আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রেক্ষিত : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন ও ছায়া বাবাদের কেরামতি!

Published on 19 December 2016 | 4: 26 pm

।। প্রকৌশলী শামছুল আরেফিন শাকিল ।।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে একজন সাধারণ সমাজ সচেতন মানুষ হিসাবে আমার ব্যাক্তিগত আগ্রহ বা কৌতূহলবোধ বিভিন্ন কারনে তেমন নাই, সে ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার অবস্থান অনেক আগেই ক্লিয়ার করেছিলাম।
আমার কাছে যে বিষয় গুরুত্বহীন, বেরসালো এবং বিশেষ আগ্রহের জন্মদেয়না তা নিয়ে কিছু লেখা বা বলা আমার স্বভাব বিরুদ্ধ।

বেরসিক এ নির্বাচনকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত খোমা দেখানো নানান পোষ্ট হাস্যরস ও বিনোদনের দারুন খোরাক যেমন যোগাচ্ছে,
তেমনি কিছু কিছু মানুষের পোষ্ট ভীষণ ভাবায়, মনে যাতনা জাগায় এবং শাণিত চেতনায় ক্ষুরধার জ্বালা ধরায়। প্রিয় কিছু ভালো মানুষের নিঃশব্দ যাতনা বা কষ্ট আমাকে ভীষণ তাড়া করছে কিছু লিখতে কিছু বলতে –

আসছে ২৮ ডিসেম্বর, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ নম্বর সন্দ্বীপ ওয়ার্ডে সদস্য পদে কে বা কারা প্রার্থী এবং কোন বিশেষ যোগ্যতায় হয়েছেন কিংবা ছায়া বাবারা রাজনীতির কোন ‘হালখাতা’ খুলে হিসাবের নানান ছক আঁকছেন তা নিয়ে আমি বলার কে?!
দেয়ালের ওপারের হিসেবের সে জটিল অংক ও সমীকরণ মিলানোর মত দক্ষতা যোগ্যতা কোনটা আমার নাই।

চলমান নির্বাচনী ডিজিটাল বায়োস্কোপে খোলা চোখে যা দেখি, যা বুঝি সবকিছু নিয়ে না বললেও একটি প্রসঙ্গে ছোট করে কিছু বলা উচিৎ মনেকরি।

আইন অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি জেলায় ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন। প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য। এসব ভোটারদের ভোটেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন।

সারাদেশে স্থানীয় সরকারের চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এ নির্বাচনে ভোট দেবেন।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা হলো ২৭০৬ জন এবং ৩ নম্বর সন্দ্বীপ ওয়ার্ডে মোট ২০৫ জন জনপ্রতিনিধি ভোটার রয়েছেন, যারা সরাসরি ভোটে বর্তমান ৫ জন সদস্য প্রার্থী থেকে নির্বাচিত করবেন তাদের প্রতিনিধি।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ইতিমধ্যে পূর্বের প্রশাসক এম এ সালাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন এ নিয়ে মন্তব্য থেকে আপাদত বিরত রইলাম।

সন্দ্বীপের ২০৫ জন ভোটার কাকে কোন বিবেচনায় কোন যোগ্যতায় সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করবেন সে প্রসঙ্গ না বাড়িয়ে ১ নং ওয়ার্ড (সন্দ্বীপ-সীতাকুন্ড-মিরশরাই)সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের দিকে মূল আলোচনায় দৃষ্টিপাত করা যাক।

সন্দ্বীপ-সীতাকুন্ড-মিরশরাই এলাকার মহিলা সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মিরশরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ সাহেবের অনুগত ও আস্থাভাজন রেহানা বেগম।
গুরুত্বপূর্ণ এপদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মানসে সন্দ্বীপের একজন মহিলা প্রার্থী মনোয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন,
তিনি আমাদের সবার পরিচিত মুখ রুমানা নাসরিন রুমু আপা।

সদা হাস্যোজ্জল ও বিনয়ী রুমানা নাসরিন রুমু আপা ব্যাক্তিগত,পারিবারিক এবং সব পরিচয়ের উদ্ধে উঠে তার সততা অনুকরনীয় মানবিক ব্যাক্তিত্ব এবং সমাজের প্রতি ভালবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে কাজের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সমাজে তার নিজস্ব একটা পরিচয়, অবস্থান এবং গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

অনেক পরিচয়কে পেছনে ফেলে তিনি আজ একজন নিঃস্বার্থ সমাজ সেবিকা এবং আলোকিত নারী নেত্রী। জাত-পাত দল-মতের উদ্ধে উঠে এ কথা সবাই স্বীকার করতে বাধ্য।
সবার প্রিয় এ মানুষটি সরল মনে সরল হিসাবে সবার ভালবাসা এবং সব মহলের সাপোর্ট নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে পা দিয়েই ছায়া বাবাদের অদৃশ্য কারামতিতে পা ফসকে ছিটকে পড়লেন! যা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

নির্বাচনী হলফ নামায় সাক্ষীর স্বাক্ষর না থাকার ঠুনকো অযুহাতে সবাইকে হতভাগ করে মনোয়ন পত্র বাতিল ঘোষনা করেন নির্বাচনন কমিশনারের দায়িত্ব প্রাপ্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।
পায়ের চিকিৎসা নিতে দেশের বাহিরে অবস্থান করলেও চিকিৎসা শেষ না করে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার জন্যে ৮ ডিসেম্বর মনোয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং বিজ্ঞ আইনজীবিদের মতে আপিলের রায় রোমানা নাছরিনের পক্ষে যাওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা ছিল এবং আবার রিভিউ করার সুযোগ ছিল কিন্তু কমিশনার সে সুযোগ দিলেন না!

নির্দিষ্ট সময় আয়কর রিটার্ন না দেয়ায় সেদিন আরও ৮ প্রার্থির মনোয়ন বাতিল ঘোষিত হয়।
এরমধ্যে ৬ জনের মনোয়ন বাতিল আদেশ বহাল রাখলেও অবাক করা সংবাদ ছিল, নির্দিষ্ট সময় আয়কর না দিলেও সংরক্ষিত মহিলা ১ আসনের রোমানা নাসরিনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রেহানা আকতারের মনোয়ন বৈধ ঘোষনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক।

জানাযায়, রেহেনা বেগম মনোয়ন পত্রে ঘোষনা দিয়েছিলেন তিনি আয়কর প্রদানকারিণী নন এবং তিনি আয়কর প্রদান করেন না। পরে আপিল করে আবার ঘোষনা দেন আমি আয়কর দিয়েছি!
অভিযোগ আছে, ভুয়া আয়কর টিন ম্যানুয়াল সার্টিফিকেট বানিয়ে তিনি তা জমা দিয়েছেন ! লোকমুখে রটে যায়, তার ছেলে সরকারি এক প্রভাবশালী সংস্থায় কর্মরত থাকায় সে প্রশাসনের উপর সরাসরি অবৈধ প্রভাব খাটিয়েছেন রুমানা নাছরিনের মনোয়ন বাতিল করার জন্যে এবং এক বড় নেতার প্রভাব ও সেখানে ছিল।

অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বেইনসাফি ও লজ্জাজনক এব্যাপারে রুমানা নাছরিন রুমু আপার সাথে একান্ত আলোচনায় আমি জানতে চেয়েছিলাম –
আপা আপনার মনোয়ন বাতিলের পেছনে কারো হাত আছে কিনা?

তার নিজস্ব ভাষায় উত্তর ছিল,
”কারো না কারো হাত তো অবশ্যই আছে। তবে এভাবে না করে আগে জানালে আমি মনোনয়ন পেপার জমা দিতাম না। আর অজনপ্রিয় একজন মহিলা এত প্রভাবশালী তাও আমি জানতাম না। সন্দ্বীপের কিছু জনপ্রতিনিধি নিজেদের স্বার্থে আমার বিরোধীতা করেছে।”

অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে লিখেন –
ওনার ছেলে ফোন করেছিল কিনা আমি জানিনা। তবে সে এস এস এফে আছে। আমি আমার দলকে ভালবাসি। বঙ্গবন্ধু আমার রাজনীতির আদর্শ ও শেখ হাসিনা আমার রাজনীতির চালিকাশক্তি ও দেশ গড়ার কারিগর। এর মাঝে কিছু নোংরা,অসৎ ,ন্যায়নীতি বর্জিত, লোভী, লোকজন দলের ক্ষতি করে যাচ্ছে দেশের ক্ষতি করে যাচ্ছে। তারমাঝে সন্দ্বীপ অন্যতম নোংরামির চুড়ান্ত পর্যায়ে।
তোমাদের ভালবাসাই আমার আগামীদিনের পথ চলার শক্তি। আমার সাথে যে অন্যায় হল তা নিয়ে লিখলে খুশী হব। আমি সততা ও সুন্দরের পক্ষে।

মার্জিত রুচির মৃদু ভাষী ও রাজপথের পরিচ্ছন্ন একজন নারী নেত্রী নিজ দল এবং নিজস্ব গন্ডির প্রিয় মানুষদের কাছ থেকে কতটা প্রতারণা বা আঘাত পেলে এভাবে বলতে পারেন? ফেসবুকে তার সমর্থক কর্মী ও নেতাদের ক্ষোভ ও হতাশাজনক পোষ্ট দেখে কি রাজনৈতিক রাজাদের চেতনায় আঘাত করেনা?

সন্দ্বীপ ও সন্দ্বীপের মানুষের অধিকার ও ন্যায়সঙ্গত দাবী নিয়ে যে কোন সময় ও পরিবেশে আমি লিখতে ও বলতে সঙ্কোচ করিনা, পাছে লোকে কিছুভাবে তা নিয়ে ভাবিনা। এক্ষেত্রে, আমি অনেকবেশী আঞ্চলিক।

রুমানা নাছরিনের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে যদি সন্দ্বীপের মেয়ে বা সন্দ্বীপের পুত্রবধূ না হতেন,
তার অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষার সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সামনে চলার পথে এমন জুলুম কোন ছায়াবাবারা চালাতে পারত না এতে আমি শতভাগ নিশ্চিত।
এদিকে সন্দ্বীপের বাঘ ভাল্লুকেরা নদীর এপাড়ের রাজনীতিতে আসেলেই ‘মেছো বিড়াল’ তা আজ আবার প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণিত।

রাজনীতিতে বনিয়াদী পরিবারের সন্তান এবং শিক্ষিত, মেধাবী ও মার্জিত চরিত্রের মানুষদের পৃষ্ঠপোষকতা দিন উতসাহিত করুন। এতেই রাজনীতির জয় হবে, জয় হবে সভ্যতা ও মানবতার।
১৮-১২-১৬ইং


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন