আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ঢাকা চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর স্বপ্নভঙ্গ

Published on 10 December 2016 | 4: 56 am

ড্যারেন স্যামি আউট হতেই গ্যালারিতে স্লোগান উঠল- ‘ঢাকা, ঢাকা, ঢাকা…।’ রাজশাহীর স্বপ্ন তখন বিবর্ণ। মলিন মুখে মাঠের বাইরে বসে থাকলেন স্যামি। ততক্ষণে স্পষ্ট হয়ে গেছে দেয়াললিখন। নীলাঞ্জনারা উৎসবের অপেক্ষায়। বেদনার রং তখন হলুদ। নাজমুল ইসলামের আকাশে তুলে দেয়া বল সাঙ্গাকারার গ্লাভসে জমা হতেই শেরেবাংলা উথাল-পাতাল নীল ঢেউয়ে। সবাই ছুটলেন মাঠে। সাকিব, মোসাদ্দেক উঠে পড়লেন সতীর্থদের কাঁধে। ওদিকে ডিজে ব্রাভো মাইক্রোফোন হাতে তুলে নিয়ে শুরু করে দিলেন ‘চ্যাম্পিয়ন চ্যাম্পিয়ন’ গান। সঙ্গে শরীরের দুলুনি। হল সেলফি উৎসবও। ছুটির দিনে মিরপুর তখন একখণ্ড উৎসবস্থল। ক্যালিপসো সুরের মূর্ছনায় ঢাকা তখন উন্মাতাল। বিপিএল চ্যাম্পিয়নরা উৎসব করবে না তো কারা করবে। রাজশাহী কিংসকে ৫৬ রানে হারিয়ে ঢাকা হল চ্যাম্পিয়ন। বিপিএলের চার আসরের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বার। আগের দু’বার ২০১২ ও ২০১৩-তে। তখন ঢাকার নাম ছিল গ্ল্যাডিয়েটরস। এবার ডায়নামাইটস। বলতেই হয়, ফাটিয়ে দিল।
শুক্রবার দর্শকে ঠাসা মিরপুরে ঢাকা শুধু শিরোপাই জেতেনি, সেই সঙ্গে মধুর প্রতিশোধও নিয়েছে। এবারের বিপিএলে লীগ পর্বে দু’বারই সাকিবরা হেরেছিলেন স্যামিদের কাছে। শেষ সম্মুখ সমরে হার হল চতুর্থ আসরের দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম রাজশাহীর। প্লে-অফে চিটাগং ভাইকিংস এবং খুলনা টাইটানসকে হারানো রাজশাহী ফাইনালে নিজেদের হারিয়ে ফেলে। ৬২/১ থেকে ৯৮/৮-এ পরিণত হওয়া তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের প্রমাণ। ১৬০ তাড়া করতে নামা রাজশাহী সাত উইকেট হারায় ৩৬ রানে। শেষমেশ ১০৩ রানে অলআউট হয় ১৭.৪ ওভারে। স্যামি নিশ্চয় আফসোস করবেন টসে জিতে আগে ব্যাট না নেয়ার জন্য।

তৃতীয় ওভারে নুরুল হাসান চার মারার পর মিড-অফে ধরা পড়লেন। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও সাব্বির রহমানের ৪৭ রানের জুটিতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রাজশাহী। কিন্তু চার বলের ব্যবধানে আউট হন এ দু’জন। সাব্বির রানআউট। আর ২৭ বলে ৩০ রান করা মুমিনুল লেগ-বিফোর। এরপর রাজশাহীর ভাগ্য যাদের ওপর নির্ভর করছিল, সেই জেমস ফ্র্যাংকলিন, অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি এবং সামিত প্যাটেল পরপর তিন ওভারে সাজঘরে ফেরেন। আগের বলে ছয় মারার পর স্যামি বোল্ড হন সাকিবের বলে। প্যাটেলকে ফিরিয়ে ঢাকা নিশ্চিত হয়ে যায় জয় তাদের মুঠোয়। রাজশাহীর হার তখন সময়ের ব্যাপার। এরইমাঝে কেসরিক উইলিয়ামসের ডান কনুইয়ে ব্রাভোর ছুড়ে দেয়া বল আঘাত করে। উইলিয়ামস লুটিয়ে পড়েন মাঠে। পরে মাঠ ছাড়েন তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে। নাজমুল ইসলামের তুলে দেয়া বল সাঙ্গাকারার গ্লাভসে জমা হতেই বিপিএলের মিলনমেলা ভাঙে। যেন বলটা সাঙ্গার গ্লাভসে জমা হয়নি। জমা হয়েছে ট্রফি। এরচেয়ে নিখুঁত সমাপ্তি বোধহয় আর হতে পারত না এই টি ২০ টুর্নামেন্টের। ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ যে সাঙ্গাকারাই। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট খুলনা টাইটানস অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফাইনাল শেষে ট্রফি তুলে দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এমপি। চ্যাম্পিয়ন ঢাকা দুই কোটি এবং রানার্স-আপ রাজশাহী ৭৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি পেয়েছে। গত ৮ নভেম্বর শুরু হয়েছিল সাত ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপিএল। এরআগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম কাল নীল আর হলুদের আভায় ভরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু পুরো স্টেডিয়ামে নীলের আধিক্যে হলুদের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়াই দায়! তবে কালো-হলুদ জার্সির রাজশাহী কিংস বিপিএলের চতুর্থ আসরের ফাইনালে টস জিতে কিছুটা এগিয়ে যায়। রাতের শিশিরের কথা চিন্তা করে রাজশাহী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি নীল জার্সির ঢাকাকে পাঠায় ব্যাটিংয়ে। গ্যালারি ছিল কানায় কানায় ভরা। পুলিশ এবং চেকারদের স্বজনপ্রীতিতে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি দর্শক ঢুকেছিল মাঠে। বড় স্কোরের লক্ষ্যে ঢাকা ব্যাটিং-অর্ডারে অনেক ওলট-পালট করে। শুরুটাও তারা করেছিল ভালো। কিন্তু নিজের প্রথম ওভারেই মেহেদি মারুফকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর আফিফ হোসেন ও ড্যারেন স্যামির আঘাতে ৪৩ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে ঢাকা। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেছেন দুই বিদেশী এভিন লুইস ও কুমার সাঙ্গাকারা। লুইস ৩১ বলে আটটি চারে ৪৫ করে আউট হন। দলের স্কোর তখন ৮৩/৪। বিগ হিটার আন্দ্রে রাসেল, ডুয়ানে ব্রাভো ও সাকিব আল হাসান বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সাকিবকে বোল্ড করেন ফরহাদ রেজা। লং-অফে দারুণ একটি ক্যাচ নিয়ে রাসেলকেও ফেরান এই ফরহাদ। রাসেলের শটটা হাতে জমালেও নিজে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যেতে থাকেন। বল ওপরে ছুড়ে দিয়ে ফরহাদ চলে যান বাউন্ডারি লাইনের বাইরে, আবার বাউন্ডারির মধ্যে ঢুকে বল তালুবন্দি করেন তিনি। সাঙ্গাকারা কাল ব্যাটিংয়ে নেমেছেন পাঁচে। ৩৩ বলে দুটি চার ও একটি ছয়ে ৩৬ করে সেই ফরহাদ রেজারই শিকার হয়েছেন। শেষদিকে সানজামুল ইসলামের পাঁচ বলে ১২ রানে নয় উইকেটে ১৫৯ করতে পারে ঢাকা। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান দেন ফরহাদ রেজা। কিন্তু শেষ ওভারে তিনি দেন ১৫ রান। তাতেই লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়ে যায় ঢাকা। ফরহাদ তিনটি এবং কেসরিক উইলিয়ামস, মিরাজ, আফিফ, স্যামি ও সামিত প্যাটেল নেন একটি করে উইকেট।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন