আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



হিলফুল ফুযুলে ১২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

Published on 21 November 2016 | 9: 26 am

হিলফুল ফুযুল সমাজ কল্যাণ সংস্থার বিরুদ্ধে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন প্রকল্পের নামে ঋণ হিসেবে নেওয়া টাকা এই বেসরকারি সংস্থাটি আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এই ঋণের অর্থ আত্মসাতের ব্যাপারে হিলফুল ফুযুলের নির্বাহী পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে।

অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ৫টি ব্যাংক ও ইডকল থেকে অভিযোগসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল আলম। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ইডকল থেকে হিলফুল ফুযুলের নেওয়া ঋণের ১২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা হিলফুলের নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও কয়েকজন কর্মকর্তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযোগসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। যা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষ হলে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা পাওয়া যাবে।

দুদকে পাঠানো অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইডকল দেশের বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত। ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইডকল এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ইডকল এ সকল প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান দিয়ে থাকে। এরই অংশ হিসেবে ‍হিলফুল ফুযুল ২০০৬ সালের ১ আগস্ট একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইডকলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুসারে সংস্থাটি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সময়ে ইডকল থেকে ১৩৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে। চুক্তির শর্তানুযায়ী ত্রৈমাসিক কিস্তির ভিত্তিতে ইডকলের ঋণ তাদের পরিশোধ করার কথা। কিন্তু সংস্থাটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইডকলকে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করলেও এরপর থেকে ঋণ পরিশোধ বন্ধ রেখেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ২৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বর্তমানে ইডকলের প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ সুদসহ ১২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে আসল অর্থ হলো ১০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পরিশোধ করছে না।

অভিযোগের বিষয়ে হিলফুল ফুযুল সমাজ কল্যাণ সংস্থার পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইডকলের ঋণের ১২৩ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারি নাই এটা সত্য। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠান ওই টাকা আত্মসাৎ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় দিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সারা দেশে মাঠপর্যায়ে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা পড়ে আছে। যা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ ইডকলের সোলার প্যানেলের অতিরিক্ত মূল্য।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক গ্রাহক সৌর প্যানেল নিয়ে তা ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। তারা বলছেন, বাজারে ইডকলের চেয়ে অনেক সস্তায় সোলার সিস্টেম পাওয়া যায়।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কম দামের প্যানেলগুলো যদিও নিম্নমানের কিন্তু গ্রাহকরা মানের বিষয়টি বোঝেন না। এসব কারণে আমরা ঋণের অর্থ আদায় করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দিয়েও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে হিলফুল ফুযুল অফিস সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম বেশ কয়েক দিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। অফিসের কর্মকর্তারা জানেন না তিনি কোথায় আছেন।

দুদকে পেশ করা ইডকলের অভিযোগে বলা হয়েছে, রফিকুল ইসলাম দুর্নীতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি নিজের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ওই সব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবৈধভাবে প্রচুর অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করেছেন। তিনি গড়ে তুলেছেন অন্তত ৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আর-ওয়ান সোলার, শ্যামলীর আর-ওয়ান ইলেকট্রনিক্স, কামরাঙ্গীরচরে ফুযুল প্রডাক্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, শিকড় হাউজিং লিমিটেড, রিছওয়ে ফ্যাশনস লিমিটেড, সেতু রোজ টেকনোলজি লিমিটেড সিএন্ডএফ এজেন্ট, জি ক্যাবল ফ্যাক্টরি ও আডিয়েল ক্যারিয়ার সোসাইটি। এ সকল প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন