আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



৫০ বছরের পুরানো পাইপ লাইন : পাঁচশতাধীক লিকেজের কারণে অর্ধেক প্রেসারেও পানি সরবরাহ করতে পারছে না চট্টগ্রাম ওয়াসা

Published on 02 December 2016 | 9: 20 am


দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার পানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প চালু হলেও ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরানো পাইপ লাইনের কারণে অর্ধেক প্রেসারেও পানি সরবরাহ করতে পারছে না ওয়াসা। নগরীর পাইপ লাইনগুলোতে ৫০০ এর অধিক জায়গায় লিকেজ রয়েছে। পাইপ লিকেজ হওয়ায় একদিকে যেমন সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না
, তেমনি পানির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নানা জীবাণু।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে রাঙ্গুনিয়ার পোমরাস্থ কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প এলাকা সাংবাদিকদের সরেজমিন দেখানোর পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ এসব কথা বলেন। এতে একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ১০০ শতাংশ জীবাণুমুক্ত করে মূল প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ করা হলেও নগরবাসীর বাসার বেসিন পর্যন্ত আসতে আসতে সেই পানি হয়ে যাচ্ছে জীবাণুযুক্ত। তাই বলতে গেলে সরাসরি এই পানি পানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইপলাইন লিকেজের কারণে। কর্ণফুলি পানি সরবরাহ দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে সবগুলো গভীর নলকূপ বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক । ফলে ভূগর্ভস্থ মাটির স্তরের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলেও আশাবাদ তার।

ওয়াসার পুরনো পিভিসি বিক্লাস পাইপ লাইনের কারণে প্রথম পর্যায়ে সম্পন্ন প্রকল্পের পুরো সুবিধা পেতে নগরবাসীকে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্বমানের পাইপ লাইন নির্মাণে চীনের সাথে চুক্তি হয়ে গেছে। কাজ শেষ হলে প্রকল্পের পুরো সুবিধা পাবে নগরবাসী। বোতলজাত পানির বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনাও চট্টগ্রাম ওয়াসার আছে বলে জানান তিনি। পানির বাজারে বোতলজাত পানি নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে আমাদের। বাজারে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি আসলে বোতলজাত পানির বিদ্যমান যে দাম সেটা কমে যাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হলেও নভেম্বরের শুরু থেকে দিনে ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চালু হয়েছে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প।

সাংবাদিকদের প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত ল্যাবে এই পানির গুণাগুণ দেখানো হয়। গুণের দিক দিয়ে এই পানি বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন মিনারেল ওয়াটারের সমান তা পরীক্ষা করে দেখানো হয়। প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ৪০৫০ বছরের পুরানো হওয়ায় কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের ৬০ শতাংশ পাইপ নষ্ট হওয়ার পথে। এর ফলে অর্ধেক প্রেসারে পানি সরবরাহ করাতে কিছু কিছু পাইপ ফেটে গেছে। পাইপ লিকেজ হওয়ার কারণে পাইপলাইনে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে পানি সঙ্গে মিশে যাছে। পাশাপাশি লিকেজ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন থাকায় সেই ড্রেনের পানিও পাইপলাইনে প্রবেশ করছে। এর ফলে পানিতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এই পানি বাসাবাড়ির বেসিন থেকে সরাসরি পানে সমস্যা হতে পারে। না হয় এই পানি সরাসরি পান করা যেত। তবে আমরা আশা করছিকর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প পেজ২ এর কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। কারণ এ প্রকল্পের আওতায় পানি সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং একইসাথে বর্ধিত পানির সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থার জন্য সঞ্চালন, বিতরণ পাইপ লাইন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজও করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প আগামী ১০০ বছরের টার্গেট নিয়ে করা হচ্ছে। যাতে পাইপগুলো শত বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আশা করছি২০২০ সালের পর আর লিকেজ থাকবে না। নভেম্বরের শুরু থেকে দিনে ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অনাষ্ঠুনিকভাবে চালু হয়েছে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্প উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনাষ্ঠুনিকভাবে চালু করার প্রথমদিকে টানা তিনদিন (৭২ ঘণ্টা) ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এভাবে পানি সরবরাহ কারণে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানির পাইপ ফুটো হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে ৯ থেকে ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে যাচ্ছে ওয়াসা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) রতন কুমার সরকার, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) মো. গোলাম হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক, এনজিএস কনসালটেন্ট লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট হিরুকি ফুজিয়ামা, চায়না টেকনিক্যাল ইমপোর্টএক্সপোর্ট করপোরেশন এবং বেইজিং সাউন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড জেভি (চীন) এর প্রকল্প পরিচালক চেং হংগি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন