আজ শনিবার, ১৮ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



“জাগো, জাগিয়ে দাও” : বাংলাদেশ সাহিত্যচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র চট্টগ্রামের বিজয় দিবস পালন

Published on 19 December 2016 | 8: 23 am

সোনালী নিউজ প্রতিবেদক :: “জাগো, জাগিয়ে দাও” খুব ছোট অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যময় এক শ্লোগান। যে শ্লোগানে বদলে গিয়ে সাহিত্যের আলোয় সমাজ হবে মহিয়ান। চমৎকার এ শ্লোগানটিকে বুকের গহীনে ধারন করে নবীণের উদ্যম আর প্রবীণের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সাহিত্য জগতে নতুন জোয়ার সৃষ্টির প্রত্যয়ে দুর্বার অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে “বাংলাদেশ সাহিত্যচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম”।

গত ৩১ মার্চ ১৬ তারিখে যাত্রা শুরু করা মাত্র ৯ মাসের পথচলা একটি সংগঠনের জন্য খুব অল্প সময় হলেও চট্টগ্রামের সাহিত্য অঙ্গনে তারা বেশ সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। গেল ১৬ ডিসেম্বর দেশের ৪৫তম বিজয় দিবসে তাদের অনাড়ম্বর আয়োজন চট্টগ্রামের অনেক ঐতিহ্যবাহী ও প্রথিতযশা সংগঠনের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের চাইতেও চমকৎপ্রদ হয়েছে মর্মে উপস্থি অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন। বিজয় দিবসের সোনালী প্রভাতে নগরীর নিউমার্কেট চত্বর হতে স্বতস্ফুর্ত বিজয় র‌্যালীর মাধ্যমে শুরু হয় তাদের কর্মসূচী।
দেশের মানচিত্র খচিত ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় পুষ্পস্তবক এবং নান্দনিক ব্যানারসহ সমবেত কন্ঠে জাতিয় সঙ্গীত ও দেশের গান গাইতে গাইতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উপস্থিত হয় মনোজ্ঞ র‌্যালী। ধীরে ধীরে সুশৃঙ্খলভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন সগঠনের সদস্যবৃন্দ।
পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে একটি স্বতন্ত্র স্মৃতিসৌধ স্থাপনে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, চট্টগ্রামের মাননীয় মেয়র ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ বিষয়ে নিউজ২৪ চ্যানেলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংগঠনের সহ-সভাপতি এম. এ. হাশেম আকাশ দাবী করেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকে শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধের প্রার্থক্য না জানলেও শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মর্মে মর্মে অনুভব করছে চট্টগ্রামে একটি স্বতন্ত্র স্মৃতিসৌধের প্রয়োজনীয়তা। স্মৃতিসৌধের অভাবে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাচ্ছে নগরীর সচেতন নাগরিক সমাজ।
এছাড়াও এ বিষয়ে দাবী ব্যক্ত করেন অধ্যাপক শাহীন আক্তার খান এবং যুগ্ম-সাহিত্য সম্পাদক বেগম রুমী চৌধুরী। চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজের অন্তরের অনুভুতিই প্রকাশ করলেন তারা। র‌্যালী ও পুস্পস্তবক অর্পন অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন সহ-সভাপতি এম.এ.হাশেম আকাশ ও অধ্যাপিকা বেগম শাহিন আক্তার খান এবং সাধারণ সম্পাদক  আকবর হোসাইন।
এছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তা যাদের বিশেষ তৎপরতায় কর্মসূচী সফল হয়েছে তাদের মধ্যে বেগম রুমী চৌধুরী, কান্তা বড়ুয়া, লিও রিয়াদ, খালেদ রাব্বি, জসিম উদ্দিন তুহিন, তরুন চক্রবর্তী, জসিম উদ্দিন খান, জহির মাহমুদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংগঠনটি এ অল্প সময়ের মধ্যে তাদের ১৫ তম সাহিত্য আড্ডা সম্পন্ন করেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংগঠনের সাহিত্যগ্রুপের সরব তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ও মাসিক সেরা গল্প/কবিতা নির্বাচন এবং নির্বাচিত লেখা অনলাইন নিউজ ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশের মাধ্যমে নবীন লেখকদের প্রনোদনা প্রদানের চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
বিভিন্ন অনলাইন নিউজে সদস্যদের গল্প/কবিতা নিয়মিত প্রকাশ ছাড়াও প্রিন্ট মিডিয়া হিসাবে দৈনিক আজাদী, দৈনিক শাহ-আমানত, দৈনিক পূর্বদেশ, মাসিক সোনালী সন্দ্বীপসহ অনেক পত্রিকায় সদস্যদের লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। তাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ সংগঠন একদিন দেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন আলো ছড়াবে এবং সামাজিক জাগরণে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে এ বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন