আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জঙ্গি তহবিলের নথিতে নাম ডা. ইকবালের

Published on 19 November 2016 | 3: 00 am

নিউ জেএমবির শীর্ষ দুই জঙ্গি সারোয়ার জাহান ওরফে আবদুর রহমান ও তামিম চৌধুরীর তহবিলের নথিতে রয়েছে উচ্চ শিক্ষিত এক শ্রেণীর নাম। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশাজীবী রয়েছে এ তালিকায়। ওই নথিতেই আছে ডাক্তার মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদের নামও।

তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃংখলা বাহিনীর দুটি সংস্থা। তহবিলে অর্থদাতাদের অনেককেই নজরদারিতে রেখেছে তারা। সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তরা যাতে নিরুদ্দেশ হতে বা দেশত্যাগ করতে না পারে সে জন্য নানা কৌশলও অবলম্বর করছে সংস্থা দুটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের বাবা নুরুল আলম দাবি করেছেন, তার ছেলে জঙ্গি হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমার ছেলে জঙ্গি হবে- এটা কী করে হয়?’ নুরুল আলমের ধারণা, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাই ডাক্তার ইকবাল মাহমুদকে ধরে নিয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, আমার ছেলে কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।

৩৪ দিন ধরে নিখোঁজ আছেন ২৮তম বিসিএস পাস করা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ। ১৫ অক্টোবর রাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে ধানমণ্ডির ১ নম্বর রোড থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। তখন তিনি লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ৩টা ১০ মিনিটে রয়েল কোচ নামে একটি বাস থেকে ধানমণ্ডি এক নম্বর রোডের কাছে নেমে যান ডাক্তার ইকবাল। বাস থেকে নামার পর পরই সাত-আটজন লোক তাকে ঘিরে ধরেন। পরে তারা ইকবালকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেন। ওই মাইক্রোবাসের পেছনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানও যেতে দেখা যায়। আর এই ফুটেজ দেখে পরিবারের সন্দেহ, আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজনই ইকবালকে নিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষে তাকে আটকের বিষয় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

দায়িত্বশীল একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিহত দুই জঙ্গির তহবিলসংক্রান্ত নথিতে ডাক্তার ইকবালের নাম আছে। যেখানে রয়েছে তার মোবাইল নম্বর এবং কর্মস্থলের ঠিকানা। নথিতে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্যও আছে। সে অনুযায়ী, ডাক্তার ইকবাল নিহত দুই জঙ্গি সারোয়ার ও তামিম গ্র“পে উল্লিখিত টাকা দিয়েছেন। এখন এ তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবেই থাকছে ডাক্তার ইকবালের নাম। এখনও বলা যাচ্ছে না সে জঙ্গি।

তাকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘ডাক্তার ইকবাল নিরুদ্দেশ আছেন। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাকে আটক বা গ্রেফতার করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে।’ পরিবারের ধারণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবারের কাছে সন্তান সব সময় ভালো থাকে। তাকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তথ্য-প্রমাণ মিলে গেলে ইকবালকে গ্রেফতার করা হবে।
ডাক্তার ইকবাল সম্পর্কে জানতে কাজ করা এক সংস্থার উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ করা হয়। ডিআইজি মর্যাদার ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সন্দেহভাজন তালিকাতেও তার নাম ছিল। আরও একটি সংস্থা তার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছিল।’

আরেক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে মারা যায় নিউ জেএমবির আমীর আবদুর রহমান ওরফে সারোয়ার জাহান এবং গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরী। এদের মধ্যে সারোয়ার জাহানকে বাংলাদেশে কথিত আইএসের প্রধান শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ বলা হতো। আর তামিম চৌধুরীকে বলা হতো, শায়খ আবু দুজানা। এই দু’জনের তহবিলসংক্রান্ত নথিতে অনেকের নাম আছে- যার একটি ডাক্তার ইকবাল। কিন্তু তার সংশ্লিষ্টতা এখনও স্পষ্ট নয় আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে। আর আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। কাজেই পুরোপুরি এখনও বলা যাচ্ছে না ইকবাল জঙ্গিবাদে জড়িত।

ছেলে জঙ্গিদের অর্থ দিয়েছে এ তথ্য মানতে নারাজ ডাক্তার ইকবালের বাবা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম। নোয়াখালীর ২নং সেক্টরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তিনি। এর সপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও বিভিন্ন নথিও দেখান। বলেন, ‘আমার ছেলে কখনও জঙ্গি হতে পারে না। প্রয়োজনে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো।’ নুরুল আলম বলেন, সে (ডা. ইকবাল) নিয়মিত চাকরি করে আসছে। কোনো অনুপস্থিতি ছিল না। আর কোটি টাকার ওপরে আমাদের ঋণ আছে। সে এই টাকা পরিশোধ করছে। অন্য কোথাও টাকা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই ইকবালের।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন