আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ভেজাল প্যারাসিটামল : রিড ফার্মার সবাই খালাস

Published on 28 November 2016 | 8: 29 am

ভেজাল প্যারাসিটামল পানে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় রিড ফার্মার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামির সবাই বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

ঢাকার ঔষধ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারক বলেন, ‘মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার ‘অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে’ রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন রীড ফার্মার মালিক মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী কোম্পানির পরিচালক শিউলি রহমান, পরিচালক আব্দুল গণি, ফার্মাসিস্ট মাহবুবুল ইসলাম ও আরেক ফার্মাসিস্ট এনামুল হক।

পাঁচ আসামির মধ‌্যে রীড ফার্মার মালিক মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী শিউলি রহমান রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামী আব্দুল গণি, মাহবুবুল ইসলাম ও এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।

রায় ঘোষণার আগে বিচারক তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম সঠিক নিয়ম মেনে জব্দ তালিকা ও পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেননি। মামলা দায়েরের সময় যেসব পদেক্ষেপ নেওয়া উচিৎ ছিল, তা না নেওয়ায় তার অযোগ্যতা ও অদক্ষতা প্রমাণিত হয়।’

২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত রীড ফার্মার প্যারাসিটামল সিরাপ পানে সারাদেশে ২৮ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠলে ১০ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়।

তৎকালীন ড্রাগ সুপার শফিকুল ইসলাম মামলা করার পর ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এছাড়া ওই সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও চারটি মামলা হয় রীড ফার্মার বিরুদ্ধে।

মিজানুর রহমান ওই বছরের ১২ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করলে ঢাকার তৎকালীন জজ এ এন এম বশিরউল্লাহ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার স্ত্রী শিউলি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। বাকী তিন আসামি পলাতক থাকেন।

মামলার বিচার চলাকালে বাদী শফিকুল ইসলাম, ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক এ আর খান, একই হাসপাতালের উপ-পরিচালক এইচ এস কে আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন, একই অধিদপ্তরের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবের সহকারী বিশ্লেষক মো. আবু বকর সিদ্দিক রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন।

রায় ঘোষণার পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ অপরাধের সাথে আমি জড়িত না। আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি। তবে এ মামলার কারণে আমি অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছি। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, রীড ফার্মার প্যারাসিটামলে বিষাক্ত উপাদানের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলেন, ‘ওই প্যারাসিটামলে ডাই ইথানল গ্লাইকল পাওয়া যায়নি। তবে ওষুধ ছিল নিম্নমানের।’

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন