আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিএমএ নির্বাচন : অবশেষে খাস্তগীরেই সমাধান ।। উৎসবমুখর নির্বাচন চায় প্রশাসন-পুলিশ

Published on 19 December 2016 | 7: 20 am

অবশেষে ডা. খাস্তগীর সরকারি স্কুলেই সমাধান মিলেছে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার নির্বাচনী জটিলতার। নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে এই স্কুলটি নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। যা মেনে নিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্যানেলই। এর আগে ভেন্যু জটিলতার কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রধান ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার পদত্যাগ করে বসেন। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পর ভেন্যু নিয়ে দুই প্যানেল একমত হতে না পারলে একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কমিশনের বাকি সদস্যরাও। তবে গোটা কমিশনকে আর পদত্যাগ করতে হয়নি। এর আগেই নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে নির্ধারণ করে দেন প্রশাসন ও পুলিশ। প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্যানেল এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাঁর স্বপদে ফিরেছেন। আর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তৎপর হয়েছেন চার সদস্যের পুরো নির্বাচন কমিশন। এদিকে শুধু ভেন্যু নির্ধারণই নয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছেন প্রশাসন ও পুলিশ সংশ্লিষ্টরা। তাঁরাও চানপেশাজীবি চিকিৎসকদের এ নির্বাচনটি উৎসবমুখর হোক।

অন্যদিকে, বিএমএ’র নির্বাচনী ইতিহাসে এবার প্রথমবারের মতো ম্যাজিস্ট্রেট ও সিসি ক্যামেরা বসতে যাচ্ছে ভোট কেন্দ্রে। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য জেলাপ্রশাসন ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ প্রশাসন বরাবর কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ডা. কল্যাণ বড়ুয়া আজাদীকে বলেনভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য আমরা জেলাপ্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। আর সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

যদিও ম্যাজিস্ট্রেট ও সিসি ক্যামেরার সংখ্যা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি বলে জানান তিনি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন সার্বিক ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও অভিমত নির্বাচন কমিশনের এই সদস্য সচিবের।

কমিশনের তথ্য মতেকেন্দ্রে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে জেলা প্রশাসনই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবে। আর একই ভাবে সিসি ক্যামেরা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করার বিষয়টি দেখবে পুলিশ প্রশাসন।

ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে কমিশনের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। কেন্দ্রে একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হতে পারে জানিয়ে গতকাল রাতে জেলা প্রশাসক আজাদীকে বলেন– ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যা যা করতে হয় আমরা এর সবই করবো। আমরা চাইচিকিৎসকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে যাবেন। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সেদিকে আমাদের সতর্ক অবস্থান থাকবে।’ একই মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহারও। তিনি আজাদীকে বলেনপ্রয়োজন হলে কেন্দ্রে অবশ্যই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। তবে শুধু সিসি ক্যামেরা স্থাপন নয়, বিএমএ’র এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। কোন ধরণের অরাজক পরিস্থিতি আমরা বরদাস্ত করবো না। আমরা চাইডাক্তাররা যেনো ভয়ভীতিহীন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারে।’

এদিকে, পুলিশপ্রশাসন কর্তৃক ভেন্যু নির্ধারণের পর প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্যানেলের মাঝেও নির্বাচনী দ্বন্দ্বের উত্তাপ অনেকটা কমেছে। অভিযোগের তীর ছোড়াছুড়িও নেই এখন আর। দুই পক্ষের নেতাকর্মীরাই এখন মনোযোগ দিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। অবশ্য, দুই পক্ষই বলছেনতারাও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান। আর পুলিশপ্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁরা এখন অনেকটা আশ্বস্তবোধ করছেন।

নিরপেক্ষ ভেন্যু ও পুলিশপ্রশাসনের ভূমিকাকে ইতিবাচক চোখেই দেখছেন ডা. নাসিরডা. মিনহাজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেননিরপেক্ষ ভেন্যুর জন্য আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি। এখন যে ভেন্যুটি নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আর পুলিশপ্রশাসন এখন পর্যন্ত যে ভুমিকা, সেটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। আমরা চাই ভোটের ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুলিশপ্রশাসনের এই অবস্থান ও ভূমিকা অব্যাহত থাকুক। আর নির্বাচন নিয়ে এখন কোন ধরণের সংশয় নেই বলে অভিমত ডা. মুজিবডা. ফয়সাল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ডা. মুজিবুল হক খানের। তিনি বলেনকোন কিছু নিয়েই আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনে চিকিৎসকরা তাঁদের পছন্দের প্রাথীকে ভোট দিয়ে যাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, আগামী ২২ ডিসেম্বর পেশাজীবি চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ’র এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর নির্বাচনী ভেন্যু হিসেবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব পার্শ্ববর্তী ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে চূড়ান্ত করেছে পুলিশপ্রশাসন। সে হিসেবে চট্টগ্রামের মোট ৪ হাজার ৪৪২ জন ভোটার এ কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য সরকারি স্কুলটি জেলাপ্রশাসক কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হাসমত জাহান।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন