আজ রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আজ এরশাদের নেতৃত্বে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন ১৮ শীর্ষ নেতা – পাঁচ দফা প্রস্তাব দেবে জাতীয় পার্টি

Published on 20 December 2016 | 4: 48 am

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধান মেনে আইন প্রণয়নের দাবি জানাবে জাতীয় পার্টি। নতুন বছরের শুরুতে দশম জাতীয় সংসদের যে অধিবেশন বসবে, সেই অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের জন্য বলবে দলটি। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন ইস্যুতে ৫ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরবে তারা। আজ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন।

এ প্রসঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রথম ধাপ হচ্ছে- স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া। যদি যথাযথ আইনি কাঠামো এবং তার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাদার ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায়- তাহলেই বিতর্কমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে পারে। আমরা এ কথাটাই রাষ্ট্রপতিকে বলব।’ প্রতিনিধি দলে আরও থাকছেন- জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার, জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু, কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, ফখরুল ইমাম ও এসএম ফয়সল চিশতীসহ দলের ১৮ জন শীর্ষ নেতা।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সোমবার যুগান্তরকে বলেন, পার্টি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতারা আজ বিকাল তিনটায় প্রথমে কাকরাইলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন। সেখান থেকে বিকাল ৪টার দিকে বঙ্গভবনে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সব সময়ই গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন আশা করে। আমাদের দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নয় বছর দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা যে প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করব, আমরা বিশ্বাস করি এ প্রস্তাবনা গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে গণতন্ত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনই আমাদের মূল চাহিদা।’

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে পাঁচ দফাসহ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও তাদের নিজস্ব বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা, নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীন থাকে সেজন্য নির্বাচন কমিশনের সচিব এবং কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষমতা কমিশনের হাতে দেয়া, ইউনিয়ন-উপজেলা এবং সংসদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিয়োগের একক ক্ষমতাও তাদের হাতে দেয়া, সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ইসিকে প্রশাসনিক ক্ষমতা দেয়াসহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরবে জাতীয় পার্টি।

নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে পাঁচ দফা প্রস্তাবনা হল- সংবিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন, সেখানে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা, কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয়, যা নিয়ে বর্তমান সংসদেই আইন পাস করার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনারদের বিষয়ে নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স, পেশাগত যোগ্যতা, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়তা না থাকা, অন্য অফিসে নিয়োগে বিধিনিষেধ ও চারিত্রিক স্বচ্ছতার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে লিখিত প্রস্তাব দেবে জাতীয় পার্টি। এতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় পার্টি মনে করে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাটি চলে আসছে ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ ভারতের আইন অনুসারে। এই আইনের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে দলটির প্রস্তাব হচ্ছে- সংবিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন। সেখানে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখার বিধান রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনের আলাদা সচিবালয় থাকতে হবে। বর্তমান সংসদেই এই আইন পাস করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের কথাও বলবে জাতীয় পার্টি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন