আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব : মৌলভী সফিকুল আলম সন্দ্বীপের উজ্জল এক সমাজ সংস্কারক

Published on 23 November 2016 | 10: 45 am

:: লিও রিয়াদ রহমান ::
.
মৌলভী সফিকুল আলম সাহেব ১৯২৫ সালের ১৪ মার্চ চট্রগ্রাম জেলা গাছুয়া ইউনিয়ন সন্দ্বীপ উপজেলা জন্মগ্রহন করেন।তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন স্থানীয় হাদিয়া ফোরকানিয়া মক্তবে প্রথম শিক্ষার হাতে খরি দিয়ে। এরপর তিনি সন্দ্বীপ বসিরিয়া আহামদিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করেন ও চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে ইন্টার মিডিয়েট পাশ করেন। তার পর তিনি নিজ গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার মানসে ১৯৫৬ সালে এ, কে, একাডেমী গাছুয়া হাইস্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন।তিনি দীর্ঘ দিন সুনাম ও দক্ষতার ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহন করেন। তিনি ছাত্র জীবনে পড়ালেখার পাশা পাশি সামাজিক ও রাজনীতি কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি তার নিজ প্রতিভায় ১৯৫২/৫৩ সালে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্র লীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধে ঝাপিয়ে পরেন এবং নিজ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষে জনমত গঠনে সকল মুক্তি যোদ্ধাদের কে সংগঠিত করতে তার অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি যদিও সক্রিয় যুদ্ধে অংশ নেন নি। তবুও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে অনুপ্রেরনা যোগানোর ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল সীমাহীন।এমন কি তিনি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকারদের হুমকির প্রধান কারন ছিলেন এজন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য।এছাড়া তিনি সংসার জীবনের মায়া মমতার কথা চিন্তাও করেন নি । তিনি চিন্তা করেছেন দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্বে ছিলেন ও আত্যন্ত দক্ষতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ৭৩ ও ৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে ওনার অবদান ছিল অনেক এবং স্বরণীয়। যা আজও তার এলাকার মানুষ স্মরণ করে। তিনি ছিলেন তৎকালীন গাছুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। শুধু রাজনীতিতে নয় ধর্মীয় নীতিতে ও তার অবদান অপরিসীম। নিজ গ্রাম গাছুয়াতে ইসলামি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৭৪ সালে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া কাটগড় মাদ্রাসা নিজ এলাকাতে স্হানান্তরে তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।

তিনি মাদ্রাসা শিপটিং কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে দক্ষতার সাথে তা পালন করেন। শুধু মাদ্রাসা এনেই তিনি ক্ষান্ত হন নি। বরং বাকি জীবন কাটিয়েছেন মাদ্রাসার খেদমতে। দীর্ঘ দিন তিনি মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। মাদ্রাসার এতিম খানা,হেফজ খানা ও মাদ্রাসা দেখাশুনার কাজে কাটিয়ে দিতেন রাত দিন। বিশাল মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা ওনার অবদানের সাক্ষি। মাদ্রাসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করার ফলে এই মাদ্রাসায় সন্দ্বীপের হাজার মানুষ আজ ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষীত। সন্দ্বীপ উপজেলা ইসলামের আলো প্রজ্বলিত করতে চেষ্ঠা করেন।তিনি হাদিয়া মসজিদ,পোরামার মসজিদ,আমানির গো মসজিদের খতিব ছিলেন।

এলাকাতে নীতি ও আদর্শ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হক সাহেবের বাজারে ইসলামী সমাজ কল্যান পাঠাগাড় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ও রেখেছেন অবদান। ১৯৬৭ সাল থেকে গাছুয়া সমাজ কল্যাণ সমিতির সদস্য ও সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৩ সালে গাছুয়া মধ্যপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় স্হাপনে তার অবদান চির স্মরনীয়।এই বিদ্যালয়ের কারনে আজ এলাকা শিক্ষার আলোয় আলোকিত।ঐ এলাকায় লোক আজ ঘরে ঘরে শিক্ষিত হচ্ছে। ১৯৬৮ সাল থেকে ফুরফুরা চিলচিলা দরবার শরীফের শাহছুপি হয়রত মাঃ মোখলেছুর রহমানের শিষ্বত্ব গ্রহন করেন। দীর্ঘ সাধনার পর ২০০০ সালে খেলাফত লাভ করেন ও রিতিমত সুফিবাদের রিতিনিতী পালন করতেন। এমন কি তিনি মসজিদে গিয়ে গিয়ে সুফিবাদের দাওয়াত দিতেন। দক্ষিণ পশ্চিম গাছুয়া ( দুবাই বাজার) খানকায়ে রহমানিয়া প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অপরিসীম।যা আজও অত্র এলাকার মানুষ স্মরণ করে।স্বল্প সময়ের বর্ণাঢ্য জীবনের অধীকারী এ মানুষটি ১৪ মে ২০১২ সালে পরলোক গমন করেন।তার সৎ কর্ম গুলো আজীবন মানুষের হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে থাকবে।

লেখকঃ লিও রিয়াদ রহমান, লেখক ও সমাজকর্মী । (মগধরা, সন্দ্বীপ ) ১৮ আগস্ট ২০১৬


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন