আজ শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ ইং, ০৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মৃত্যুই ওদের টেনে নিল আগুনে

Published on 19 December 2016 | 7: 14 am

নগরীতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন এক দম্পতি। বাকলিয়া থানাধীন বলিরহাট শাহজী পাড়ায় গতকাল রোববার ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত স্বামীস্ত্রী হলেন মো. সৈয়দ আহমদ (৩৫) ও রীনা আক্তার (২৮)। সাড়ে তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তাদের। পাশের ঘরে যখন আগুন লাগে, তখন সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু সার্টিফিকেটসহ দরকারি কাগজপত্র আনতে আবার ঘরে ঢুকেছিলেন, তারপর আর বের হতে পারেননি তারা। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান স্বামী স্ত্রী দুজনই। তাদের লাশ বের করে আনেন স্বজনরা। নিহত সৈয়দ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে হিসাব বিভাগের কর্মী এবং রীনা সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। আগামী জানুয়ারিতে ছিল রীনার মাস্টার্স পরীক্ষা। দুই বছরের শিশু সন্তান আদিয়াতকে নিয়ে ওই ঘরে থাকতেন তারা। সৈয়দের ঘরের আশপাশে আরও কয়েকটি ঘরে তার ভাইরা থাকতেন। জানা গেছে, সৈয়দের বড় ভাই নূর হোসেনের ছেলের বিয়ে আগামী ২২ ডিসেম্বর। এ বিয়ের আয়োজন ঘিরে তাদের পরিবারে আনন্দ উৎসব চলছিল। এ সময়েই নেমে এসেছে এ শোকের ছায়া।

কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার অতিশ চাকমা বলেন, শাহজী পাড়ায় রোববার ভোর পৌনে চারটায় রান্নার চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি বসতঘর পুড়ে যায়। খবর পেয়ে কালুরঘাট ও লামারবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিটের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় একঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, আগুনের ধোঁয়ার কারণে একটি ঘর থেকে বের হতে পারেননি মো. সৈয়দ আহমদ ও রীণা আক্তার দম্পতি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। সেখানে দায়িত্বরত চিতিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, সৈয়দের বড় ভাই নূর হোসেন, মেজ ভাই মঞ্জুর আলমের পাশাপাশি তাদের প্রতিবেশী এছহাক, জাকির হোসেন, আনোয়ার, সেকান্দারের ঘরও এ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। পাশের ঘরে যখন আগুন জ্বলছিল তখন ছেলেকে ঘরের বাইরে এনে এক আত্মীয়ের হাতে দিয়েছিলেন রীনা। তারপর সবার সঙ্গে ছাদে গিয়ে পানিও ছুড়ছিলেন রীনা ও সৈয়দ দুজনই। এরপর রীনা নিজের পরীক্ষার সার্টিফিকেট এবং স্বামীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে পুনরায় বাসায় ঢোকেন। তিনি ফিরে না আসায় ঘরে ঢোকেন সৈয়দ। আগুন পুরোপুরি নেভার পর ঘরের ভেতর খাটের ওপর দুজনকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন