আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



পেছাল টিকফা মিটিং – জিএসপি ইস্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিমত বার্নিকাটের

Published on 28 November 2016 | 4: 47 am

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছিল। আমরা সব শর্ত পূরণের পরও তারা জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করেনি।’

তার দাবি, দেশের কতিপয় রাজনৈতিক নেতাও যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধার বিরোধিতা করেছিল। তবে নতুন মার্কিন সরকার দ্রুত জিএসপি পুনর্বহাল করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, জিএসপি স্থগিত রাজতিক ইস্যু ছিল না। আমেরিকা বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করে তা স্থগিত করেছিল। সে সময় দেখা যায়, অনেক কারখানায় ত্রুটিপূর্ণ ও কর্মপরিবেশ উপযোগী ছিল না।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আমেরিকার সঙ্গে যে ‘টিকফা’ চুক্তি হওয়ার কথা ছিল তা আপাতত হচ্ছে না। দেশটির নতুন সরকার গঠনের কারণে তা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

তবে আগামী বছরের মার্চের যে কোনো দিন এ চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে। বৈঠকে টিকফা ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও জিএসপিসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকফা ফোরামের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সবেমাত্র মার্কিন নির্বাচন শেষ হয়েছে। ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন তার দায়িত্ব নেবে। তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজস্ব এজেন্ডা রয়েছে।

এসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সময়ের প্রয়োজন। আমাদেরও তা পর্যবেক্ষণে সময় দরকার। তাই আমরা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে এ সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। যারা পাচ্ছে, তাদের চেয়ে বাংলাদেশের কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমমান ভালো। শ্রমিকরা ভালো মজুরি পাচ্ছে। তারা ভালোভাবে কাজ করছে।

দেশের কোনো কারখানায় কোনো শ্রমিকর অভিযোগ নেই। এতকিছুর পরও বাংলাদেশ জিএসপি পাচ্ছে না। এর একমাত্র কারণ রাজনৈতিক। যুক্তরাষ্ট্রের না দেয়াও রাজনৈতিক। আমি আশা করছি, রাজনীতির আকাশে এ কালো মেঘ কেটে যাবে।

রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, জিএসপি পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এ উন্নতি সব সময়ই চলমান। আরও উন্নতি হলে এর সুফল কিন্তু বাংলাদেশই ভোগ করবে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন