আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ক্যামেলস রেটিং নেতিবাচক হওয়ার আশংকা – স্প্রেড কমাতে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

Published on 13 November 2016 | 4: 00 am

বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদ হার ব্যবধান বা স্প্রেড ৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার সুপারিশ ছিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটির। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ছিল ৫ শতাংশ। সর্বশেষ গত ২১ জুন এক চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু কোনো সতর্কতা কাজে আসেনি। বিশেষ করে ২০ থেকে ২৫টি ব্যাংকের স্প্রেড সীমা প্রতিমাসে ৬ থেকে ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যেত। সে কারণে এবার শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে ‘স্প্রেড’ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে যে সব ব্যাংকের স্প্রেড সীমা ৫ শতাংশ অতিক্রম করবে তাদের ক্যামেলস রেটিং নেতিবাচক হওয়ার আশংকা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব ব্যাংকে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্প্রেড রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এটি একটি প্রক্রিয়া। যা পরবর্তীকালে ক্যামেলস রেটিংয়ে একটি সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পর্ষদ বোর্ড সভায় আলোচনার পর এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি গভর্নর বরাবর উত্থাপন করা হলে তিনি তা দ্রুত কার্যকরের অনুমতি দিয়েছেন। সে হিসেবে চলতি বছরের জুনভিত্তিক ক্যামেলস রেটিংয়ে স্প্রেডের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ব্যাংকের স্প্রেড ক্যামেলস রেটিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যামেলস রেটিং হচ্ছে ব্যাংকগুলোর পারফরমেন্সের একটি নির্দেশক। সাধারণত ব্যাংকের মূলধনের অবস্থা, আয়, ব্যয়, ব্যবস্থাপনা, সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় এতে প্রতিফলিত হয়। সেখানে এখন নতুন করে স্প্রেডের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এতে করে যাদের সীমার অতিরিক্ত স্প্রেড থাকবে তাদের রেটিং খারাপ আসবে।

উল্লেখ্য, রেটিং খারাপ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসাবে। ভালো লভ্যাংশ দিতে পারবে না। নতুন শাখা খোলার অনুমতি পাবে না। ধীরে ধীরে ব্যাংকটি রুগ্ন ব্যাংকে পরিণত হবে। এতে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে না। গ্রাহকশূন্য হওয়ার আশংকা তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্প্রেড সংক্রান্ত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে গড় স্প্রেড ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ থাকলেও বিদেশী ও বেসরকারি খাতের মোট ১৯টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনও নির্ধারিত ৫ শতাংশের ওপরে। এ তালিকায় থাকা বিদেশী ৬টি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড যার স্প্রেড ১০ দশমিক ৫৩, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ৫ দশমিক ৯৩, সিটি ব্যাংক এনএ ৬ দশমিক ২৮, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ৫ দশমিক ১৬, উরি ব্যাংক ৫ দশমিক ৯৬ ও এইচএসবিসির ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

বরাবরের মতোই সেরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্প্রেড রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড রয়েছে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া এবি ব্যাংক ৫ দশমিক শূন্য ১, আইএফআইসি ৫ দশমিক ৮৬, উত্তরা ব্যাংক ৫ দশমিক ৭২, ইস্টার্ন ব্যাংক ৫ দশমিক ৩৪, ডাচ্-বাংলা ৬ দশমিক ৭৮, ওয়ান ব্যাংক ৫ দশমিক ৬৩, ট্রাস্ট ব্যাংক ৫ দশমিক ২৬, সাউথ বাংলা ৫ দশমিক শূন্য ৫, মেঘনা ব্যাংক ৫ দশমিক ১৪, ইউনিয়ন ব্যাংক ৫ দশমিক ৮১, এনআরবি ব্যাংক ৫ দশমিক ৩৩ এবং মধুমতি ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অর্থাৎ এ ১৯ ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়ে সীমাতিরিক্ত স্প্র্রেডকে নেতিবাচকভাবে বিবেচনায় নেয়া হবে। কারণ ব্যাংকগুলোকে বারবার নির্দেশনা দেয়ার পরও তারা না শুনে কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করছে।

জানা গেছে, স্প্রেড কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত জুন মাসে ২৩টি ব্যাংকের স্প্র্রেড সীমাতিরিক্ত ছিল। ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে প্রথমে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পরে তাদের কয়েকটি ধাপে সময় দেয়া হয়েছে স্প্রেড নির্ধারিত সীমার নিচে নামিয়ে আনতে। তখন ওই ব্যাংকগুলোর ১৪টিকে ৩০ সেপ্টেম্বর, ৬টিকে ৩০ অক্টোবর, একটিকে ৩০ নভেম্বর ও দুটি ব্যাংককে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে ১৪টি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার কথা ছিল তাদের মধ্যে ৬টি ব্যাংক তা নামিয়ে অনতে পেরেছে। এগুলো হলÑ অগ্রণী, দ্য সিটি, পূবালী, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া এবং এনআরবি কমার্শিয়াল। বাকি আটটি ব্যাংক এ সময়ে নির্ধারিত সীমার নিচে নামাতে পারেনি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন