আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার উদ্বোধনকালে জাবেদ।। শীঘ্রই ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস হাইওয়ের কাজ শুরু হবে

Published on 01 December 2016 | 3: 07 am

ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার যে সব প্রকল্প হাতে নিয়েছে তাতে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র। শীঘ্র ঢাকা চট্টগ্রামের এক্সপ্রেস হাইওয়ের কাজ শুরু হবে। এক্সপ্রেস হাইওয়ের হলে ঢাকাচট্টগ্রাম এর মধ্যে যোগাযোগে অনেক সময় সাশ্রয় হবে। এছাড়া আন্তর্জাাতিক ফ্লাইট এর সংখ্যা কম হওয়ায় শাহ আমানত বিমান বন্দরের সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। গতকাল সকালে নগরীর হালিশহর আবাহনী মাঠে মাসব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এ মেলার উদ্বোধন করেন। মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মাহজাবিন মোরশেদ। মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি বিএসআরএম গ্রুপের এমডি আলী হোসেন আলী আকবর, সহসভাপতি এ. এম. মাহবুব চৌধুরী, সিএমসিসিআই পরিচালক আব্দুস ছালাম, মো.শাহাবুদ্দিন আলম, মোহাম্মদ এনামুল হক, সুলতানা শিরিন আক্তার, চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার পরিচালক আবিদা মোস্তফা সহ অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়নে এখানকার ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। এ অঞ্চলে বিদ্যমান সুযোগসুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে দেশ উন্নয়নে ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুন নতুন ধারণা ও কৌশল প্রয়োগ করে শিল্পায়নকে গতিশীল করতে হবে। কারণ দ্রুত শিল্পায়ন ছাড়া এগিয়ে যেতে পারব না। বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে। এ পর্যন্ত যে সব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে এ চট্টগ্রাম হবে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক নগর। ট্যানেল, গভীর সমুদ্রবন্দর, এক্সপ্রেস হাইওয়ে সহ বেশ কিছু বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এক্সপ্রেস হাইওয়ে হলে চট্টগ্রামেই গড়ে উঠবে স্যাটালাইট সিটি।

মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুযোগ সুবিধা, অবকাঠামো ইত্যাদি সংকটের কারনে বেসরকারি খাতের অবদান আশানুরূপ হচ্ছে না। না হয় বেসরকারি খাত আরও বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হত। উদাহরণ হিসাবে বলা হয়, একসময় সিআই শীট বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো আর এখন দেশীয় কলকারখানায় উৎপাদিত উন্নতমানের পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এরকম আরও বহু পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে আমদানি নির্ভরতা বহুলাংশে কমানো যাবে। বর্তমান সরকার ব্যবসাবাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে দেশীয় ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুযোগসুবিধা দিলে এ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। যা বিশ্ববাসীর কাছে রোল মডেল দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে। বাংলাদেশ যে ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে সেই ধারা অব্যাহত থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে বাংলাদেশ কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, জিডিপির পরিমাণ, রফতানি, রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের অবদান দেশেবিদেশে সমাদৃত। বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। এর লক্ষে ব্যবসায়ীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, যৌক্তিক শুল্কহার নির্ধারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত এবং উৎপাদিত পণ্যের বিপণন, প্রচারপ্রসারে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এর মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের পরিবর্তে দেশিয় পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারিত হবে। মাহজাবিন মোরশেদ বলেন, আমি ব্যবসার সাথে আছি। জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা তুলে ধরি। দেশের উন্নয়নে ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বার পরিচালক আবিদা মোস্তফা বলেন, মেলা আয়োজনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুজ্জামান ভূঁইয়া। মেলার আহ্বায়ক বলেন, বিদেশে দেশিয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মেলা চলাকালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদেরকে মেলা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া মেলায় আগত দর্শনাথী, অংশগ্রহনকারী এবং সাংবাদিকদের সুবিধার্থে ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিকভাবে একটি ইনফরমেশন বুথ ও মিডিয়া সেন্টার চালু থাকছে। মেলায় দর্শনার্থীরা সুলভমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা যায়, তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত বিআইটিইএফ মেলার ১ লাখ ৭০ হাজার বর্গফুট জায়গায় মাস ব্যাপী এ রপ্তানি ও বাণিজ্য মেলায় ব্র্যাক বিকাশ, আলআরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ, টিকে গ্রুপ, বিএসআরএম, কেডিএস গ্রুপ, সিলন চা, কিষোয়ান গ্রুপ, আরকে হোম টেক্সটাইল, ভারত প্যাভিলিয়ান, থাইল্যান্ড প্যাভিলিয়ান, আরএফএল প্লাস্টিক, কাপড় বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, ব্যাগ ও কসমেটিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, রান্নাবান্নার প্রয়োজনীয় ক্রোকারিজ সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান, বাচ্চাদের খেলনা, ঘর সাজানোর শোপিস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ মোট দু’শটি উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। ক্রেতা সাধারণের জন্য আকর্ষণীয় মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুয়োগ রেখেছে। পহেলা ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা চলে। যা আগামি পহেলা জানুয়ারিতে শেষ হবে। শিশুকিশোরদের খেলাবিনোদনের জন্য আছে কিডস জোন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন