আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



কবি বাদল রায় স্বাধীনের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘‘তোমাকে নিংসঙ্গ দেখতে চাই’’ এর কাব্যকথন

Published on 23 December 2016 | 4: 23 am

 

:: ইলিয়াস কামাল বাবু ::

 সৃষ্টির শুরু থেকে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ বুকের ভেতর জমানো কথামালা প্রকাশ করতে চায়। হাজারো কষ্টের কথা, সমাজ সংস্কারের কথা, দিন বদলের কথা, শ্রেণি-বৈষম্য ভূলে সুন্দর বসুন্ধরা গড়ার কথা। কবি মাত্রই সেই সব কথা গুলো বিশেষ ভাবে উপস্থাপন করেন। কবির কাব্যিকতা, ছন্দময়তা ও নান্দনিক রচনায় শব্দপুষ্প হয়ে কবিতার কথা মালা গেঁথে পাঠকের দু:খ-কষ্ট, হাসি-আনন্দে মিশে যায় কবি ও কবিতা। বাদল রায় স্বাধীন বর্তমান প্রজন্মের প্রতিশ্র“তিশীল তেমনিই একজন কবি।

কবি বাদল রায় স্বাধীন আদি কবি মীন নাথ ও কবি আবদুল হাকিমের গর্বিত জন্মভূমি সাগর বেষ্টিত দ্বীপ সন্দ্বীপেই (হরিশপুর গ্রামে বর্তমান পৌরসভা) ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহন করেন। সন্দ্বীপ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কবিরাজ বাড়ীতে তার জন্ম। পিতা-সূধীর রঞ্জন কবিরাজ, মাতা-কানন বালা রায়ের চতুর্থ সন্তান তিনি। সন্দ্বীপ কার্গিল সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি এবং সন্দ্বীপ সরকারী হাজী এবি কলেজ হতে বি.কম পাশ করেন। এর বাইরেও তার দুটি ডিগ্রী রয়েছে-কাব্য তীর্থ ও ডি.এ.এম.এস। বর্তমানে পেশায় তিনি একজন উন্নয়ন কর্মী হিসেবে দাতা সংস্থা ‘অক্সফ্যাম’ ও ‘এসডিআই’র’ যৌথ প্রকল্প রি-কল প্রজেক্টে কর্মরত রয়েছেন।

ব্যক্তি জীবনে স্ত্রী পলি রানী নাথ, এক ছেলে নিরব রায় সংগ্রাম ও এক মেয়ে সমাপ্তি রায় মুক্তি কে নিয়ে সুখে জীবন যাপন করছেন। স্বর্গীয় পিতাকে উৎসর্গকৃত ও দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে কবি বাদল রায় স্বাধীন এর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘‘তোমাকে নি:সঙ্গ দেখতে চাই’’ তার প্রথম ও একক কাব্য গ্রন্থ।

কবিতার সাথে যার জীবন যাপন অনেকদিনের। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও ম্যাগাজিন ও অনলাইনে তার সরব উপস্থিতি জানান দেয়, কবিতার সাথে তার সম্পর্ক কত নিবিড়। এরই সূত্র ধরে পাঠকের সঙ্গে গড়ে ওঠেছে তার কাব্যিক সখ্যতা। ‘‘তোমাকে নিংসঙ্গ দেখতে চাই’’ বইটি কবি বাদল রায় স্বাধীনের প্রথম ও একক কাব্য গ্রন্থ। তিনি এপার বাংলা ও ওপার বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে তার সক্ষম একটি অবস্থান ইতিমধ্যে তৈরী করেছেন।

আজ বাংলাদেশ ও ভারতের লেখক ও পাঠকদের কাছে বাদল রায় স্বাধীন পরিচিত একটি নাম এবং একজন সমাজ সংগঠক হিসেবেও তার অবস্থান সু-দৃঢ়। এ ছাড়া এ বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব একজন লেখক, গল্পকার, অভিনেতা ও সাংবাদিক হিসেবেও বেশ পরিচিত। ১৯৯৬ সাল থেকে তার লেখালেখি শুরু। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৬/৭ শতাধিক ছড়া ও কবিতা লিখেছেন। যার মধ্যে দৈনিক আজাদী, দৈনিক প্রথম আলো, চট্টগ্রাম মঞ্চ, দৈনিক কর্ণফুলী সহ সন্দ্বীপের সোনালী সন্দ্বীপ, দ্বীপের কথা, উপনগর, সজাগ সন্দ্বীপ, দ্বীপের খবর, দ্বীপ জনতার ডাক, প্রভৃতি পত্রিকা ও অনলাইন ভিত্তিক পত্রিকায় তার প্রায় দু’শতাধিক কবিতা ছাপা হয়।

এছাড়া যৌথ কাব্যগ্রন্থ বের হয় ১৭ টি যার মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক কবিতা ছাপা হয়। আর তার একক কাব্য গ্রন্থ ‘‘ তোমাকে নি:সঙ্গ দেখতে চাই’তে ৮৫টি কবিতা স্থান পায়। বাদলের কবিতা চর্চা সূম্পূর্ণ তার নিজস্ব রুচি ও মনন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তার লেখনির ভাষা আবেগী ও গীতল। সহজ সাবলিল ভাষার ভাব ও বক্তব্য প্রকাশে অভ্যস্থ। শিল্পের আড়াল প্রকরনের অপ্রয়োজনীয় ধুম্রজাল সৃষ্টি করে পাঠককে কবিতার রস আস্বাদনে বাঁধার সামনে ফেলা তার উদ্দেশ্য নয়।

তাই, কথোপকথনের ভঙ্গিই অবলম্বিত হয়েছে তার কবিতা চর্চার ভাষা হিসেবে। এজন্যে, সব ধরনের পাঠক তার কাব্য সুধা পানে সক্ষম হবেন। তার কবিতার বিশাল জায়গা জুড়ে আছে, নারী, প্রেম বিরহ, প্রতারনা, ছলনা, শঠতা, স্বপ্নভঙ্গ, সুখ, দু:খর পাশা-পাশি আছে আশা ও উজ্জ্বীবনের কথা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা, স্বেচ্ছাচারিতা, ব্যক্তির কপটতা, সমাজের নানা মুখি অসঙ্গতিকে কবি, কবিতার অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে মরিয়া। ‘‘তোমাকে নি:সঙ্গ দেখতে চাই’’ কাব্য গ্রন্থে-সন্দ্বীপ ও দূর্যোগ, অম্লান একুশ, খুকুমনির প্রশ্ন, নববর্ষের ডাক, বৈশাখী ছড়া, স্মরনে ৭১’’ নির্বাচনে জিততে হলে, বিধাতার স্বজন প্রীতি, নারী, ঈদের ছড়া, হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নয়, প্রভৃতি ছড়া ও কবিতায় তার সাবলীল লেখনী পাঠককে সহজেই আন্দোলিত করবে। কবি বাদল রায় স্বাধীনের প্রকাশিত অনেক কবিতায় ইতিমধ্যেই কণ্ঠ দিয়েছেন ঢাকার বিশিষ্ট আবৃত্তিকার রাহীম আজিমুল ও পশ্চিম বঙ্গের বিশিষ্ট কবি, আবৃত্তিকার শিপ্রা পাল ও সাতক্ষিরার আবৃ্ত্তির শিল্পী আলমগীর ইসলাাম শান্ত।

এ তিন আবৃত্তিকারের কণ্ঠে বাদল রায় স্বাধীনের-‘তুমি দাড়িয়ে থাকা স্থানটি যেন পিতার কবর’, ব্যতিক্রমী উপহার, কল্পনার রং বাস্তব হলো, নারী নির্যাতন, সাদা কাফনই প্রকৃত বন্ধু, মায়ের পূজোয় দেবী তুষ্ট, তোমাকে নিংসঙ্গ দেখতে চাই, স্বাধীনতা হায় স্বাধীনতা, ইলিশ সমাচার, তোমার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, তুমি রাস্তায় বের হলে, টাকার কাব্যিক মুল্য,অন্তীম যাত্রা ও একান্ত ভাবনা, অন্য কবিতা নিষিদ্ধ, আমাকে কি আগুনে ঝলসে দেবে তোমরা কবিতার প্রকৃত ও বাস্তব প্রতিচ্ছবিই যেন ফুঠে উঠে। ‘তোমাকে নিংসঙ্গ দেখতে চাই’ এ কাব্য গ্রন্থ ছাড়া ইতিপূর্বে কবির আরো কয়েকটি যৌথ কাব্য গ্রন্থ’ বের হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘুড়ি, কানামাছি, বায়ান্নর রক্তে লেখা, কবি কণ্ঠ হার, কবি ও কবিতা, কাশফুল, মেঘকাব্য, একই বৃন্তের কবি, ছিন্ন বীনা, কবিতা কানন, কাব্যের তরঙ্গমালা, প্রেম ও দ্রোহ, ভালবাসার কাব্য, সবুজের বুকে লাল, শ্রাবণ সন্ধ্যা, বৃষ্টি ও প্রেমের কবিতা, শত পারিজাত অন্যতম। পাশা-পাশি তিনি অনেক ইস্যু ভিত্তিক ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছেন, তরঙ্গ, প্লাবন, ত্রি-নয়না এবং দুটি স্থানীয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন ২/৩ বছর।

ইদানিং কালে তিনি আর্ন্তজাতিক বাংলা কবি ও কবিতা, দুই বাংলার কবি ও কবিতা, বাংলাদেশ কবি সংসদ কলকাতা ও ঢাকা, সারস সাহিত্য সংসদ, বাংলাদেশ কবি সাহিত্য পরিষদ (বাস্ক্প) বাংলাদেশ সাহিত্য প্রেমী পরিষদ (বাসাপ), আমার সাহিত্য, সাহিত্যের খেয়াঘাট, দাঁড়িকমা প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশ সাহিত্য দর্পন (বাসাদ), সবুজ সংলাপ সহ অনেক গুলো অনলাইন গ্রুপে নিয়মিত লিখে সেরা কবির মর্যাদা অর্জন ও সম্মাননা পত্র গ্রহন করেন।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাব


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন