আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ঘুমন্ত ভোক্তা, অসচেতনতা ও ভোক্তা হিসাবে দায়িত্ব পালনে অনীহার কারনে ভোক্তারা ব্যবসা-বানিজ্যের মূল নিয়ামক হচ্ছে না

Published on 12 November 2016 | 6: 05 am

ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা কমিটির মতবিনিময় সভায় বক্তাগন
 
ক্রেতা-ভোক্তারা ব্যবসা বানিজ্যের মূল নিয়ামক হিসাবে পৃথিবী জুড়ে এটি প্রচলিত হলেও বাংলাদেশে তার বিপরীত। রিকসাওয়ালা থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপি সবাই ক্রেতা-ভোক্তা হলেও ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব পালনের বেলায় সবাই অসচেতন, অনীহা এবং অসংগঠিত।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহল সাধারন রিকসাওয়ালা, ঠেলাগাড়ী চালক থেকে শুরু মিলকারখানার মালিক সকলেই সংগঠিত, সচেতন ও তৎপর। দেশ বিদেশে কি ঘটছে তার তাৎক্ষনিক খোঁজ খবর রাখছে, আবার অনেকে রীতিমত গবেষণাও করছে।
সেকারনে নানা উপায়ে বাহারী চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারন জনগনকে প্রলুদ্ধ করে যা-ই বাজারজাত করছে তা-ই হজম করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। আর ক্রেতা-ভোক্তারা ভোক্তা হিসাবে সামান্যটুকু দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনবোধ করছে না। সেকারনে যে যেভাবেই পারে জনগনের পকেট কাটছে। শহরে জনগনের পকেট কেটে দিনে দিনে কোটিপতি হয়ে গ্রামে দানবীর সেজে যাচ্ছে।
কোন প্রকার নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে, সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে, কৃত্রিমভাবে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে জনগনকে জিম্মি করে বিভিন্ন মৌসুমে জনগনের পকেট কাটছে। আর সাধারন জনগন হিসাবে অনেকেই হায় হুতাস করছে, অনেকে আবার সরকারকে দোষারুপ করছি। আর এ সুযোগে সবজি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে চনা, সয়াবিন, আটা, ময়দা, চিনি, পিয়াজ, থেকে শুরু করে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজার অধিকাংশ সময় অস্থির করে নিজেদের পকেট ভারী করছে।
এখানে এবার নতুন করে যোগ হয়েছে বেকারী পণ্য। আর পার্শ্ববতী দেশ ভারতে ২ পয়সা বাসের ভাড়া বৃদ্ধি পেলে চরম প্রতিবাদী হয়ে উঠে যাত্রীরা পায়ে হেটে প্রতিবাদ জানান এবং পেয়াজের দাম একবার অস্বাভাবিক হলে ভোক্তারা পেয়াজ ক্রয়ে সংযমী হয়ে উঠলে পরে পেয়াজ ব্যবসায়ীরা প্রচুল লোকসান গুনতে বাধ্য হয়েছিল।
তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে ক্রেতা-ভোক্তা হিসাবে সকলকে দায়িত্বপালন করতে হবে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে অথবা কর্মস্থলে বসে হায় হুতাস “এ দেশ বসবাসের অযোগ্য” এ কথা পরিহার করে আগামী প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য সকলকে ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় অংশগ্রহন করতে হবে যেখানে মানুষকে ঠকিয়ে, জিম্মি করে ব্যবসা করা, অতি মুনাফার জন্য নকল, ভেজাল পণ্য বিক্রি, সেবা নিয়ে ভোগান্তির মাত্রা শুণ্যের কোটায় নেমে আসবে। তাহলেই বঙ্গবুন্ধর সত্যিকারের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে। ১১ নভেম্বর ২০১৬ চান্দগাওস্থ ক্যাব বিভাগীয় কার্যালয়ে ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা কমিটির মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করা হয়। 
 
ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।
ক্যাব দক্ষিন জেলা নেতা অধ্যাপক এস এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক মুহাম্মদ জানে আলম, ক্যাব বোয়ালখালী সহ-সভাপতি জামাল উদ্দীন, পটিয়ার সাবেক ছাত্রনেতা মহিউদ্দীন বকুল, আনোয়ারার মুহাম্মদ আবদুল মালেক, বাঁশখালীর মোঃ রিয়াজুল হক, বাশখালী উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির নেতা মোঃ রফিক, ব্যাংক কর্মকর্তা মোশারফ করিম ও ক্যাব বিভাগীয় সংগঠক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
 
সভায় চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলার সকল উপজেলায় আগামী ডিসেম্বর এর মধ্যে উপজেলা কমিটিগুলিকে আরো সম্প্রসারন ও সক্রিয় করা হবে। সে জন্য উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিক, সমাজকর্মী, শিক্ষক, পেশাজীবি, তরুনদেরকে সম্পৃক্ত করে মতবিনিময় সভা করা, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ভোক্তা সংরক্ষন আইন০৯ নিয়ে মতবিনিময় সভা করা, দ্রব্যমুল্য ও নকল ভেজাল প্রতিরোধে প্রশাসনের ভুমিকা জোরদারে প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করা, উপজেলা কমিটি গুলিতে নতুন সদস্য/সদস্যা ভর্তি করাসহ নানা সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ক্যাব উপজেলা পর্যায়ে কমিটির গুলির সাথে যুক্ত হয়ে ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে আগ্রহীদের সংস্লিষ্ঠ সকল উপজেলা কমিটি অথবা দক্ষিন জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান (০১৮১২০৮৮৫৪৫) অথবা অধ্যাপক এস এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জা (০১৮৫৬৮২২৮২৩) অথবা cab.chittgaong@yahoo.cm, cabchittagong09@gmail.com, www.facebook.cab chittagong এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন