আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাহজাহান চৌধুরী – ‘পলাতক’ জামায়াত নেতাকে গাড়ি বুঝিয়ে দিল দুদক

Published on 09 December 2016 | 3: 47 am

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নায়েবে আমীর ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াতের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। হত্যা, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা এক ডজনের বেশি মামলার আসামি তিনি। এর মধ্যে সাতকানিয়া থানার ১০টি মামলায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। কিন্তু তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

তবে পুলিশ খুঁজে না পেলেও ৫ ডিসেম্বর শাহজাহান চৌধুরীকে দেখা যায় চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে। আগ্রাবাদে অবস্থিত দুদকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসে হাজির হয়ে একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি বুঝে নেন গাড়ির কাগজপত্র। বুঝে নেন গাড়িটিও।

দুর্নীতির টাকায় রেঞ্জ রোভার নামে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার অভিযোগে শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। আদালত গাড়িটি শাহজাহান চৌধুরীকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ পেয়েই দুদক চিঠি দিয়ে শাহজাহান চৌধুরীকে গাড়ি বুঝে নিতে বলেন। চিঠি পেয়ে হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী হাজির হন দুদক কার্যালয়ে।

এদিকে নাশকতা মামলায় বছরের পর বছর পালিয়ে বেড়ানো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী সরকারি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় কিভাবে হাজির হলেন, কিভাবে গাড়ি বুঝে নিয়ে দিব্যি চলেও গেলেন তা নিয়ে চট্টগ্রামে আলোচনার ঝড় বইছে।

দুদক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী ২০০১ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে এমপি কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় রেঞ্জ রোভার ভি-৮ মডেলের একটি গাড়ি কিনেছিলেন। গাড়িটি দুর্নীতির টাকায় কিনেছেন এমন অভিযোগে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম গাড়িটি জব্দ করেন এবং বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় ২০০৮ সালের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের একটি আদালত শাহজাহান চৌধুরীকে ১০ বছরের সাজা দেন। এরপর শাহজাহান চৌধুরী হাইকোর্টে সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে হাইকোর্ট শাহজাহান চৌধুরীকে সাজা থেকে অব্যাহতি দেন। এরপর দুদক খালাসের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে। এ আপিলেও শাহজাহান চৌধুরীকে সাজা থেকে অব্যাহতি দিয়ে জব্দকৃত গাড়িটি ফেরত দেয়ার জন্য দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত অঞ্চল-২ কে নির্দেশ দেয়া হয়।

৫ ডিসেম্বর নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক চালক মো. সফিউল্যার কার্যালয়ে হাজির হয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও বিলাসবহুল গাড়িটি বুঝে নেন শাহজাহান চৌধুরী। গাড়ি বুঝে নেয়ার সময় সাক্ষী হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম গণপূর্ত উপবিভাগ ৯-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোমেন মল্লিক, দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদ, সহকারী পরিচালক অজয় কুমার সাহা, সাতকানিয়া উপজেলার পূর্ব নলুয়ার বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক।

জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক হত্যাকাণ্ডসহ ৩০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে শুধু জোট সরকারের আমলে হত্যা মামলাসহ প্রায় ২০টি মামলা থেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় অব্যাহতি পান তিনি।

এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, এ থানায় শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১০টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তিনি পলাতক। তাকে আমরা হন্যে হয়ে খুঁজছি। দুদকে গিয়ে গাড়ি বুঝে নিয়েছেন এমন খবর পাননি। পেলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হতো।

নাশকতা মামলার পলাতক আসামিকে আইনশৃংখলা বাহিনীকে না জানিয়ে গাড়ি বুঝিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদ বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, ‘আপিল বিভাগের একটা আদেশ নিয়ে এসেছিলেন শাহজাহান চৌধুরী। আদেশ অনুযায়ী আমরা তাকে কাগজপত্রসহ গাড়িটি বুঝিয়ে দিয়েছি। তিনি যে নাশকতা বা অন্য কোনো মামলার আসামি বা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এ বিষয়ে আমরা জানতাম না।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন