আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চবি ক্যাম্পাস জুড়ে একটাই প্রশ্ন দিয়াজ কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছে?

Published on 22 November 2016 | 3: 08 am

মহিউদ্দিন টিপু :: ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী কি আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে এ প্রশ্ন এখন তার পরিবার ও দলীয় সহকর্মীদের মুখে মুখে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত বাসভবনের নিজ কক্ষে গেল রবিবার রাতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন দেখে এ প্রশ্ন জেগেছে দিয়াজের পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে। সুরতহালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে এখনই মুখ খুলতে না চাইলেও তারা মরদেহের শরীরের যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং দিয়াজের ঘরের যে চিত্র দেখা গেছে তাতে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন তার পরিবার সদস্যসহ অনেকেই।

তবে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ রাখার ঘটনাও ভাবিয়ে তুলেছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এদিকে গতকাল সোমবার সকালে দিয়াজের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে তার মরদেহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে গেছে তার অনুগত ছাত্রলীগ নেতারা বাদ আচর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্টিত হয়।

এদিকে গতকাল সকালে দিয়াজ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে শহরের পাঁচলাইশ থানার প্রবর্তক মোড় অবরোধ করে দিয়াজের অনুগত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে টানা তিন ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় তারা। এদিকে, দিয়াজের মরদেহ উদ্ধারের পরপরই রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দিয়াজের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় পেয়েছেন তিনি। পরে সবার উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসপি নূরে আলম মিনা আরও জানান, তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দিয়াজকে দেখতে পান। এর পরপরই সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়। তারা আলামত সংগ্রহ করেছেন। তিনি মরদেহের শরীরের গলা ও হাতে দাগ দেখতে পেয়েছেন বলে জানান। তিনি জানান, আজ মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে ।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বোঝা যাবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা। তবে এ ঘটনার তদন্তকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি যাতে নিরপেক্ষ ভাবে সম্পন্ন করা হয় সেজন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সুরতহাল রিপোর্ট এ দিয়াজের শরীরের তিন জায়গায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গলায় কালচে দাগ, দুই হাতের কুনই থেকে নিচ পর্যন্ত লালচে দাগ, ও বাম পায়ের নিচে আঁচড়ের দাগ ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় দিয়াজের ঘর ছিল অগোছালো। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

দিয়াজের পরিবার দাবি করেছে আত্মহত্যা করেননি দিয়াজ, তাকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। এমনকি দিয়াজের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিয়াজের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থার যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে গেছে সেটিতে দেখা যায় পরিপাটি বিছানায় বালিশের ওপর দাঁড়ানো দিয়াজ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। তাই, তার ঘর গোছালো ছিল না এ যুক্তিও মানতে রাজি নন দিয়াজের পরিবার সদস্যরা। গণমাধ্যমের কাছে দিয়াজের মামা রাশেদ আমিন চৌধুরী ও তার এক বোন দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্ত দাবি করে এ ঘটনার পেছনে দলীয় কোন্দলকেই ইঙ্গিত করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি তাইফুল হক ও তপুকে দুষ্কৃতকারীরা কুপিয়ে আহত করার পরে এ ঘটনার জন্য সংগঠনের একাংশ দিয়াজ ইরফান চৌধুরী ও আরেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মামুনের বাসায় ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে দিয়াজের বাবা-মাসহ পরিবার সদস্যরা রাতে বাসায় থাকতেন না। দিয়াজের পরিবার সদস্যরা বিষয়টি উল্লেখ করে এর সঙ্গে দিয়াজের মৃত্যুর যোগসূত্র আছে কিনা তাও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন