আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



কেউ রইলো না আদিয়াতের

Published on 19 December 2016 | 7: 16 am

এ কোল ও কোল ঘুরছিল দুই বছরের শিশু আদিয়াত। কান্না কিছুতেই বন্ধ হচ্ছিল না তার। মাবাবা যে তাকে আর আদর করবে না, তা বুঝার বয়স হয় নি আদিয়াতের। তবে ঘুম ভাঙলেই সে মা বাবাকে দেখতে পেত। কিন্তু আজ এতোটা সময় পেরিয়ে গেলেও মা বাবাকে দেখতে পাচ্ছে না। চারপাশে অনেক মানুষ। তবু এদিক ওদিক তাকিয়ে কোথাও সেই মুখ দুটি খুঁজে পাচ্ছিল না আদিয়াত। ভোরে আগুন লাগতেই সৈয়দ আহমদ ও রীনা আক্তার দম্পতি সন্তান আদিয়াতকে নিয়ে ঠিকই নিরাপদে বের হয়ে আসেন। আদিয়াতকে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে ঠিকই বাঁচালেন তারা। কিন্তু সনদ বাঁচানোর জন্য আবার ঘরে ঢুকে নিজেরা আর বাঁচতে পারলেন না। গতকাল দুপুরে বাকলিয়া থানার বলিরহাট শাহজী পাড়ায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ভিড়। অগ্নিকাণ্ডে নিহত সৈয়দ আহমেদের প্রতিবেশী মাসুদ পাভেজ জানান, রাত তিনটার দিকে আনোয়ার হোসেনের বাসা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পেশায় কাঠমিস্ত্রী মাসুদ বলেন, রাত প্রায় তিনটায় বাইরে থেকে আগুন আগুন চিৎকার শুনে দরজা খুলে বের হয়। দেখি আনোয়ারের বাসার মাঝখান থেকে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। সে আগুন দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়ে। মাসুদ বলেন, আগুনে আটকা পড়লেও মনকে বুঝানো যেত। কিন্তু তারা বের হয়ে আবার কেন যে ভেতরে ঢুকলেন বুঝতে পারছি না। মৃত্যু তাদের আবার ভেতরে নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য তার।

ছোট বোনের মৃত্যুর খবর শুনে ছুটে গিয়েছিলেন রীনার বড় বোন পারুল। পারুল বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মা মারা যাওয়ার কিছুদিন পর বিয়ে হয় রীনার। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় আমার সাথে। আগামী জানুয়ারিতে ছিল রীনার মাস্টার্স পরীক্ষা। সে জন্য সে প্রস্তুতিও নিচ্ছল। গতকাল (শনিবার) সকালেও আমি এসেছিলাম এ বাসায়, ছিলাম বিকাল পর্যন্ত। একসাথে খাওয়া দাওয়া করলাম, আজ সে নেই। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নিজের ঘরের কিছুদূরে এক প্রতিবেশীর ঘরের সামনে বসে বিলাপ করছিলেন নিহত সৈয়দের ষাটোর্দ্ধ মা নূর বানু। নিজের ছেলে আর ছেলে বৌ’র মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ষাটোর্দ্ধ এ বৃদ্ধা। তার কোলে বসে মার জন্য কাঁদছিলেন নাতি আদিয়াত। সে বুঝতে পারে নি তাকে রেখে তার মা বাবা চলে গেছে না ফেরার দেশে। সে বুঝতে পারেনি কেউ আর রইলো তার। স্বজনরা ব্যস্ত আদিয়ানের কান্না থামাতে। তার খালা পারুল একবার কোলে নিলেন তাকে কাঁদতে কাঁদতে। দাদীর কোল ছেড়ে ‘মা.....মা’ বলে ঝাঁপিয়ে পড়লো পারুলের কোলে। কাঁদতে কাঁদতে তাকালো খালার দিকে। ক্ষণিক বাদেই হয়তো টের পেল উনি তার ‘মাম্মা’ নন। আবার কান্না জুড়ে দিল সে। পারুলের চোখেও তখন বইছে শ্রাবণ ধারা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন