আজ শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ ইং, ০৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অর্থমন্ত্রী চান ৯ লাখ নতুন করদাতা

Published on 22 November 2016 | 4: 48 am

চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের মধ্যে নতুন আরো ৯ লাখ করদাতা চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। করদাতা সংগ্রহে ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী করদাতা খুঁজে বের করতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের একটি উর্ধ্বতন সূত্র রাইজিংবিডিকে এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৬ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ১৩ লাখ করদাতা রয়েছে। করদাতার এ সংখ্যা মোট জনগণের তুলনায় খুবই নগণ্য। সুতরাং আয়কর আদায় বাড়াতে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

এনবিআরের প্রশংসা করে চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ নতুন করদাতা খুঁজে বের করেছে এনবিআর। তবে এনবিআরকে এখানে থেমে গেলে হবে না। করদাতা অনুসন্ধানের এ কাজ চলমান রাখতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে আরো ৯ লাখ নতুন করদাতা খুঁজে বের করতে হবে। তাহলে অর্থবছর শেষে দেশে প্রায় ২৫ লাখ করদাতা হবে।

এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে করদাতা সংগ্রহে কর্মকৌশল প্রণয়ন করে কর অঞ্চলগুলোতে চিঠি দিয়েছে এনবিআর।

এনবিআর চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বেশকিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের যে অংশে করদাতার সংখ্যা বেশি সে অংশ ছেড়ে যে অংশে কম করদাতা যে অংশ থেকে নতুন করদাতা খুঁজে পেতে চেষ্টা করতে হবে। এ ছাড়া শহরকেন্দ্রিক ছেড়ে উপজেলা বা তৃণমূল পর্যায়ে যেতে হবে। জনবহুল এলাকাতে হঠাৎ পরিদর্শনে যেতে হবে।

এর আগে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় আয়কর দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ করদাতা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম চার মাসে সাড়ে তিন লাখ নতুন করদাতা পেয়েছি। আশা করছি চলতি অর্থবছর শেষে দেশে করদাতা হবে প্রায় ২৫ লাখ।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে করদাতার সংখ্যা খুবই কম। তবে আশা করছি আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সংখ্যা একটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছাবে। আমরা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে রাজস্ব দেই।

এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে করদাতাবান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এনবিআর। বর্তমানে কর আদায়ে হয়রানিসহ যে কোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে এনবিআর। এ জন্য কর প্রদানে অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে করদাতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেশি।

অর্থমন্ত্রীর চিঠির বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠিরে বিষয় আমার জানা নেই। তবে তার সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি আলাপ হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ নতুন করদাতা পেয়েছি। এ সংক্রান্ত জরিপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করি বছর শেষে আমরা ১০ লাখ নতুন করদাতা সংগ্রহ করতে পারবো।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর প্রদানে জনগণকে উৎসাহ দিতে আমরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসহ সম্মাননা দেওয়া শুরু করেছি। একইসঙ্গে যারা সরকারের প্রাপ্য কর ফাঁকি দেয় তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সুতরাং করযোগ্য আয় থাকলে অবশ্যই কর পরিশোধ করতে হবে।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন