আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চীনের সাথে ওয়াসার চুক্তি স্বাক্ষর ।। কর্ণফুলি প্রকল্পের পানি বিতরণ ও পুরনো পাইপলাইন সংস্কার হচ্ছে

Published on 21 November 2016 | 3: 27 am

রাঙ্গুনিয়া থেকে কর্ণফুলি পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত পানি শহরে বিতরণ এবং প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পুরনো পাইপলাইন সংস্কার শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না জিওইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিজিসি) মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর একটি হোটেল পেনিনসুলায় দু’পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ এবং সিজিসি’র পক্ষে প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট সুন জিন হং চুক্তিতে সই করেন। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ(কেডাব্লিওএসপি) নামে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে আগামি ২০২২ সালে। পানি সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং একই সাথে বর্ধিত পানির সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থার জন্য সঞ্চালন ও বিতরণ পাইপ লাইন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজ করতেই জাইকার সহায়তায় এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জাইকার প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুযায়ী অনলাইনে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতির (আইসিবি) মাধ্যমে চায়না জিওইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরশেন (সিজিসি) কাজটি পেয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার, জাপানের জাইকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার অর্থায়নে প্রায় চার হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এরমধ্যে সরকার ৮৪ কোটি ৪৮০ লক্ষ টাকা, চট্টগ্রাম ওয়াসা ২৩ কোটি ৭ লক্ষ টাকা এবং জাইকা ৩ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার যোগান দিচ্ছে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটির কাজ শেষ হতে পারে। এর আগে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ১৯৮৭ সাল পরবর্র্তী প্রায় ২৯ বছর পর এই দ্বিতীয় প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলি পানি সরবরাহ প্রকল্প১ হতে পুরোদমে পানি সরবরাহ শুরু হলে প্রায় ৭০ শতাংশ পানির সমস্যা সমাধান হবে। তিনি বলেন, প্রায় ২০২৫ বছরের পুরোনো আগের প্রকল্পের ৬০ শতাংশ পাইপ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পানি সরবরাহকালে পাইপে অর্ধেক প্রেসারে দিতেই অধিকাংশ পাইপ ফেটে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাল্ব নিয়ন্ত্রণ করতে উৎপাদন কাজ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। যে কারণে নগরবাসীকে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা অনেকটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নগরীর প্রায় ৬০০ কি.মি. পুরনো পাইপ লাইন পরিবর্তন করতে হবে জানিয়ে একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, এই চুক্তির আওতায় পানি সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং একই সাথে বর্ধিত পানির সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থার জন্য সঞ্চালন ও বিতরণ পাইপ লাইন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজও করা হবে। তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলি নদীর ওপারে শীঘ্রই ১ হাজার ১০০ কোটি ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর ৯০ শতাংশ টিউবওয়েল বন্ধ হয়ে যাবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিজিসি’র প্রেসিডেন্ট সুন জিন হং, এনজিএস’র কনসালটেন্ট আসাহারু তাকাসুজি, ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী জহুরুল হক, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ২ এর পরিচালক কাজী ইয়াকুব সিরাজউদদৌল্লাহ, ওয়াসার সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন কুমার সরকার প্রমুখ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন