন গ্রামার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাফিয়া রহমানকে সম্মাননা জানানো হয়।

পেশাজীবী : মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সিইও আনিস এ খান, ইউসিবিএলের সিইও মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রবিউল হোসেন এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রূপালী চৌধুরী পেশাজীবী বিভাগে সম্মাননা লাভ করেন।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এছাড়া রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহ্‌তাব উদ্দিন আহমেদ, চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ ও অপারেটরটির সিনিয়র লিডারশিপ টিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মেয়র বলেন, রবির এ অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামবাসীর মনে আনন্দ বইয়ে দেবে। অনেকদিন পর উপভোগ করার মতো একটা আয়োজন হয়েছে এটি। রবি ও এয়ারটেল একীভূত হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহ্‌তাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের যা কিছু ব্যতিক্রমী শুরু তার সবটাই চট্টগ্রাম দিয়েই শুরু করা হয়।

গত এক বছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ১২০০ কোটি বিনিয়োগ করা হয়েছে উল্লেখ তিনি বলেন, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা বেল্টে রবি ও এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিকোয়েন্সি সুবিধা প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামবাসীর জন্য রবি এক নম্বর নেটওয়ার্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন