আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ব্যবসায়ী জালালের ঘাতক গ্রেপ্তার ।। দাওয়াত দিয়ে বাসায় নিয়ে পরিকল্পিত খুন

Published on 22 November 2016 | 3: 20 am

পাওনা আদায় সংক্রান্ত কোন বিরোধ নয় কিংবা আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে কেউ খুনের ঘটনায় জড়িত নন। ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ’ থেকেই খুন করা হয় জালাল উদ্দিন সুলতানকে। গতকাল বিকেল পৌনে তিনটার দিকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী মো. কামালকে (৩১) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নগরীর কর্ণফুলি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর এ রহস্য উন্মোচিত হয়। অভিযান পরিচালনাকারী পিবিআই ইন্সপেক্টর সন্তোষ কুমার চাকমা আজাদীকে জানান, খুন করার জন্যই কামাল তাকে নিজের বাসায় দাওয়াত দিয়েছিল। তবে দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণটি তিনি স্পষ্ট করতে চাননি। আজ তাকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। কামাল নগরীর ডবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ির ২ নম্বর গলিতে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাজীর বাজারের খোকন হোসেনের ছেলে।

প্রসঙ্গত, নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে জালাল উদ্দিন সুলতানের (৪৬) লাশ উদ্ধার করে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। লাশের নিচের অংশ রশি বাঁধা অবস্থায় বস্তার ভেতরে এবং উপরের অংশ রশি বাঁধা অবস্থায় গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি আর ফিরে আসেন নি। জালাল উদ্দিন সুলতান আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার৯ নম্বর সড়কের সুলতান আহমদ প্রকাশ সুলতান কন্ট্রাক্টরের দ্বিতীয় ছেলে।

জালাল উদ্দিন হত্যা মামলার বাদি ও তার ছেলে ইমাজ উদ্দিন সুলতান ফরহাদ বলেন, কামাল একসময় আমাদের বাসায় ভাড়াটিয়া ছিল। ২৩ মাসের ভাড়া বকেয়া রেখে সে কয়েক মাস আগে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। এছাড়া আমার বাবার কাছ থেকে সে ঋণও নিয়েছিল। সব মিলিয়ে আমার বাবা তার কাছে প্রায় ২ লাখ টাকা পাওনা ছিল। টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেয়ায় কামাল আমার বাবাকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আজাদীর কাছে জানিয়েছে, খুনের কারণ এটি নাও হতে পারে। কারণ কামালের সাথে জালাল উদ্দিন সুলতানের সম্পর্ক অন্তত দশ বারো বছর পুরনো। কামালের বাসায় জালাল উদ্দিন সুলতানের প্রায়শ যাতায়াত ছিল। যদি এটা মানা নাও যায়, তবে বলা যায় কামালের মতো একজন ব্যক্তি আমন্ত্রণ জানালেই জালাল উদ্দিন সুলতান যাবেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

অভিযানের বিবরণ দিতে গিয়ে পিআইবি ইন্সপেক্টর সন্তোষ চাকমা আজাদীকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামালকে নগরীর কর্ণফুলী থানা এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের কামাল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। কামালকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে জালালের মোবাইল, হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ উদ্ধার করে পিবিআই টিম। এছাড়া জালালের এটিএম কার্ডটি আধপোড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। জালালের ব্যবসায়িক কিছু কাগজপত্রও কামালের কাছে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গ্রেফতারের পর কামাল খুনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে পিবিআই টিমের কাছে। সন্তোষ চাকমা জানান, পূর্ব সম্পর্কের সূত্র ধরে কামাল নিজের বাসায় জালাল উদ্দিনকে নিয়ে যায়। জালালকে চেয়ারে বসিয়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর লাশ বস্তায় ভরে গভীর রাতে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় ফেলে দিয়ে চলে আসে। যে দড়ি দিয়ে জালালকে শ্বাসরোধ করা হয় সেই দড়ি দিয়ে হাতপা বেঁধে তাকে বস্তায় ঢোকানো হয়। এ কাজে কামালের স্ত্রী ও ফুপাত ভাই তাকে সাহায্য করে বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানায় কামাল।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন