আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



উদ্যোগ নেবে চীন সফরে কফি আনান।। মিয়ানমারে নৃশংসতা

Published on 01 December 2016 | 3: 13 am

মিয়ানমারের রাখাইন জাতিগত সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে এক সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। মাস খানেক ধরে চলা এ সহিংসতার ফলে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে সেখানকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বেইজিং বলছে, সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা আনতে উভয় দেশকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ওয়াইআই মিয়ানমারের এক প্রতিনিধি দলের কাছে রাখাইনের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মিয়ানমারের শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান তিন মিও উইনের নেতৃত্বে চীন সফরে রয়েছে ওই প্রতিনিধিদল। রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুনরায় সেনাবাহিনীর অভিযান গুটিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান ওয়াং ওয়াইআই। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনমিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষকে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের যথাযথ ব্যবহার করা উচিত।

এদিকে বার্তাসংস্থা বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের এক খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। আর এ অপরাধের মাত্রা তথা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে মিয়ানমারে পৌঁছেছেন সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান। রাখাইন রাজ্য সফর করার কথা রয়েছে তাঁর। কফি আনান এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারে অবস্থান করে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। নভেম্বরে শত শত রোহিঙ্গা পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশে। প্রতিবেশী অন্যান্য দেশেও আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। সেনাবাহিনী হত্যা, নির্যাতন, গণধর্ষণ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, অন্তত ৩০ হাজার রোহিঙ্গা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে প্রাণ ভয়ে। তবে এখনো মিয়ানমার তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে? মিয়ামনার সরকার দাবি করেছে, রোহিঙ্গাদের নয়, গতমাসে পুলিশ চেকপোস্টে হামলাকারী ‘সন্ত্রাসীদের’ ধরতে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। তবে জাতিসংঘ মনে করে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হচ্ছে তা একটি জাতিকে নির্মূল করার প্রয়াসের সঙ্গে তুলনীয়।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিভিন্ন ও প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। রাখাইনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মী ও অধিকার কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইউএন ওএইচসিএইচআর বলেছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়েছে। সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সীমান্ত থেকে আবার সেদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের বহনকারী কয়েকটি নৌকাকে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করতে দেয়নি সীমান্তরক্ষীরা।

ইতোপূর্বে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও ভারতের পক্ষে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেশি হিসাবে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারে সহিংসতার ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে চীনে আশ্রয় নিয়েছে। চলতি মাসের নিরাপত্তা বািহনীর ওপর হামলার ফলে দেশটিতে জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির শান্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা ধাক্কা খেয়েছে। এদিকে, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় গত বছর পাঁচ চীনা নাগরিক খুন হয়েছিলেন। এমন এক সময় চীন এ উদ্বেগ প্রকাশ করলো; যখন রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। সেনা নির্যাতনের মুখে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশেও পালাচ্ছেন। গত বছর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে দেশটির ক্ষমতায় আসা শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে রাখাইনের এ সহিংসতা। সীমান্ত এলাকায় সহিংসতার ফলে হাজার হাজার মানুষ অতীতেও চীনে ঢুকে পড়ে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন ওয়াং। এ ছাড়া মিয়ানমারকে যে কোনো ধরনের সহায়তার জন্য চীন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়ছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার পূর্ব শর্তে ও এ বিষয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে মিয়ানমারের ইচ্ছা অনুযায়ী চীন কাজ করতে আগ্রহী।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন