আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমানের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরেণ – কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক

Published on 02 November 2015 | 5: 17 am

২০ অক্টোবর ২০১৫ দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমানের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী। খুব মনে পরে ২০০১ সালের ২০ অক্টোবর এর সেই বেদনা বিধুর দিনটির কথা। যেদিন তুমি চলে গেলে, সন্দ্বীপ তার প্রিয় সন্তানটিকে হারিয়েছিল। ভেবেছিলাম কিছু লিখব না ,কেননা প্রিয় মানুষ কে নিয়ে লিখতে কিছুটা ভয় লাগে ,লিখা দিয়ে যদি তোমাকে, তোমার প্রাপ্য না দিতে পারি। আজ সারা দিন কেবল তোমাকে নিয়ে আমার একটি দামী স্মৃতি মনের আকাশে উকি দিচ্ছিল।
আমি তখন অনেক ছোট ,প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি /আমার ছোট বেলার সহচর দাদু , আমাকে সব অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। ১৯৯৭ সালের কথা.তখন চারদিকে দ্বীপবনধুর অনেক নাম ডাক। সন্দ্বীপ পাবলিক হাই স্কুল এর মাঠে একটি সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম আমার দ্বীপ বন্ধুর সাথে পরিচয়। দাদু কে অস্থির করে তুলেছিলাম কোথায় মোস্তাফিজ ? শীতের সন্ধায় মঞ্চে দাদুর কোল থেকে দ্বীপবন্ধু আমাকে তার কোলে নিলেন। আমাকে আদর দিয়েছেন, ভালোবেসে বুকে টেনেছেন। আমার কি নাম? কিসে পড়ি? অনেক গল্প করেছেন তিনি। আমার গেঞ্জি তে কি লিখা আছে তা পড়তে বললেন। লিখা ছিল congratulation…আমার মুখে তখন এত বড় শব্দ শুনে কিছুটা অবাক হয়েছেন ? আমাকে তিনি বললেন তোমাকে কে শিখিয়েছেন ? আঙ্গুল দিয়ে দাদু কে দেখিয়ে দিলাম। দ্বীপবন্ধুর পাশে সভাপতির চেয়ারে বসে থাকা দাদু কে বললেন, কাজী সাব আপনার নাতি পেরেছে। দাদু আমাকে নিতে চাইলে তিনি দিলেন না। মাল্য দান পর্বে ওনার গলার মালাটা আমার গলে দিলেন। কমলার কোষ আর বাদাম আমার মুখে দিয়ে খাইয়ে দিলেন।
দ্বীপবন্ধুর অকৃপণ ভালবাসার মধ্য দিয়ে সেই আমার প্রথম পরিচয় তার বিশালতার সাথে। ওনার সাদা শাল দিয়ে আমাকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। যত খানি তিনি জড়ালেন ,তার চেয়ে বেশি ভালোবাসার একটি আকাশের সাথে আমার সাক্ষাত ঘটলো। আমি অনেক বেশি ভাগ্যবান যে,দ্বিপ্বন্ধুর ভালোবাসা আমি পেয়েছি। আসলেই মহৎ হৃদয় বান মানুষরা বোধ হয় এমনই। সেই কবেই শৈশবের স্মৃতিতে তুমি মিশে আছ। আজও আছ ,পরম আপন হয়ে। পর দিন আমার এলাকায় অনেকে জানতে চেয়েছে মুস্তাফিজ সাব তোমাকে কি বলেছে ? কি দিয়েছে ? কথাটা আজও মনে পড়লে হাসি আসে। কি দিলে তাকে দেয়া বলবে ? যা দিয়েছে তা তো আজ মনে রেখেছি। আমার মরণ অবধি এই স্মৃতি আমাকে পরম আনন্দ দিবে যে ,আমি ভাগ্যবান, আমি এক পরম ভালো মানুষের সাথে আমার পরিচয় ছিল, যার ভালবাসা পেয়েছি। তার পরে অনেক বার তোমাকে দেখেছি, দাদুর সাথে তোমাকে নিয়ে অনেক অনুষ্ঠানের স্মৃতিও অমলিন। বাড়ির সামনে দিয়ে তোমার জলপাই রঙের জিপটি গেলে, মনে হতো এই তো তুমি ? মরনে অমরতা সবাই পায় না, তুমি পেয়েছ তোমার কর্মের গুণে।
কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র মৃত্যু কে নিয়ে লিখেছেন -”যে তারা জাগিয়া থাকে তাকে লয়ে জীবনের খেলা ভুবনের মেলা /যে তারা হারালো দু্্যতি। যে পাখি ভুলিয়া গেল গান /এ ভুবনে কোথা তার স্থান ?
তোমার স্থান গণ মানুষের হৃদয়ে, আমার হৃদয়ে , হাজার হৃদয়ে , লাখ ও মানুষের মন মন্দিরে। তোমার নাম লিখা হয়ে গেছে সন্দ্বীপের ইতিহাসের সোনালী পাতায়। তুমি ঘুমাও , পরম মমতায় এই দ্বীপ তোমাকে ধরে রাখবে , মানুষ মনে রাখবে। হে মহান প্রভু আপনি আমাদের দ্বীপবন্ধু কে জান্নাত দান করুন। আমিন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন