আজ বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নবীর ঝড়ের পর তাসকিনের তাণ্ডব ।। অবশেষে জয়ের দেখা পেল চিটাগাং ভাইকিংস

Published on 19 November 2016 | 2: 53 am

টানা চার ম্যাচে হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল চিটাগাং কিংস। জয় দিয়ে বিপিএল শুর করার পর জয়টা যেন সোনার হরিণ হয়ে পড়েছিল চিটাগাং কিংসের জন্য। অবশেষে ধরা পড়ল সে সোনার হরিণ। নিজেদের মাঠে প্রথম ম্যাচে জয়ের দেখা না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে এসে স্বস্তির এবং বহু প্রত্যাশিত জয় তুলে নিল তামিমের দল। ব্যাট হাতে আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ঝড় তোলার পর বল হাতে আগুন ঝরালেন তাসকিন আহমেদ। আর তাতেই এরো চিটাগাং ভাইকিংসের প্রত্যাশিত জয়। রাজশাহী কিংসকে ১৯ রানে হারিয়ে আবার কক্ষপথে ফিরল তামিমের চিটাগাং। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নবি খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। সঙ্গে এনামুল হকের অর্ধশতক ও শুরুতে ডোয়াইন স্মিথের ঝড়ে ১৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় চিটাগাং ভাইকিংস। জবাবে সাব্বির আর জুনায়েদের ঝড় সত্ত্বেও ১৭১ রানে থেমে যায় রাজশাহী কিংস।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবারের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চিটাগাংয়ের। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শুরুতেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। দলের রান তখন ১৭। আর তামিমের ৫। এরপর আনামুলকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন স্মিথ। কিন্তু পারলেননা তিনি। ঝড় তোলার আভাস দিয়েও তিনি ফিরলেন ১৯ বলে ৩৪ রান করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেন আবুল হাসান। এরপর মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে গ্রান্ট এলিয়ট ও জহুরুল ইসলামের উইকেট দুটি হারিয়ে বিপদে পড়ে চিটাগাং। সে অবস্থায় হাল ধরেন মোহাম্মদ নবী এবং আনামুল হক। আনামুল দেখে শুনে খেললেও খুনে মেজাজে ছিলেন নবী। আবুল হাসানের বলে বিশাল ছক্কায় চলতি আসরে নিজের প্রথম পঞ্চাশ স্পর্শ করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সেই ওভারে তার তিনটি চার ও একটি ছক্কায় আসে ২০ রান। ৩৯ বলে অর্ধশতকে পৌঁছে পরের বলে ফিরেন এনামুল। ভাঙে ৯.১ ওভারে ১০৫ রানের দারুণ জুটি। চিটাগাংয়ের উইকেটরক্ষকব্যাটসম্যানের ৪০ বলের ইনিংসটি গড়া ৪টি চার ও দুটি ছক্কায়। এরপর ৬০ রানে স্যামির হাতে জীবন পান নবি। শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আফগান অলরাউন্ডারের আগের সেরা ছিল ৫৭ রান। তার ইনিংসের ৬টি করে ছক্কাচারের বেশির ভাগ গেছে পেসারের হাসানের ওপর দিয়ে। ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে ১ উইকেট পান হাসান। আরেক পেসার ফরহাদ রেজা ৪৪ রান দিয়ে পান ১ উইকেট। বোলারদের অকাতরে রান দিয়ে যাওয়ার ম্যাচে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল সামিত প্যাটেল। ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।

১৯১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করেেত নেমে শুরুটা ঝড়ের মতই করেছিলেন মোমিনুল এবং প্রথমবারের মত দলে জায়গা পাওয়া জুনায়েদ। ৪৪ রান করে বিচ্ছিন্ন হন দুজন। ১৪ বলে ২২ রান করা মোমিনুলকে হারিয়ে রাজশাহীকে প্রথম ধাক্কাটা দেন তাসকিন। এরপর জুনায়েদের সাথে সাব্বির যোগ দিলে রানের চাকা আরো দ্রুত ঘুরতে থাকে। ঝড় বইয়ে দিতে থাকে এ দুজন চিটাগাং এর বোলারদের উপর দিয়ে। কিন্তু এ দুজনকে ৩৪ রানের বেশি একসাথে চলতে দিলেননা ইলিয়ট। তিনি ফেরান ২৮ বলে ৩৮ রান করা জুনায়েদকে। তখনো থামেনি সাব্বিরের ঝড়। পাকিস্তানী উমর আকমলকে নিয়ে যোগ করলেন আরো ৩৪ রান। ঝড়ের আভাস উমর আকমলের ব্যাটেও। কিন্তু তাকে থামালেন আবার তাসকিন। ১২ বলে ২১ রান করে ফিরেন আকমল। এরপর দলের সব দায়িত্ব তখন সাব্বিরের কাঁধে। কিন্তু তিনি পারলেন না এবার দলকে টানতে। ৪৬ রানে ফিরতে হলো সাব্বিরকে। আর তাকে ফেরান পাকিস্তানী পেসার ইমরান খান। তামিমের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরেন সাব্বির। আর সে সাথেই যেন শেষ হয়ে যায় রাজশাহীর জয়ের সম্ভাবনা। সাব্বিরের ৩০ বলের ইনিংসটিতে ১টি চার এবং চারটি বিশাল ছক্কার মার ছিল। সাব্বিরের আউটের পর দলের বাকিরা কেবল পরাজয়টাকে বিলম্ব করার চেষ্টা করেছেন মাত্র। অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি থেকে শুরু করে বাকি কেউ দাড়াতেই পারেনি। তাসকিনের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেল রাজশাহীর শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা। শেষ সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে স্যামি কেবল দুই অংকের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছেণ। তার ব্যাট তেথক আসে ১৪ রান। বাকিরা কেউই দুই অংকে পৌছাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৭১ রানে থামতে হয় রাজশাহী কিংসকে। চিটাগাং ভাইকিংসকে স্বস্তির জয় এনে দেওয়ার পথে বল হাতে বড় ভূমিকা পালন করা তাসকিন নিয়েছেন ৫ উইকেট। টিটোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ৫ উইকেট পেলেন তাসকিন। তিনি ৫ উইকেট নিয়েছেন ৩১ রান খরচায়। ২টি উইকেট নিয়েছেন ইমরান খান। একটি করে উইকেট মোহাম্মদ নবী এবং গ্রান্ট ইলিয়টের। নবী ক্যাচও নিয়েছেন তিনটি। তাই ম্যাচ সেরার পুরষ্কারের জন্য তিনিই ছিলেন একেবারে যোগ্য।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন