আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চাই মানবমনের কলুষ মুছে মুক্তবুদ্ধি জাগাবে- ড. শিরীণ আখতার

Published on 28 November 2016 | 4: 27 am

সন্দীপনার ২৬ বছর পূর্তি উৎসবে সংস্কৃতিকর্মির মিলন মেলা

সন্দীপনার ২৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সাংস্কৃতিক উৎসব’১৬ ছাব্বিশ নভেম্বর দিনভর কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সংলগ্ন মিউজিয়াম মিলনায়তনে উদ্যাপিত হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীত ও সংগঠন সঙ্গীতের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও সংগঠন পতাকা উত্তোলন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন- প্রধান অতিথি চ.বি’র উপ-উপাচার্য, কথা সাহিত্যিক প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। দিনের কর্মসূচির মাঝে ছিল- বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ‘মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে সুশীল সমাজ বিনির্মানে সংস্কৃতি কর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা, কর্মী সম্মেলন, কবিতা উৎসব, গণসংগীতের আসর, গুণীজন সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণী, দলীয় ও একক শিল্পী পরিবেশনা, নাট্য প্রদর্শনী ও চিত্র প্রদর্শণী প্রভৃতি।

সম্মানিত বিশেষ অতিথিবৃন্দের মাঝে ছিলেন- চ.বি. সিনেট সদস্য সমাজবিজ্ঞানী ড. মঞ্জুর উল আমিন চৌধুরী, অনারারী কনসুলার অব জাপান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, ভৌত বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়–য়া, বিশিষ্ট সংগঠক সুযশময় চৌধুরী, নারী নেত্রী মিসেস রওশন আরা চৌধুরী, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব শেখ শওকত ইকবাল, সাংবাদিক আবছার উদ্দিন অলি, সংগঠক ও অভিনেতা সজল চৌধুরী, কবিয়াল আবদুল লতিফ, কবি লেখক এডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী, বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার ইমরান ফারুক, লোককলা চর্চা কেন্দ্রের সি.ও কবিয়াল অশ্বিনী কুমার দাশ প্রমুখ।

সন্দীপনার কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যদু গোপাল বৈষ্ণবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সন্দীপনার সিনিয়র সহ-সভাপতি শিক্ষাবিদ বাবুল কান্তি দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন-প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও উৎসব উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার দাশ, মহাসচিব তাহেরা খাতুন, নাট্যকর্মী  জাহানারা পারুল, এমরান হোসেন মিঠু, মোহাম্মদ রাশেদ।

নাট্যকর্মী ও বাচিক শিল্পী মেজবাহ চৌধুরী ও সাবরিনা লিনা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা  সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন- শুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির চর্চায় সত্যিকারের দেশপ্রেম জেগে উঠে। চিত্তের কলুষমুক্তির জন্য কাব্য গীতের সুর-ছন্দ জীবনের ছন্দ পতন থেকে রক্ষার পথ দেখায়। বিক্ষিপ্ত মন, বৈরী চেতনা মানবতাকে কলুষিত করে সমাজে বিকলাঙ্গ বোধের যাজন করে। যার পর নাই ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়কিতা, পরমত অসহিষ্ণুতার মত অপঘাতের করাল গ্রাসে সমাজকে অধপাতকে টেনে আনে। যার ফলে ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বাঙালি জাতির অর্জিত স্বাধীনতা ৭১’এর পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মার হোলিখেলায় বাংলাদেশ কখনো কখনো অশান্ত হয়ে উঠে। জঙ্গিবাদের মত হীনতম অপসংস্কৃতির অশনি সংকেত থেকে মুক্তির জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে সেই অসুন্দরকে রুখে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে সন্দীপনা ২৬ বছর লড়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও সামনে এগিয়ে যাবে।

বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানী ড. মঞ্জুর উল আমিন বলেন- সন্দীপনা দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সারা বাংলায় বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্যদিয়ে যে বিশাল সংস্কৃতিকর্মি বাহিনী সৃষ্টি করেছে, তা এই জাতির ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে চলছে। সেই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। তা না হলে মুষ্ঠিমেয় পাকি চিন্তার ধারকরা বাংলার সবুজ ফসলের মাঠে ঘুঘু হয়ে ফিরে আসতে পারে। যুব শক্তিকে সেই অপশক্তি রুখে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সর্বশেষ পর্বে সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্যে অংশ নেন- ওস্তাদ রতন কুমার রাহা, শিল্পী কাজল দত্ত, প্রকৌশলী সঞ্চয়ন দাশ, শিল্পী সামান্তা, মুসলিম আলি জনি, উজ্জ্বল সিংহ, মোহাম্মদ রাশেদ, মিনহাজুন্নিছা, কবি তাহেরা খাতুন, দিদার হোসেন, মোঃ মিজান, আইটি এক্সপার্ট মোহাম্মদ ইসমাইল, ডা: শিউলী চৌধুরী, প্রকৌশলী অনিত কুমার নাথ, মোশাররফ হোসেন খান রুনু, কবি তরণী কুমার সেন, জাহানারা পারুল, কবি শিহাব উদ্দিন, কবিয়াল বাবুল দাশ, কবিয়াল  সন্তেুাষ কুমার দে, কবি আসিফ ইকবাল, আমিরুন নেছা জেরিন, কবি আখেরুন নেছা দিনা, নিগার খন্দকার, কবি ফেরদৌসী মুন, শিল্পী বৃষ্টি দাশ, নুরুন্নবী নাঈম, চৈতী দাশ, খন্দকার হাসান আরাফাত, শিল্পী দত্ত, আজগর আলী, তরুন বিশ্বাস, রুমানা সুলতানা, শিবলু দাশ প্রমুখ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন