আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সোনার ডিম ও বিজয় মিছিল

Published on 01 December 2016 | 3: 21 am

:: বদরুল হাসান টিটু ::

মুরগির খাঁচার দরজা খুলেই গণি মিয়া হতভম্ব। খাঁচার ভেতরে একটা সোনার ডিম পড়ে আছে! এ-কী করে সম্ভব! তিনি খাঁচার সব মোরগ-মুরগিকে বের করে দিয়ে ডিমটা হাতে নিলেন। ডিমটা এখনো হালকা গরম আছে। মনে হয় কিছুক্ষণ আগে পেড়েছে। আর রংটাও একেবারে কাঁচা সোনার মতো। তাঁর হাত কাঁপতে লাগল। তিনি তাড়াতাড়ি তাঁর গায়ের গামছার মধ্যে ডিমটা প্যাঁচিয়ে নিলেন। তারপর সোজা মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।

ফজরের জামাত শেষ করে ইমাম সাহেব নিয়ম-মাফিক বিছানায় গেছেন। ঘুমের দোয়া পড়ে যেই চোখ বন্ধ করেছেন তখনই দরজায় কড়ানাড়ার শব্দ। তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে দরজা খুললেন। দরজা খুলতেই গণি মিয়া হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুুকে পড়লেন। ইমাম সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি বিচলিত কণ্ঠে বললেন, গণি মিয়া কী হয়েছে? কোনো সমস্যা? আমাকে খুলে বলুন।

গণি মিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, হুজুর অসম্ভব ঘটনা ঘটে গেছে। তিনি তাঁর গামছা থেকে সোনার ডিমটা বের করে ইমাম সাহেবকে দেখালেন। সোনার ডিম দেখে ইমাম সাহেবের চোখ বড় হয়ে গেল। তিনি তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দিলেন। গণি মিয়া বললেন, হুজুর, আজ সকালে খাঁচার দরজা খুলতেই দেখি এই জিনিস। আপনি ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করা মুশকিল। তাই সোজা আপনার কাছেই চলে এলাম। এখন এই জিনিসের একটা গতি করেন। ইমাম সাহেব কী বলবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। তিনি বিড় বিড় করে নানান দোয়া পড়তে লাগলেন।, গণি মিয়া আবার বললেন, হুজুর কিছু একটা বলেন, চুপ থাকলে তো চলবে না।

ইমাম সাহেব বললেন, এই ডিম যদি সত্যিই সোনার হয়ে থাকে তাহলে বলতে পারেন, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য এ এক মস্ত বড় নেয়ামত। তবে এখন আমাদের নিশ্চিত হতে হবে, এটা সত্যি-সত্যি সোনার ডিম কি না? কারণ, শুধু চোখের দেখার ওপর ভরসা করতে নেই। নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। গণি মিয়া চিন্তিত হয়ে পড়লেন, এখন কী উপায়?

ইমাম সাহেব বললেন, চিন্তার কিছু নেই। শহরে আমার পরিচিত এক সোনার দোকানি আছে। সে খুব বিশ্বস্ত। আমরা তাকে দিয়েই পরীক্ষা করাতে পারি। তবে পুরো ডিমটা এভাবে শহরে নেয়াটা ঠিক হবে না। আমাদের একটু কৌশলে কাজ করতে হবে। তিনি একটা কাচের বাটি নিলেন। তারপর বিসমিল্লাহ্ বলে ডিমটা ভাঙলেন। ডিমের ভেতরের কুসুম আর সাদা তরল পদার্থ সাধারণ ডিমের মতোই, শুধু খোসাটা সোনালি রঙের। তিনি খোসাটার ভাঙা-একটা টুকরা  একটা ছোট প্যাকেটে নিলেন। বাকি টুকরাগুলো আলাদা একটা বড় প্যাকেটে নিলেন। তারপর বললেন, গণি মিয়া, চলুন রওয়ানা হওয়া যাক।

বেলা দশটার সময় তারা সোনার দোকানে এসে পৌঁছলেন। সালাম বিনিময়ের পর ইমাম সাহেব দোকানিকে ছোট প্যাকেট টা দিয়ে বললেন, এখানে এক টুকরা সোনা আছে। এটা খাঁটি সোনা কি না তা পরীক্ষা করতে চাই। সেই জন্য আপনার কাছে আসা। দোকানি প্যাকেটটা নিয়ে ভেতরে গিয়ে কারিগরকে দিলেন পরীক্ষা করার জন্য। তাঁরা অপেক্ষা করতে লাগলেন।

কিছুক্ষণ পর দোকানি এসে বললেন, ইমাম সাহেব, এ একেবারে খাঁটি সোনা। বেচলে ভালো দাম পাবেন। এমন সোনা পেলে আমরাও কিনি। ইমাম সাহেব গণি মিয়ার দিকে তাকালেন। গণি মিয়া বললেন, হুজুর, এসব সোনা রেখে আমি কী করব?  বিক্রি করে দিলেই ভালো হবে। ইমাম সাহেব সবগুলো সোনার টুকরো বের করে দিলেন। দোকানি নগদ মূল্যে সোনাগুলো কিনে নিলেন এবং বললেন, যদি এমন সোনা আরো থাকে তিনি তাও কিনবেন। উত্তরে ইমাম সাহেব বললেন, ইন-শা-আল্লাহ্ সোনা থাকলে আপনার কাছেই বিক্রি করব। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।

বিকেল নাগাদ ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে তাঁরা গ্রামে ফিরলেন। ইমাম সাহেব বললেন, গণি মিয়া, আপনাকে বাড়ি দিয়ে আসি। এতগুলো টাকা নিয়ে একা পথ চলা ঠিক হবে না। গণি মিয়া বললেন, আমি এখন বাড়ি যাব না। আমি মসজিদে যাব। আপনি মসজিদ-কমিটির সবাইকে খবর দেবেন। আমি ঠিক করেছি, প্রথম সাতটি ডিমের টাকা আমি মসজিদে দান করব আর সেই টাকা দিয়ে মসজিদটি দোতলা করা হবে। তারপর যদি ডিম পাই, এলাকার জন্য কিছু করব। ইমাম সাহেব গণি মিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, গণি মিয়া, আপনি সত্যি আল্লাহর প্রিয় একজন বান্দা। আল্লাহ আপনাকে আরও বরকত দান করুন।

মাগরিবের নামাজের পর মসজিদ-কমিটির মিটিং বসল। মিটিং-এ ইমাম সাহেব সোনার ডিম-এর পুরো ঘটনা খুলে বললেন এবং গণি মিয়া প্রথম সাতটি সোনার ডিম বিক্রি করে সেই টাকা মসজিদে দান করবেন শুনে সবাই ভীষণ খুশি হলো। সেই সাথে মসজিদ-কমিটির পক্ষ থেকে সোনার-ডিম-পাড়া মুরগি পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করা হলো। গণি মিয়া খুশি মনে দুজন পাহারাদার নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।

পরদিন শুক্রবার থেকে মসজিদের দোতলা নির্মাণের কাজ শুরু হলো। ইমাম সাহেব জুম্মার খুতবায় গণি মিয়ার অবদানের কথা বিস্তারিত তুলে ধরলেন। সবাইকে  গণি মিয়ার জন্য দোয়া করতে আহ্বান জানালেন। মসজিদের মুসুল্লিরা গণি মিয়ার এই অবদানের কথা শুনে অনেক প্রশংসা করলেন। প্রাণ-খুলে তার জন্য দু-হাত তুলে দোয়া করলেন। গণি মিয়ার মুরগি যেন নিয়মিত সোনার ডিম পাড়ে সেই জন্যও দোয়া করা হলো। গ্রামের সবাই গণি মিয়ার সেই সোনার-ডিম-পাড়া মুরগি দেখতে এলো। গণি মিয়া সাধ্যমতো সবাইকে আপ্যায়ন করলেন। ইমাম সাহেব প্রতিদিন ফজরের জামাতের পর মসজিদ-কমিটির লোকজন নিয়ে সোনার ডিম সংগ্রহ করতে আসেন। আল্লাহর অশেষ  রহমতে মুরগিটি প্রতিদিন ডিম দিতে লাগল।

অষ্টম দিন গণি মিয়া আবার মসজিদ-কমিটির মিটিং এ হাজির হলেন। আজ তিনি আরেকটা নতুন ঘোষণা দেবেন। মিটিং-এ মসজিদ-কমিটির বাইরেও গ্রামের অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করলেন। সবার মধ্যে একটাই কৌতুহল। আর তা হলো, গণি মিয়া আজ কী ঘোষণা দেবেন? সবশেষে যোগ দিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিম মাতবর। চেয়ারম্যান তাঁর সাথে আরো লোকজন নিয়ে মিটিং-এ যোগ দিলেন। হালিম মাতবরকে দেখে সবাই খুব বিরক্ত হলো। কারণ, এই লোক চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এলাকার কোনো উন্নয়ন করেনি। বরং এলাকার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাঁর সাথে সবসময় এলাকার খারাপ লোকগুলো ঘোরাঘুরি করে। এমন একজন লোককে দেখলে যে কেউ বিরক্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক।

মসজিদ-প্রাঙ্গনে মিটিং-এর আয়োজন করা হয়েছে। মিটিং-এ সবাই গণি মিয়াকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানালেন। তার অবদানের প্রশংসা করে সবাই তাঁকে অনেক ধন্যবাদ দিলেন। ইমাম সাহেব গণি মিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেললেন। সবাই তুমূল করতালি দিলেন। ইমাম সাহেবের বক্তব্যের পর চেয়ারম্যান হালিম মাতবর বক্তব্য শুরু করলেন। তিনি বললেন, সোনার-ডিম-বিক্রি -করে-পাওয়া টাকা আপনারা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারবেন না। আমি এলাকার চেয়ারম্যান, আমিই ভালো জানি, কীভাবে এলাকার উন্নয়ন করতে হয়। সবচেয়ে ভালো হবে যদি আপনারা সোনার ডিমগুলো ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেন। তাহলে এলাকার বেশি উন্নতি হবে। চেয়ারম্যানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কেউ তালি দিলেন না। চেয়ারম্যান গম্ভীর মুখে বসে পড়লেন। তাঁর লোকজন রাগে জ্বলতে লাগল।

সবশেষে গণি মিয়া বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন। বক্তব্যের শুরুতে গণি মিয়া বললেন, সকল প্রশংসার একমাত্র মালিক আল্লাহ্। আমি শুধু উসিলা মাত্র। যেহেতু মহান আল্লাহ আমাকে সোনার ডিম উপহার দিয়েছেন, তাই আমি প্রথমে আল্লাহর-ঘর মসজিদের উন্নয়নের কাজে হাত দিয়েছি। এখন আমি এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এলাকার সব যুবক-যুবতীদের নিয়ে আমি একটি সমবায় সমিতি করব। সোনার-ডিম-বিক্রির-সকল টাকা সেখানে দেব। সেই টাকা দিয়ে এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজের  ব্যবস্থা করা হবে। আধুনিক সেচের ব্যবস্থা করা হবে। নির্মাণ করা হবে আধুনিক ব্যবসাকেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। শিশুদের জন্য স্থাপন করা হবে আধুনিক শিশুপার্ক। বৃদ্ধদের জন্য হবে বৃদ্ধ-বিনোদন-কেন্দ্র। আরও হবে ফুল ও ফলের বাগান। গরু, হাঁস, মুরগি ও মাছের খামার। এলাকার একটি মানুষও যেন অপুষ্টিতে না ভোগে।

গ্রামের মাঝখানে একটি বিশাল হলরুম নির্মাণ করা হবে। সেখানে দেশের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা এসে আমাদের দামি দামি কথা শুনাবেন। উৎসাহ দেবেন। থাকবে একটি আধুনিক লাইব্রেরি। সেখানে হাজার হাজার বই থাকবে যাতে তা এলাকার ছাত্রছাত্রীদের কাজে লাগে।  আর এ-সবগুলো কাজ করবে সমিতির সদস্যরা। সারা মাসে যা আয় হবে তা সমবায় সমিতির সদস্যদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে। গ্রামে একটি মানুষও গরিব থাকবে না। গণি মিয়া তার বক্তব্যের শেষে সবার কাছে দোয়া চাইলেন যেন তার মুরগি নিয়মিত সোনার ডিম পাড়ে। তাহলেই এত সব কাজ করা সম্ভব হবে।

গণি মিয়ার বক্তব্য শেষ হতেই ইমাম সাহেবের নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই তাঁকে নিয়ে মিছিল করতে করতে বেরিয়ে পড়ল। গণি মিয়া সবাইকে থামাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু শত শত মানুষের স্রোতে তাঁর চেষ্টা হারিয়ে গেল। চেয়ারম্যান সাহেব ও তাঁর লোকেরা গোমড়া মুখে মসজিদ প্রাঙ্গণে বসে রইলেন।

বিকেল-নাগাদ গ্রামের সব মানুষ সমিতির সদস্য হয়ে গেল। ইমাম সাহেব গ্রামের শিক্ষিত যুবকদের সমিতির মূল কমিটিতে দায়িত্ব দিলেন। আর বৃদ্ধদেরকে সমিতির উপদেষ্টার দায়িত্ব দিলেন। সিদ্ধান্ত হলো, পরদিন থেকে সমিতি কাজ শুরু করবে।
শেষ রাতের দিকে চেয়ারম্যান হালিম মাতবর তাঁর লোকজন নিয়ে গণি মিয়ার বাড়িতে হাজির হলেন। প্রথমেই তারা পাহারাদার দুজনের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেললেন। তারপর গণি মিয়ার বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেন। ভয়ে গণি মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা থরথর করে কাঁপতে লাগলেন। চেয়ারম্যান বললেন, গণি মিয়া সোনার-ডিম-পাড়া মুরগি আজ থেকে আমার। সব ডিমের মালিক আমি। তারপর তিনি নিজ হাতে খাঁচাসহ সোনার-ডিম-পাড়া মুরগিটা নিয়ে চলে গেলেন। গণি মিয়া মাথায় হাত দিয়ে ঘরের মেঝেতে বসে রইলেন।

সকাল আটটা নাগাদ শতশত গ্রামবাসী গণিমিয়ার বাড়ির উঠানে ও আশেপাশে জমায়েত হয়ে গেল। সবার চোখেমুখে রাগ আর ক্ষোভ। দেখতে দেখতে মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে লাগল। ইমাম সাহেব সবার উদ্দেশ্যে বললেন, চেয়াম্যানের এ-অন্যায় কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। আমরা আমাদের সোনার-ডিম-পাড়া মুরগি অবশ্যই ফিরিয়ে আনব। সবাই একসাথে বলে উঠল, ঠিক ঠিক।

ইমাম সাহেবের নেতৃত্বে হাজারখানেক মানুষ চেয়ারম্যানের বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো। পথে আরো মানুষ তাদের সাথে যোগ দিল। এত লোক দেখে চেয়ারম্যান সাহেবের লোকজন ভয়ে পালিয়ে গেল। চেয়ারম্যান তার জীবন বাঁচাতে তাড়াতাড়ি থানায় ফোন করলেন। খবর পেয়ে থানার ওসি সাহেব অনেক পুলিশ নিয়ে হাজির হলেন। ওসি সাহেব উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, আপনারা শান্ত থাকুন। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্। কিছুক্ষণের মধ্যে এম পি সাহেবও এসে উপস্থিত হলেন। চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির উঠানে বৈঠক শুরু হলো। ইমাম সাহেব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ঘটনা এম পি সাহেবকে খুলে বললেন। সব শুনে এম পি সাহেব ভীষণ রেগে গেলেন। তিনি ওসি সাহেবকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেন।

সোনার-ডিম-পাড়া মুরগি চুরির অপরাধে পুলিশ চেয়ারম্যান সাহেবকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেল। এম পি সাহেব উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখলেন। বক্তব্যে তিনি বললেন, সম্মানিত গ্রামবাসী, আপনাদের একতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। সকল ভালো কাজে যদি আমরা একতাবদ্ধ হতে পারি তাহলে এদেশের অনেক উন্নতি হবে। উন্নতি হবে আমাদের সবার। আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। তিনি গণি মিয়া ও ইমাম সাহেবের অনেক প্রশংসা করলেন। প্রশংসা করলেন গ্রামের যুবক-যুবতীদের। তিনি বৃদ্ধদের উদ্দেশ্যে বললেন, আপনাদের যে কোনো ভালো কাজে, বিপদে-আপদে আপনারা আমাকে সবসময় কাছে পাবেন। আমাকে দয়া করে দূরে ঠেলে দেবেন না। আমি আপনাদের ছেলে হয়ে থাকতে চাই। এম পি সাহেবের বক্তব্য শুনে অনেক বৃদ্ধ গ্রামবাসী চোখ মুছলেন। তাঁরা হাত তুলে এম পি সাহেবের জন্য দোয়া করলেন।

বক্তব্য-শেষে এম পি সাহেব তার গাড়িতে করে মুরগির খাঁচাটি নিয়ে গণি মিয়ার বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। হাজার গ্রামবাসী তার পিছু নিলেন। এ যেন এক বিজয় মিছিল।

[লেখক : সাহিত্য সম্পাদক, সোনালী সন্দ্বীপ এবং প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ, এম বি গ্রামার স্কুল, হালিশহর, চট্টগ্রাম]


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন