আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জাতীয় এসএমই নীতিমালা ঘোষণা শিগগির : শিল্পমন্ত্রী ।। আন্তর্জাতিক এসএমই মেলা উদ্বোধন

Published on 04 December 2016 | 3: 11 am

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, জাতীয় এসএমই নীতিমালা শিগগির ঘোষণা করা হবে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও সংগঠনের কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দক্ষতা বাড়াতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক এসএমই মেলা২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে তিনদিন ব্যাপি এ মেলার আয়োজন করে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এলাকা ভেদে এসএমই শিল্প স্থাপন টেকসই হবে তা নির্ধারণের কাজ চলছে। এসব শিল্প বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের কী ধরনের প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা নিতে হবে তাও চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক তরুণ ও সৃজনশীল উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে সহায়তার ক্ষেত্রগুলোও নির্ধারণের কাজ চলছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের ওপর ভর করেই দেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। রফতানি প্রবৃদ্ধি, পণ্য বৈচিত্রকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচনসহ দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা এসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এসএমই খাত দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্পকর্মসংস্থানে এ খাতের বিরাট অবদান রয়েছে। শিল্প কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ সৃষ্টি হচ্ছে এ খাত থেকে। এসএমই খাত দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ যোগান দিয়ে থাকে।

২০১৪২০১৫ অর্থ বছরে স্থির মূল্যে জিডিপিতে সার্বিক শিল্পখাতের অবদান প্রাক্কলন করা হয় ৩৩ দশমিক ৪২ শতাংশ জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৩২০১৪ অর্থ বছরে এর পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২০১৪২০১৫ অর্থ বছরে জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতের অবদান ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ।

খাত বিবেচনায় ক্ষুদ্রায়তন শিল্পখাতে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলা এ সমীক্ষার আওতায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দেশব্যাপী এসএমই খাতের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে যুযোপযোগী এসএমই নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

দেশের ঋণখেলাপীরা সবাই বড় বড় ব্যবসায়ী দাবি করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এম এ লতিফ বলেন, ছোট বা মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ খেলাপির তালিকায় নেই। অথচ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা কোন ঋণ পাচ্ছেন না। বাংলাদেশের ব্যাংগুলোর অধিকাংশ টাকা ১০০ জন ব্যবসায়ীর কাছে আছে। এই টাকা ১৬ কোটি মানুষকে ব্যবহারের সুযোগ না দিলে দেশ এগিয়ে যাবে না।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সনদের জন্য ঢাকায় যেতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। অথচ চট্টগ্রামেই যদি এসব সেবা মিলতো তবে আরো বেশি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হতো।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার, জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন, মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চেম্বারের সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, চেম্বার পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), অঞ্জন শেখর, এম এ মোতালেব, জুনিয়র চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও অ্যালবিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান রাইসুল উদ্দিন সৈকত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক এবং এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই সেক্টর একদিকে যেমন দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখে, তেমনি আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং দেশীয় পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জিডিপিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রকৃতি প্রদত্ত চ্যানেল কাজে লাগিয়ে বেটার্মিনাল বাস্তবায়নে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। মহিলা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান চেম্বার সভাপতি। চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন, এসএমই শিল্প উদ্যোক্তাগণ উন্নত ও মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করছে। এসব পণ্যের দেশে ও বিদেশে বাজারজাতকরণে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।

দেশিয় পণ্যের প্রদর্শন ও বিপণনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন