আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদেশি চ্যানেলে বন্ধ হয়েছে দেশি বিজ্ঞাপন

Published on 03 December 2016 | 8: 23 pm

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গতকাল শুক্রবার রাত থেকে বাংলাদেশে সম্প্রচারিত বিদেশি চ্যানেলের বাংলাদেশ ফিডে দেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিডিয়া ইউনিটির উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সরকার শিগগিরই বিজ্ঞাপন সম্প্রচার নীতিমালা ও আইন করতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

একই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতিরক্ষায় সবার ঐক্য ধরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী।

আজ শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাব মিলনায়তনে মিডিয়া ইউনিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন।

কয়েক বছর ধরে বিদেশি চ্যানেলের বাংলাদেশ ফিডে দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার হয়ে আসছিল, যা দেশের প্রচলিত আইনপরিপন্থী। এতে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় আন্দোলনে নামে টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক, কর্মকর্তা ও কলাকুশলীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন মিডিয়া ইউনিটি।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে বিজ্ঞাপন যে আসত তা বন্ধ হয়ে গেছে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রীও নোটিশ দিয়েছিলেন যাঁরা ডাউনলিংক করেন তাঁদের। বিদেশি চ্যানেলকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বিদেশি চ্যানেলে আমাদের বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে না।’

শিল্পী ও কলাকুশলীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে অ্যাটকোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী বলেন, ‘রাজপথে নেমেছিলেন। আমরা সেভাবে অ্যাক্ট করতে পারিনি। এটা সত্যি কথা। আজকের মতো আমরা যদি সংগঠিত হতে পারতাম, তাহলে হয়তো দুই-আড়াই বছর আগেই এটার সমাধান হয়ে যেত। আমি আজকের এ সমাধানের জন্য আমার নিজের এবং অ্যাটকোর বিদায়ী সভাপতি হিসেবে অ্যাটকোর পক্ষ থেকেও বাবু ভাই, আরিফ ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা প্রচুর কষ্ট করেছেন এটার জন্য। আজকে হয়তো সবাই ভাবছে যে এক মাসে সমাধান হয়ে গেছে। এক মাসে এ ত্রিশ দিনেই এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা চার মিটিংয়ে সমাধান না। প্রতিদিনই আলোচনা হয়েছে।’

 

মোসাদ্দেক আলী আরো বলেন, ‘আমি বলব আমরা যদি আজকের এ অনুষ্ঠান থেকে খুশি হয়ে ভুলে যাই আবার, এটা কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। ঘোষণা আর বাস্তবায়ন দুটি দুই জিনিস। আমাদের ঐক্য থাকতে হবে। শুধু মিডিয়াতে বিদেশি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে এটাই সমাধান না। অনেক কাজ আছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এ কাজগুলো আমরা যদি সুন্দরভাবে করতে না পারি তাহলে দেশের সংস্কৃতিটা ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা হলে আমি মনে করি দেশদ্রোহিতার শামিল।’

চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘আমি নিজেও মামলাটা করে খুব যে আনন্দিত হয়েছি তা না, আনন্দ শব্দটাই ছিল না, খুব কষ্ট ছিল। কিন্তু মামলাটা করার কারণেই হয়তো তড়িঘড়ি করে আমরা সবাই বসেছি। এবং বসার সাথে সাথে জিনিসটার সমাধান হয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের সমঝোতা, ঐক্যের যে বন্ধন হয়েছে এটি দেখে আমি মনে করি অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ কমে যাবে। এ আন্দোলনের বড় দিক হলো এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই কিন্তু একসঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।’

এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিতে চাই আগামীতে এ মিডিয়া ইউনিটির সদস্য যাঁরা থাকবেন তাঁদের বিরুদ্ধে, তাঁদেরকে নিয়ে আমরা মিডিয়াতে কোনো রকম প্রচার করব না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি ডাবিংকৃত সিরিয়াল। আমরা মালিকপক্ষই যদি সিদ্ধান্ত নেই তাহলে বেশি দূর গড়াবে না। আমরা আস্তে আস্তে এটা নিয়ে বসব। বসে সমাধান করার চেষ্টা করব।’

 

চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ‘যখনই মিডিয়াতে সরাসরি কোনো কিছু সম্প্রচার হয়, তখন এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সরাসরি যদি আমরা মিডিয়াকে ব্যবহার না করতাম তাহলে ঘটনাটা এত দূর গড়াত না।’

একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘ইলেকট্রনিক মিডিয়া মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েশন বা ইমা যখন আমাদেরকে জানাল আমাদের মিডিয়ার বাজেট গত বছর ভারতে বিজ্ঞাপন পাচারের কারণে ২০ শতাংশ কমেছে। এ বছর আরো ২০ শতাংশ কমেছে; ৪০ শতাংশ। আগামী বছর আরো ২০ শতাংশ কমবে তখন আসলে আমাদের রীতিমতো পেটে লাথি লাগল। তখন আমাদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।’

মোজাম্মেল বাবু আরো বলেন, ‘আমার একটা ইচ্ছা, যদি সবাই সমর্থন দেয়, আমি ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ অন্যান্য মিডিয়ার সকলকে নিয়ে মিডিয়া ইউনিটি নামে একটা ক্লাব করতে চাই।’

বাংলাদেশি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে দর্শক ধরে রাখতে অনুষ্ঠানের মান বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া এবং কোনো কিছু সরাসরি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরো সতর্ক ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন টেলিভিশনগুলোর মালিকরা।

গণমাধ্যমের সংকটময় মুহূর্তে আবারও আন্দোলনে নামার অঙ্গীকার ঘোষণা করে বর্তমান কর্মসূচি আপাতত স্থগিত ঘোষণা করে মিডিয়া ইউনিটি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন