আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নাসিরনগরে হামলা কারো ইন্ধনে হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published on 16 November 2016 | 8: 34 am

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে হামলার পেছনে কারো ইন্ধন আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেছেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনা দলীয় কোন্দলে হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। তবে এ ঘটনা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটানো হয়েছে। আমরা সে আভাস পেয়েছি।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তাবিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এমন আভাস পেয়েছে সরকার। তদন্ত শেষ হলে সব জানা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে, এমন আভাস পাওয়া গেছে। দলীয় কোন্দল থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতাম।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নাসিরনগরের ঘটনায় বেশ কয়েকটি তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদনগুলো হাতে পাওয়ার পর সবকিছু জাতির কাছে পরিষ্কার হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে দোকান থেকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার ছবি পোস্ট করা হয়েছিল সেই দোকান মালিককে আমরা খুঁজছি। তাকে আমরা ধরার চেষ্টা করছি। তাকে পেলেও পরিষ্কার হবে- কে বা কী উদ্দেশ্যে এ হামলা করেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নাসিরনগরে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা যাবে না। তবে ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে যা যা করণীয়- আমরা সব পদক্ষেপ নিয়েছি।’

এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নেন মন্ত্রী।

বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজয় দিবস পালনে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ডের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ দিন উপলক্ষে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই। গোয়েন্দারা আমাদের সে ধরনের কোনো আভাস দেয়নি। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব স্থানসহ জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও মানুষের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করবে।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সূর্যোদয়ের মুহূর্তে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও কূটনীতিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষ করতে আমাদের কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অনুষ্ঠান শেষ করলে ভালো হয়। আমরা সবাইকে সেই নির্দেশনা দেব।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর বাইরে ডিসি ও এসপিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হলে সাত দিন আগে প্রশাসনকে জানাতে হবে এবং তোরণ নির্মাণ করতে চাইলে সেটি দৃশ্যমান হতে হবে, যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।’

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন