আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম ওবাইদুল হক এমপি ছিলেন সাধারণ মানুষের বন্ধু

Published on 20 November 2016 | 11: 18 am

স্বাধীনতাত্তোর নির্বাচিত সন্দ্বীপের প্রথম এমপি এম. ওবাইদুল হকের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভা

সোনালী নিউজ প্রতিবেদক ::

সন্দ্বীপের গণ মানুষের প্রিয় নেতা সন্দ্বীপ থেকে ১৯৭০ সালে গণপরিষদ সদস্য, ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতাত্তোর নির্বাচিত সন্দ্বীপের ১ম এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের বন্ধু সমাজ সেবক এম. ওবাইদুল হক এর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এম. ওবাইদুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভা চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এম. ওবাইদুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মরহুমের পুত্র সারোয়ার হাসান জামাল শামীমের সভাপতিত্বে এবং স্মরণসভা প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব মো: সালাউদ্দিন বাবু’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র মরহুমের একান্ত আপনজন এ.বি.এম.মহিউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এম.পি ও রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম.এ. সালাম, সন্দ্বীপের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট এ.এম. আনোয়ারুল কবির, এফবিসিসিআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম, মরহুমের বন্ধুবর আপনজন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক সহ-সভাপতি এ. কে. এম. বেলায়েত হোসেন, চসিক ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জহুরুল আলম জসিম, স্মরণ সভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো: হেলাল উদ্দিন, মরহুমের কন্যা ড. ফেরদৌস জাহান ডলি, প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুছ, ইউসুফ তালুকদার, লায়ন এম.এ. বারী, ব্যাংকার হুমায়ুন কবির, আবুল কালাম আজাদ, হুমায়ুন কবির, সাখাওয়াত হোসেন নাছির, মাকছুদুর রহমান, আবু ইউছুপ রিপন, রাজিবুল আহসান সুমন, এম. জাকির হোসেন তালুকদার, কে.এম. কামরুল আহসান উল্ল্যাহ, সাহেদ সারোয়ার শামীম, মোছাদ্দেক আহমেদ, আশেক এলাহী সোহেল, জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, মুজিবুল মাওলা, মনিরুল মাওলা রিপন, শামছুল আলম, শাহাদাৎ হোসেন আশরাফ, মঞ্জুরুল আলম রিমু, হুরে আরা বিউটি, ইয়াছিন মামুন, মিজানুর রহমান বাবু, মাকছুদুর রহমান পারভেজ, নজরুল ইসলাম জাবেদ, সাইফ রাব্বী, রনি প্রমুখ।

এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সন্দ্বীপের একমাত্র জনবান্ধব এম.পি ছিলেন এম. ওবাইদুল হক। তিনি জনগণের পার্শ্বে ছিলেন। তিনি ক্রসডেম এমপি হিসেবে এবং আলুর মন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কাছে পরিচিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন মরহুম এম. ওবাইদুল হক। তিনি আরো বলেন, বক্তৃতা নয় তিনি কাজে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি একজন পথচারী যার জন্য আমার সাথে বার বার তাঁর দেখা হয়েছে। ওবায়দুল হক সাহেব ধনী ব্যক্তি ছিলেন না তারপরও নিজের হালাল রোজগারের পয়সা তিনি জনগনের উপকারে ব্যায় করেছেন। আমাদেরকে ওবায়দুল হক হওয়ার চেষ্ঠা করা উচিত বলে বয়োজষ্ঠ্য এই নেতা সকলের প্রতি আহবান জানান। মহিউদ্দিন চৌধুরী সন্দ্বীপের নবীন এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, কামনা করছি ওবাইদুল হক, দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমানের ধারাবাহিকতায় কাজ করে সন্দ্বীপকে একটা আদর্শ উপজেলায় পরিণত করবেন।

১৯৭৩ সালে ২৭ বছর বয়সের এমপি ও মরহুম ওবায়দুল হক এমপির সহযোদ্ধা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এম.পি ও রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী বলেন,  নিজে জায়গা কিনে স্কুল, হাসপাতাল করার মত বিরল ঘটনার সৃষ্টি করেছিলেন আমার বড় ভাই ওবায়েদ । ভোগ নয় ত্যাগই ছিল হক সাহেবের মূল মন্ত্র। তিনি সন্দ্বীপকে রক্ষার জন্য ক্রসবাঁধের দাবীতে স্বোচ্ছার ছিলেন আমৃত্যু। উপযুক্ত সন্তান পৃথিবীতে রেখে যাওয়া একজন মানুষের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার, সেদিক থেকে ইঞ্জিনিয়ার ওবায়দুল হক অত্যন্ত ভাগ্যবান কারন তার সকল সন্তানই উচ্চ শিক্ষিত, মার্জীত ও ভদ্র স্বভাবের। কখনো তারা নিজেদের স্বাথে বাবার ইমেজকে ব্যবহার করেননি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম.এ. সালাম বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ওবায়দুল হক এমপি একজন কৃতি পুরুষ। মানুষ অতীতকে মনে রাখতে চায়না, যান্ত্রিক সভ্যতার বিকাশের কারনে মানুষের কাছ থেকে আবেগ হাড়িয়ে গেছে। সেই বৈশ্বিক যান্ত্রিক হাওয়ায় এম ওবায়দুল হক ফাউন্ডেশনের এই স্মরণ সভার আয়োজন প্রশংসনীয় ও ধন্যবাদ পাওয়ার মত। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে আওয়ামীলীগ দলীয় মরহুম এমপি ওবায়দুল হকের স্মরণে প্রতি বছর সভা কারার জন্য আহবান জানান।

সন্দ্বীপের নির্বাচিত আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, মরহুম এমপি ওবায়দুল হকের নামে সন্দ্বীপে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে এবং সেই সড়কের অনেকাংশ পাকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে, বাকী অংশ অচিরেই সম্পন্ন হবে। এমপি মিতা বলেন, আওযামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সন্দ্বীপেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক উল্লেখযোগ্য কাজের বর্ণনায় এমপি মিতা বলেন,  জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ জানুয়ারীর মধ্যে উদ্বোধন হবে, বেড়িবাঁধের জন্য টাকা বরাদ্ধ হয়েছে, কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে ৫০০ আসনের জাহাজ চালু হবে অচিরেই, জনগনের ভোগান্তি দূরিকরনে ভাসমান জেটির প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাশ হয়ে এখন একনেকের অনমোদনের অপেক্ষায় আছে।

সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএ বলেন, ওবায়দুল হক এমপি নির্ভীক সমাজ সেবক, বাস্তববাদী, সৃজনশীল, ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন জননেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। ১৯৬৮ সনে তাঁর প্রচেষ্ঠায় থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৩ সালে সন্দ্বীপ-কুমিরা রুটে নৌকা ডুবিতে সন্দ্বীপের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৌলভী আজিজুর রহমান, কবিয়াল অজি উল্যা সরকার প্রমুখ ব্যাক্তিদের মৃত্যুর পরপরই ওবাইদুল হক এমপির প্রচেষ্ঠায় এই রুটে  ষ্টীমার সার্ভীস চালু হয়। সন্দ্বীপের প্রতি মরহুম ওবায়দুল হক সাহেবের এত বেশী ভালবাসা ছিল যে, জনগনকে সাথে নিয়ে বাঁশ কুপে তিনি ক্রসবাঁধ দেয়ারও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

সভায় বক্তারা সম্প্রতি যুবলীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক সভাপতি, সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা  এ টি এম রহমত উল্যার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন