আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ঘুষ নেয়ার সময় সওজের আইন কর্মকর্তা গ্রেফতার

Published on 10 November 2016 | 3: 24 am

ঘুষ নেয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন সড়ক ও জনপথের বিভাগের আইন কর্মকর্তা মো. জহুরুল হক। এছাড়া পৃথক অভিযানে আরও ৪জনকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার অন্য চারজন হলেন- মিরপুর বিআরটিএ সাব-পোস্টমাস্টার মো. সিরাজুল ইসলাম. জাগরণ টেক্সটাইল মিলসের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মিয়াজী, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক সুপারভাইজার মো. মতিউর রহমান এবং একই ব্যাংকের শস্যগুদাম কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম।

দুদক জানায়,  ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার সময় সড়ক ও জনপথের (সওজ) সহকারি আইন কর্মকর্তা মো. জহুরুল হককেহাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এজহারে উল্লেখ করা হয়, সওজের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. সালাহউদ্দিনসহ কয়েকটি পরিবার। জহুরুল হক তাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেন।

ওই নোটিশের সূত্র ধরে গত ২৪ অক্টোবর জহুরুল হক সালাহউদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন। পরে তাকে উচ্ছেদ না করে বিনিময়ে কিছু ‘খরচাপাতি’ চান।

বাধ্য হয়ে সালাহউদ্দিন জহুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জহুরুল তখন জানান, সওজ’র উপরস্থ কর্মকর্তা ২ লাখ টাকা দাবি করছেন। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ হাজার টাকা হলেও জহুরুল হক উচ্ছেদ ঠেকাতে পারবেন।

সালাহউদ্দিন বিষয়টি অবহিত করলে দুদক জহুরুল হককে গ্রেফতারে ফাঁদ পাতে। এ প্রক্রিয়ায় দুদক টিম ৪৫ হাজার টাকার প্রথম কিস্তি হিসেবে বুধবার ১৫ হাজার টাকা সালাহউদ্দিনের হাতে তুলে দেয়।

সালাহউদ্দিন টাকা নিয়ে সড়ক ও জনপথ অফিসের কাছে বেনিয়ান শেড ফুড কোর্টে জহরুল হকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এক পর্যায়ে জহুরুল এলে তার হাতে টাকা তুলে দেন সালাহউদ্দিন।

এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুদক টিম তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর জহুরুল হকের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।

সাত সদস্যের টিমে নেতৃত্ব দেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। টিমের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. মনিরুল হক প্রমুখ।

দুদক সূত্র আরও জানায়, ডাক বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বিআরটিএ’র  এমভি (মোটর ভেহিকেল ) ট্যাক্স বাবদ আদায়কৃত অর্থ কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

এ অভিযোগে বুধবার দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করেন। এজহারে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ তার বাসভবনের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জাগরণ টেক্সটাইল মিলসের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মিয়াজীকে গ্রেফতার করা হয় রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে। তার বিরুদ্ধে  এলসি জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালি ব্যাংকের সিদ্ধিরগঞ্জ শাখা থেকে ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলা হয়েছে।

মামলায় জাহাঙ্গীর আলমসহ ৯জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সাতজনই সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। উপ-পরিচালক শেখ আব্দুস ছালাম গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের লালমনিরহাট চাপারহাট শাখা থেকে ৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়।

দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম তাকে গ্রেফতার করেন। একই মামলায় তিনি আমিনুল ইসলামকেও গ্রেফতার করেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন