আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ভয়াবহ প্রতারণার নাম রূপায়ন

Published on 21 December 2016 | 5: 09 am

নাম রূপায়ন হাউজিং। শুধু নামেই সুন্দর। বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জমির মালিকানা নেই, তবু মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে রূপায়ন সিটি উত্তরার চটকদার বিজ্ঞাপন। ভুয়া স্বপ্ন দেখিয়ে চড়ামূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে ফ্ল্যাট। অথচ যৎসামান্য জমি কিনে রীতিমতো প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে। সবকিছু জানে রাজউক। কিন্তু তারাও চুপ।

কারণ এই অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রাজউকের কতিপয় দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী কর্মকর্তা। তাদের সমর্থন নিয়েই রূপায়ন জনগণের পকেট কাটার এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। উত্তরার প্রকল্প এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে এবং এ সংক্রান্ত নথিপত্র ঘেঁটে যুগান্তরের অনুসন্ধানে রূপায়ন সিটি উত্তরার সদর অন্দরের ভয়াবহ প্রতারণার তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জানা গেছে, রাজউকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অন্যের জমি দেখিয়ে প্রকল্পের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন নেয়া হয়েছে। অসদুপায়ে নেয়া হয়েছে ড্যাপ রিভিউ কমিটির ছাড়পত্র। এক অথরাইজড অফিসারের এলাকার প্রকল্পের অনুমোদন নেয়া হয়েছে অন্য অথরাইজড অফিসারের কাছ থেকে। মোট কথা পদে পদে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রূপায়ন সিটি কর্তৃপক্ষ এবং রাজউকের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

রূপায়ন সিটি উত্তরার স্বত্বাধিকারী ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল মুখোমুখি হতে চাননি। জমির মালিকানা সংক্রান্ত (দলিল, ডিসিআর ও নামজারি) কাগজপত্র দেয়ার কথা বলে পনেরো দিন সময়ক্ষেপণ করেন। মঙ্গলবারও মহাখালীর রূপায়ন টাওয়ারে গিয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। অথচ তিনি ওই সময় অফিসে উপস্থিত ছিলেন।

কয়েক মাসের দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা আবাসিক এলাকার ১২ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন তুরাগ থানাধীন নলভোগ মৌজায় সামান্য কিছু জমি কিনেছে রূপায়ন সিটি উত্তরা কর্তৃপক্ষ। রূপায়ন সিটি উত্তরা নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজও প্রাথমিকভাবে শুরু করেছে। কিন্তু শুরুতেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় বলা হচ্ছে- ১৩৪.৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে ‘মেগা গেইটেড কমিউনিটি’ প্রকল্প। কিন্তু এর ধারেকাছেও কোনো জমি নেই। থোক থোক করে কিছু জমি কিনে পুরো প্রকল্পের জমি রাজউক অনুমোদন দিয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। ওদিকে রাজউকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মাত্র ৫৯ বিঘা জমি বা দুটি ফেজের অনুমোদন পেয়েছে রূপায়নের উত্তরা হাউজিং প্রকল্প। যদিও রাজউকের এ তথ্যও সঠিক নয়। কেননা রাজউক এ বিষয়ে যুগান্তরকে কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে চায়নি। ফলে রাজউক ও হাউজিং কোম্পানির দু’ধরনের বক্তব্যে এবং তথ্য প্রদানে গড়িমসি সন্দেহের বিষয়টিকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। আর এভাবে প্রতারণার ধরন দেখে সহজে অনুমান করা যায়, গ্রাহকের টাকা নিয়ে হায় হায় কোম্পানির মতো এক সময় উধাও হয়ে যাবে রূপায়ন হাউজিং। তখন শত শত মানুষকে পথে বসতে হবে।

এদিকে প্রকল্প অনুমোদন সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে রূপায়ন দাবি করছে, তাদের পুরো প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে রাজউক। যদিও জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র যুগান্তরকে এখনও তারা সরবরাহ করেনি। কাগজপত্র দিতে কয়েকবার দিন-তারিখ নির্ধারণ করে পরে তারা তা পিছিয়ে দেয়। শেষবার ধরিয়ে দেয়া হয় এ সংক্রান্ত রাজউকের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন কাগজপত্র, যা মালিকানা শর্ত নিশ্চিত করে না।

এক অভিযোগে জানা গেছে, রূপায়ন হাউজিংয়ের আবাসিক জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে বাণিজ্যিকীকরণ সংক্রান্ত ড্যাপ রিভিউ সংক্রান্ত প্রকাশিত গেজেটে নলভোগ মৌজার আরএস-৮০০, ৮০১, ৮০২, ৮০৩, ৮০৪, ৯৫৩, ৯৫৬, ৯৫৭, ৯৫৮, ৯৫৯, ৯৬০, ৯৬১, ৭৯৩, ৭৯৫ এবং ৭৯৭ দাগের জমির মালিক হরিরামপুর ইউপির সাবেক সদস্য মোস্তফা জামান। এসব জমি সে বিক্রি না করলেও রূপায়নের মালিক তা নিজের নামে দেখিয়ে অনুমোদন করে নিয়েছে। আর এ অবৈধ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছে রাজউকের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

হরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক এ ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, রানাভোলা মৌজার-সিএস দাগ-১৬৯ ও ১৬৮ এর ১১.৪৫ শতাংশ, নলভোগ মৌজার-৬০০, ৬০১, ৬০২, ৫৯৯, ৬২৫, ৬২৬, ৬১৮, ৬১৭, ৬১৯ নম্বর দাগের তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ১৩৮ কাঠা জমির মধ্যে ৫৩.৭৫ কাঠা জমির সমঝোতা চুক্তি করে এবং বাকি জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। অথচ এর মধ্যে ওই জমি নিজেদের দেখিয়ে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র করিয়ে নিয়েছে রূপায়ন। এর বাইরে রানাভোলা মৌজার-সিএস ১৭৯ দাগের ২৬.৪৩ শতাংশ জমি কোনো ধরনের বায়না ছাড়াই রূপায়ন হাউজিংয়ের সীমানা বাউন্ডারি দিয়ে দিয়েছে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে রূপায়ন হাউজিংয়ের সঙ্গে সাবেক এই ইউপি সদস্য মোস্তফা জামানের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

রূপায়নের প্রতারণার শিকার মোস্তফা জামান জানান, প্রকল্পের লে-আউট করা হয়েছিল ১১৪ বিঘা জমি টার্গেট করে। আর এখন বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে ১৩৪.৫ বিঘা জমির কথা বলে। প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি এখনও তারা কিনতে পারেনি। অথচ মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে প্রকল্প এলাকার মোট আয়তনের ৬৩ ভাগ জায়গা খোলা রাখা হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি একেবারে অসম্ভব। মূলত এ ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে রূপায়ন হাউজিং।

এ প্রসঙ্গে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম জানান, রূপায়নের এই ঘোষণা আদৌ সত্য ও বাস্তবসম্মত নয়। তারা এটি কিভাবে করবে তা তাদের বিষয়। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের লে-আউট ও মূল লে-আউট সম্পর্কে জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞাপনে যে লে-আউট নকশা দেখানো হচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক রয়েছে। কেননা এত কম জমিতে এত বিশাল লে-আউট করা সম্ভব নয়। অনেক কিছু বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন তারা। এতে প্রবাসী গ্রাহকরা বেশি প্রতারিত হবে বলে অভিমত তার।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে দেখানো হচ্ছে, প্রকল্পে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন লেক এবং প্রশস্ত রাস্তা। বাস্তবতা হল- প্রকল্পের পাশ দিয়ে প্রবাহিত সরকারি খালকে তারা নিজেদের প্রকল্পের লেক হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আর ড্যাপের রাস্তাকে নিজেদের প্রকল্পের রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করার অপচেষ্টা অব্যাহত আছে। বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট, ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট, সুপার শপ, শোরুম, দোকান, ফাইভ স্টার হোটেল, অফিস স্পেস থাকবে ওই প্রকল্পে। ডিজিটাল প্রদর্শনীতে সুবজ উদ্যান, বিস্তৃত খালি জায়গা দেখানো হচ্ছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।

এদিকে ভুক্তভোগীদের মধ্যে নলভোগ পূর্ব পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা হাজী মনির হোসেন জানান, ২০০৩ সালে ৪৮ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি বায়না করেছেন রূপায়নের কাছে। তাকে সামান্য কিছু টাকা পরিশোধ করেছে রূপায়ন হাউজিং। এরপর কয়েক বছর ধরে তাকে টাকা দেবে দেবে আশ্বাস দিয়ে আসছে। কিন্তু তার পাওনা টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। সর্বশেষ তাকে তিন মাসের মধ্যে টাকা দেয়ার কমিটমেন্ট করলেও তা দেয়নি। টাকার জন্য রূপায়নে ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করে না। তিনি আরও জানান, বাপ-দাদার সম্পত্তি আমরা বিক্রি করতে চাইনি। কিন্তু রূপায়ন কর্তৃপক্ষ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের জমি কিনে নিয়েছেন। এ সময় রূপায়ন কিছু পিডিসি (পোস্ট ডেটেড চেক) দিয়েছে। চেকগুলো নগদায়ন না হওয়ায় তিনি রূপায়নের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলা করেছেন। ইতিপূর্বে মোস্তফা মেম্বারও রূপায়নের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

নলভোগ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার জাকির হোসেন জানান, ২০০৯ সালে অবসরের টাকা দিয়ে নলভোগে ১০ কাঠা জায়গা কিনেছেন তিনি। টিনশেডের ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। আর সামনে একটি মুদি দোকান করে ব্যবসা করছেন। তিন ছেলের জন্য বাবার পক্ষ থেকে এতটুকুই সম্পত্তি রয়েছে মাত্র। কয়েক মাস আগে রূপায়ন হাউজিংয়ের দালালরা তার কাছে জমি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসে। কিন্তু তিনি রাজি হননি। রূপায়নের প্রতারণা সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে বলেন ওই যে দেখুন, (কিছুদূর সামনের একটি দেয়াল) ওই জমিটি না কিনেও সেখানে রূপায়ন সিটির নামে রঙ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো এলাকা রূপায়ন কিনে নিয়েছে দেখিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা যে কত বড় প্রতারণা তা কেউ চোখে না দেখলে বুঝবেন না। তার মতে, যারা এখানে ফ্ল্যাট বুকিং দিচ্ছেন তাদের শুধু প্রকল্পের নকশা দেখে বুকিং দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। প্রকল্প এলাকায় এসে বিস্তারিত জেনে-বুঝে ও জমির মালিকানা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া উচিত।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের শুরুতে ফুলবাড়ীয়ার বাসিন্দা আলহাজ আবদুল কাদিরের ১০ শতাংশ জমি দখল করে নেয় রূপায়ন হাউজিং লিমিটেড। স্থানীয় লোকজনকে ধরে অনেক চেষ্টা করেও তিনি জমি উদ্ধার কিংবা জমির টাকা আদায় করতে পারেননি। ২০১৩ সালে রূপায়ন হাউজিংকে উকিল নোটিশ করলেও এ ব্যাপারে কোনো সাড়া দেয়নি কর্তৃপক্ষ। অথচ ফুলবাড়ীয়া কাঠপট্টি পুরাতন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার জমিতে বাউন্ডারি তুলে দিয়েছে রূপায়ন।

রূপায়ন সিটির প্রধান গেট সংলগ্ন ১৩ কাঠা জমি রয়েছে হরিরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল মালেকের। ২০০৪ সালে তার এ জমি কিনতে বায়না করে রূপায়ন উত্তরা সিটি। সামান্য কিছু টাকা দেয়। এরপর পার হয়েছে এক যুগ। কিন্তু পাওনা সমুদয় টাকা বুঝে পাননি। বাধ্য হয়ে তিনিও উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। কিন্তু কোনো জবাব পাননি। এরপর মামলা করেছেন। কয়েক বছর ধরে মামলা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মাস্তানদের লেলিয়ে দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে যুগান্তরের প্রতিবেদককে বলেন, জমির নায্যমূল্য না দিলে জীবন দিয়ে দেব। কিন্তু মূল্যবান জমি দেব না।

১৫৯ রানাভোলার বাসিন্দা সুরুজ জামান জানান, রূপায়নের সঙ্গে যৌথভাবে তার ৫৭ শতাংশ জায়গা ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি করেন ২০০৯ সালে। চুক্তির শর্ত ছিল পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে তাকে তার প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেবে রূপায়ন। অন্যথায় প্রতি বর্গফুটের বিপরীতে ১৫ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও এসব শর্ত মানতে নারাজ রূপায়ন। বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার আবেদন-নিবেদনে সাড়া দিচ্ছে না রূপায়ন কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, রূপায়ন সিটি উত্তরা প্রকল্পের আবাসিক ফেজে ৮টি ১০ তলা ভবন ও স্কুল-মসজিদের নকশা অনুমোদন করেন রাজউকের উত্তরা জোনের অথরাইজড তৎকালীন অথরাইজড অফিসার মিজানুর রহমান। যদিও এটি তার এলাকার বাইরের প্রকল্প। জমির মালিকানা যাচাই-বাছাই না করেই তিনি নকশা অনুমোদন করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নকশা অনুমোদন করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অথরাইজড অফিসার মিজানুর রহমান জানান, ভূমি ছাড়পত্রের শর্ত অনুসরণ করে রূপায়ন প্রকল্পের নকশা অনুমোদন করেছেন তিনি। ক’টি প্রকল্পের নকশা অনুমোদন করেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার সময়ে দুটি এবং আগে আরও দুটির নকশা অনুমোদন করা হয়েছে।’

রূপায়ন হাউজিংয়ের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ জানান, রূপায়ন সিটি উত্তরার চারটি ফেজের মধ্যে মাত্র দুটি ফেজের ভূমি ছাড়পত্র দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি আবাসিক ও একটি বাণিজ্যিক। তবে বাণিজ্যিক ফেজের বিষয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজউকের উত্তরা জোনের বর্তমান অথরাইজড অফিসার আশরাফুল ইসলাম জানান, রূপায়নের অ্যাপার্টমেন্ট ও কমার্শিয়াল প্রকল্পের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়েছে তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগে। সে কারণে সেটা কিভাবে অনুমোদন পেয়েছে- তা তিনি বলতে পারেন না। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু করলে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান থাকবে তাদের। তবে তিনি জানান, দায়িত্ব নেয়ার পর রূপায়নের দুটি প্রকল্পের নকশার কাগজপত্র তার অফিসে পেয়েছেন। বাকি প্রকল্পগুলো অনুমোদন হলে তার এখানে কাগজপত্র থাকত। যেহেতু নেই, তাই তিনি এ বিষয়ে বলতে পারবেন না।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) আবদুর রহমান জানান, রূপায়নের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কতটুকু অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেটি তার বিস্তারিত মনে নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনে বাড়িয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তার কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী জানান, আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগে রূপায়ন সিটি উত্তরা অনুমোদন পেয়েছে। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে দুদকের গণশুনানিতে ওই প্রকল্পের অনুমোদন সংক্রান্ত কিছু অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব আমরা খোঁজখবর করে দেখছি। এছাড়া অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রূপায়নের বক্তব্য : রূপায়ন গ্রুপের উপদেষ্টা সাহাদাত হোসাইন সেলিম জানান, যথাযথ নিয়ম মেনে রূপায়ন হাউজিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের ভেজাল বা অনিয়ম নেই। তবে ওই প্রকল্পের জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে দেবেন বললেও পরবর্তী সময়ে আর দেননি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন